গরুর উপরের পাটিতে সামনের দাঁত নেই।
ম্রোদের কাছে এর একটা ব্যাখ্যা আছে, আর সেই ব্যাখ্যাটাই তাঁদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের কারণ। ব্যাখ্যাটা এ রকম: ঈশ্বর প্রতিটি জাতির জন্য ধর্মগ্রন্থ আর বর্ণমালা পাঠিয়েছিলেন একটি গরুর মাধ্যমে। ম্রোদের ভাগেরটা গরু পথে খেয়ে ফেলে। শাস্তিতে ঈশ্বর তার উপরের দাঁত ভেঙে দেন।
এই হারানোর শোক থেকেই ক্রামা ধর্মের জন্ম — অন্তত এই ধর্মের প্রবর্তক যে কাজটা করেছিলেন, সেটা ছিল হারানো জিনিসটা ফিরিয়ে আনা: একটা বর্ণমালা আর একটা ধর্মগ্রন্থ। মানুষটির নাম মেনলে ম্রো। তিনি প্রায় চল্লিশ বছর ধরে নিখোঁজ।
ম্রো জাতি নিয়ে পূর্ণ লেখাটিতে এই ধর্মের কথা সংক্ষেপে আছে; এখানে কেবল ক্রামা — কীভাবে শুরু হলো, কী বিশ্বাস করে, আর কী কী আচার পালন করে।
পুরাণটির দুটি পাঠ পড়েছি, আর দুটোর তফাত ছোট নয়।
New Age-এর “Legend of Mro alphabet” লেখাটিতে বলা হয়েছে, সৃষ্টির পর ঈশ্বর থুরায় প্রতিটি সম্প্রদায়ের কাছে ধর্মগ্রন্থ ও বর্ণমালা পাঠান একটি গরুর মুখে করে। গরু প্রথমে বাঙালিদের কাছে গিয়ে ঈশ্বরের বার্তা পৌঁছে দেয় — বছরে একবার নিড়ানি, তিনবার ফসল। তারপর পাহাড়ে উঠতে উঠতে দুপুরবেলা ক্ষুধা পেয়ে সে গ্রন্থটি গিলে ফেলে। ম্রোদের কাছে পৌঁছে সে আসল বার্তা ভুলে গিয়ে উল্টোটা বলে — বছরে তিনবার নিড়ানি, একবার ফসল। ম্রোরা নালিশ করলে ঈশ্বর গরুকে ডেকে পাঠান, গরু স্বীকার করে। ঈশ্বর তার উপরের সব দাঁত ভেঙে দেন, আর ম্রোদের আদেশ দেন গরুটিকে খুঁটিতে বেঁধে চারপাশে নেচে হত্যা করতে — তারপর পেট কেটে গ্রন্থটি খুঁজতে। কিন্তু ততক্ষণে তা হজম হয়ে গেছে।
The Financial Express-এর ১৩ অক্টোবর ২০২২-এর লেখায় গল্পটা কিছুটা আলাদা। সেখানে দেবতার নাম তুরাই, আর বাহক একটি গয়াল — পুরাণের এক গোজাতীয় প্রাণী। তুরাই প্রতিটি সম্প্রদায়ের লিপি ও ধর্ম কলাপাতায় লিখে গয়ালকে বিলি করতে পাঠান। ম্রোদের কাছে পৌঁছে গয়াল খালি হাতে, উল্টে অস্বীকার করে কিছু আনার কথা। পরে সে মানে, স্বর্গ থেকে মর্তে আসার দীর্ঘ পথে ক্ষুধা পাওয়ায় কলাপাতাগুলো খেয়ে ফেলেছে। ক্রুদ্ধ তুরাই তার মুখে চড় মারেন — উপরের পাটির দাঁত পড়ে যায় — আর অভিশাপ দেন, ম্রোদের হাতেই তার মৃত্যু হবে।
দুই পাঠে যা এক: গরু গ্রন্থটি খেয়েছিল, ঈশ্বর তার উপরের দাঁত ভেঙেছিলেন, আর সেই কারণেই ম্রোরা প্রধান ধর্মীয় উৎসবে গরু বলি দেয়। দুই পাঠে যা আলাদা: বাহকটি গরু না গয়াল, গ্রন্থটি মুখে ছিল না কলাপাতায়, আর বাঙালিদের চাষের নির্দেশের অংশটি কেবল একটিতে আছে।
খুমীদের নিয়ে জুমজার্নালের লেখাটিতে একটা ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বাক্য আছে: খুমীদের বর্ণমালা ও ধর্মগ্রন্থ হারিয়ে যাওয়ার কাহিনির সঙ্গে ম্রোদের কাহিনির যথেষ্ট মিল রয়েছে। দুটি আলাদা জনগোষ্ঠী, কিন্তু একই ক্ষতির স্মৃতি।

মেনলে ম্রোর জন্ম বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ের পাদদেশে পোড়া পাড়া গ্রামে। জন্মসাল নিয়ে দুই উৎস দুই রকম বলে — New Age লিখেছে ১৯৬২, Financial Express ও ইংরেজি উইকিপিডিয়া লিখেছে ১৯৬৫। বাবা-মা ছিলেন জুমচাষি; Financial Express তাঁদের নাম দিয়েছে মেনসিং ম্রো ও তুমতে ম্রো।
কাছাকাছি কোনো স্কুল না থাকায় ছোটবেলায় তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা হয়নি। New Age-এর বর্ণনায় তিনি কাটং ম্রোর সাহায্যে মারমা ভাষায় পড়তে-লিখতে শেখেন, আর ছোট থেকেই পাহাড়ে একা ধ্যান করতেন।
এরপরের ঘটনাটা এই গল্পের সবচেয়ে জেদি অংশ। ১৯৮০ সালের দিকে সরকার সুয়ালকে ম্রোদের জন্য একটি আবাসিক স্কুল খোলে। মেনলে সেখানে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হতে যান আঠারো বছর বয়সে। কর্তৃপক্ষ বয়সের কারণে ভর্তি নিতে চায়নি। তিনি স্কুলপ্রাঙ্গণে অনশনে বসেন। শেষ পর্যন্ত তাঁকে ভর্তি নেওয়া হয়।
Financial Express একই ঘটনার বর্ণনায় যোগ করেছে, এই অস্বাভাবিক বয়সের প্রথম-শ্রেণির ছাত্রটি রাতে একটি পবিত্র বটগাছের নিচে ধ্যান করতেন — আর সেই ধ্যানেই তিনি তাঁর জাতির জন্য বর্ণমালাটি পান। ১৯৮৪ সালে তিনি স্কুল ছেড়ে দেন।
গ্রামে ফিরে তিনি কথাটা বলতে শুরু করলে বেশিরভাগ মানুষ প্রথমে ভাবে তাঁর মাথা খারাপ হয়ে গেছে। ব্যতিক্রম ছিলেন গ্রামের শ্রদ্ধেয় প্রবীণ লাং পুং ম্রো। Financial Express অনুযায়ী তাঁর মতো মানুষদের পৃষ্ঠপোষকতায় বছর তিনেক পর মেনলে তিন সদস্যের একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করে বর্ণমালা ও ধর্ম প্রচারে নামেন।
New Age-এর বর্ণনায় দিনটি নির্দিষ্ট। ১৯৮৫ সালের ২৫ আগস্ট পোড়ায় প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ জড়ো হন। মেনলে একটি পবিত্র গ্রন্থ উন্মোচন করেন এবং ঈশ্বরপ্রেরিত বলে বিশ্বাস করা লিপিটি পড়ে শোনান। ম্রোরা আনন্দে তাঁকে অভিনন্দন জানায়; সেই সাড়া দেখে মেনলে নিজেই কেঁদে ফেলেন।
তারিখটা একটি উৎসে নির্দিষ্ট, কিন্তু শুরুর সাল নিয়ে ছয়টি উৎসে অন্তত পাঁচ রকম হিসাব:
ঘটনাগুলো একটার পর একটা ঘটেছে — ধ্যান, লিপি লাভ, প্রথম প্রচার, বড় সমাবেশ, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা — তাই সংখ্যাগুলো একে অন্যকে ভুল প্রমাণ করে না, কিন্তু কোন উৎস কোন ধাপের কথা বলছে তা কেউ স্পষ্ট করেনি।
লিপিটি নিয়ে হিসাব অবশ্য মেলে। New Age ও Financial Express দুটোই বলছে ৩১টি অক্ষর; Financial Express যোগ করেছে ০ থেকে ৯ সংখ্যা আর দুটি যতিচিহ্ন — দণ্ড ও দ্বিদণ্ড। আজ এই লিপি স্থানীয় স্কুলের প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে আছে, আর ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের ম্রো জনসংখ্যার আনুমানিক ৬০ শতাংশ লিপিটির সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত। পাহাড়ি ভাষা ও লিপির অবস্থা নিয়ে আলাদা লেখাটিতে এই প্রসঙ্গ আরও আছে।
দেবতার নামটি তিন উৎসে তিন বানানে — তুরাই (Financial Express, বাংলাপিডিয়া), থুরায় (New Age), থোরাই (Netra News)। Netra News-এর ১৮ মে ২০২৬-এর প্রতিবেদনে ক্রামাকে বলা হয়েছে একেশ্বরবাদী — একজনই দেবতা, থোরাই, আর একটি পবিত্র গ্রন্থ, রিয়ুং খতি।
এখানে একটা তুলনা দাঁড়িয়ে যায়। বাংলাপিডিয়ার “ম্রো” ভুক্তিতে (লেখক আব্দুল মাবুদ খান) লেখা আছে ম্রোদের তিনজন দেবতা — “তুরাই যিনি বিশ্ব সৃষ্টিকর্তা, সাংতুং অর্থাৎ পাহাড়ের দেবতা এবং ওরেং যিনি নদীর দেবী।” একই নাম, কিন্তু একটিতে তিনজনের একজন, অন্যটিতে একমাত্র।
গ্রন্থের নাম নিয়েও দুই রকম। Netra News ও বাংলা উইকিপিডিয়া লিখেছে রিয়ুং খতি; জুমজার্নালের আর্কাইভের “ম্রো জনগোষ্ঠী: প্রচলিত রীতিনীতি ও প্রথা” লেখাটিতে নাম ‘রিয়াংক্ষীতি’, বাংলা অর্থ দেওয়া হয়েছে ‘সুনীতি’। ওই লেখাতেই আরও বলা হয়েছে, মেনলে নিজেকে সৃষ্টিকর্তার প্রতিনিধি বা স্বর্গদূত হিসেবে দাবি করেছিলেন।
ক্রামা কোন কোন ঐতিহ্যের মিশ্রণ — এই প্রশ্নে তিনটি উত্তর পেয়েছি, তিনটিই আলাদা:
একটা সতর্কতা এখানে দরকার। বাংলা উইকিপিডিয়ার “ক্রামা” পাতাটিতে বিশ্বাসের বাক্যটি হাফিজ রশীদ খানের বাক্যের হুবহু — অর্থাৎ ওটিকে স্বাধীন উৎস ধরা যাবে না। পাতাটিতে নিজেই “অতিরিক্ত তথ্যসূত্র প্রয়োজন” নোট দেওয়া আছে।
‘ক্রামা’ শব্দটির অর্থ নিয়েও দুই রকম কথা: New Age বলছে ‘জ্ঞানের মিলন’, আর Financial Express বলছে মেনলের উপাধি ‘ক্রামাদি’-র অর্থ ‘পরম জ্ঞানী’।
আর্কাইভের “প্রথাগত আইনে আদিবাসী ম্রো নারীর অবস্থান” লেখাটি সরাসরি বলছে: “ক্রামা ধর্মাবলম্বী ম্রোদের গো-হত্যা উৎসব এবং উৎসবকে ঘিরে গো-হত্যা নৃত্য একটি অন্যতম প্রধান অনুষ্ঠান।” পুরাণটির সঙ্গে আচারটির যোগ এখানেই স্পষ্ট হয়।
ওই একই লেখায় এই উৎসবে নারীর ভূমিকার হিসাব আছে, আর সেটা আনুষ্ঠানিক:
এর পাশে পুরোনো পূজার কাঠামোটিও টিকে আছে। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী ম্রোরা বছরে দুবার পূজা করে, ম্রো ভাষায় যাকে বলা হয় ‘খাং’; ফাল্গুন ও আষাঢ় মাসে সারা পাড়াজুড়ে তিনদিনব্যাপী কেরাই বা কাংনাত পূজা হয়। আর্কাইভের লেখায় একই পূজার নাম লেখা হয়েছে ‘খ্যাং’, বছরে দুবার, আর তাতে মোরগ, শূকর, ছাগল, গরু বলি দেওয়ার কথা আছে।
বাংলা উইকিপিডিয়া ক্রামার চারটি প্রধান উৎসবের নাম দিয়েছে — প্রাত লা পই, সরাই লা পই, রামমো লা পই, লুতা লা পই। এগুলোর কোনটিতে কী হয়, ওই পাতাতেও লেখা নেই, অন্য কোনো পঠিত উৎসেও পাইনি। [যাচাই প্রয়োজন]
ধর্মটি ম্রোদের বাইরেও গেছে। জুমজার্নালের খুমী-বিষয়ক লেখা অনুযায়ী খুমীরা আজকাল তিনটি ধর্মে বিশ্বাসী — প্রকৃতিপূজারি, ক্রামা ও খ্রিস্টান। আর একটি নির্দিষ্ট আচারের কথা সেখানে আছে: ক্রামা ধর্মে বিশ্বাসী খুমীরা সন্তানের বয়স ১২ হলে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান করে ছেলেমেয়েকে যৌবনপ্রাপ্ত বলে ঘোষণা করেন — প্রকৃতিপূজারি ও খ্রিস্টান খুমীরা এই প্রথা পালন করেন না।
ধর্মটির নিজস্ব পদাধিকারীও আছে। ম্রোদের বিবাহবিচ্ছেদ বা তাখোয়া নিয়ে আর্কাইভের লেখায় বিচ্ছেদের একটি স্বীকৃত কারণ হিসেবে লেখা আছে — স্বামী বা স্ত্রী যেকোনো একপক্ষ যদি সংসারত্যাগী বৌদ্ধ বা ক্রামা ধর্মীয় পুরোহিত বা সাধুমা হন। অর্থাৎ ক্রামায় পুরোহিত আছেন, সাধুমাও আছেন।
এবং প্রার্থনার জায়গা। আর্কাইভের “প্রচলিত রীতিনীতি ও প্রথা” লেখাটি লিখছে, “বর্তমানে ক্রামা ধর্ম অনুসারীদের জন্য পৃথক ধর্মীয় মন্দির রয়েছে।” অথচ বাংলাপিডিয়ার একই ভুক্তিতে লেখা, “ম্রোদের কোন ধর্মগুরু নেই, ধর্মগ্রন্থ নেই এবং কোন মন্দিরও নেই।” দুটো বাক্য পাশাপাশি রাখছি — মেলানোর মতো তৃতীয় উৎস পাইনি।
New Age-এর হিসাবে ক্রামা প্রবর্তনের মাত্র দেড় বছর পর মেনলে নিখোঁজ হন। হাফিজ রশীদ খানের বর্ণনায় তিনি তখন পাহাড়ের পল্লি থেকে পল্লি ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন লিপি ও ধর্ম দুটোকেই মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে; সেই সময়েই “তার অন্তর্ধানের খবর ছড়িয়ে পড়ে পাহাড় জুড়ে।”
ফিরে আসার বিশ্বাসটিও দুই উৎসে আছে, দুই রূপে। হাফিজ রশীদ খান লিখেছেন, ম্রো সমাজ বিশ্বাস করে মেনলে ফিরে আসবেন আরও গভীর ও কার্যকর ক্রামাধর্মীয় সূক্তের সম্ভার নিয়ে। Financial Express-এর ভাষ্যে ভক্তরা বিশ্বাস করেন, তিনি একদিন পূর্বদিক থেকে সাদা ঘোড়ায় চড়ে ফিরবেন।
তিনি না ফিরলেও কাজটা থেমে থাকেনি। New Age অনুযায়ী তাঁর অন্তর্ধানের পরও একটি ক্রামা কমিটি গঠিত হয়, যারা তাঁর গ্রামে প্রতি বছর সম্মেলন করে। ১৯৮৬-৮৭ সালে ভাষা প্রসারের জন্য ম্রো ছাহ ছা সাংরা নামে একটি স্কুল হয় — শিক্ষার্থীরা তিন বছর পড়ে গ্রামে ফিরে অন্যদের শেখাতেন। ১৯৯৪ সালে মেনরুম ম্রো প্রথম ম্রো সফটওয়্যার বানান, পরে যার নাম হয় ‘রিয়েন’। ২০০৪ সালে ম্রো বর্ণমালা সংরক্ষণ ও উন্নয়ন কমিটি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের আর্থিক সহায়তা পায়, তাতে প্রাথমিকের পাঠ্যবই ছাপা সম্ভব হয়।
অনুসারী কত, তার কোনো নির্ভরযোগ্য হিসাব নেই। ইংরেজি উইকিপিডিয়ার তথ্যছকে লেখা আনুমানিক ২১,০০০, কিন্তু ওই সংখ্যার সঙ্গে কোনো তথ্যসূত্র জোড়া নেই। Financial Express বলছে আজ বাংলাদেশের ম্রোদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই এই ধর্ম মানে এবং ক্রামা মিয়ানমারেও ছড়িয়েছে। বাংলাপিডিয়া সংযত ভাষায় বলছে “বেশ কিছুসংখ্যক লোক এই ধর্মে দীক্ষিত হয়।” আর Netra News-এর প্রতিবেদনে কারণটার একটা ইঙ্গিত আছে — আদমশুমারিতে ক্রামার আলাদা কোনো ঘর নেই; হিন্দু ও অন্যান্য বিশ্বাসের সঙ্গে “অন্যান্য” শ্রেণিতে গোনা হয়। যে ধর্মকে আলাদা করে গোনাই হয় না, তার অনুসারী গোনা যাবে কী করে।
শেষে সাম্প্রতিক একটি প্রসঙ্গ, যা এই ধর্মের বর্তমান অবস্থার সঙ্গে জড়িত। Netra News ১৮ মে ২০২৬-এ প্রকাশিত অনুসন্ধানে (মারজিয়া হাশমি মোমো ও ডেনিম চাকমা) জানিয়েছে, তারা ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আলীকদম, থানচি ও চিম্বুক এলাকায় তিনটি প্রতিষ্ঠানে ২২ জন ম্রো শিশুর নিজ ধর্ম থেকে ধর্মান্তরের অভিযোগ চিহ্নিত করেছে; বান্দরবানে ১৫০-এর বেশি আদিবাসী শিশু মাদ্রাসায় পড়ছে। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য কামলাই ম্রো ওই প্রতিবেদনে বলেছেন (ইংরেজি থেকে অনুবাদ), মাদ্রাসায় নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শিশুদের পাঞ্জাবি ও টুপি পরানো হয় এবং নাম বদলে দেওয়া হয়; তাঁর ভাষায় এটি চলছে গত চার বছর ধরে। অভিযুক্ত তিন প্রতিষ্ঠানই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইকরা তাহসিনুল কুরআনের শিক্ষক নজরুল ইসলাম ওই প্রতিবেদনে বলেছেন, বাঙালি মুসলিম শিশুদের পক্ষে আদিবাসী নামগুলো উচ্চারণ কঠিন হয় বলেই একসঙ্গে থাকার সুবিধার্থে নাম বদলানো হয়। প্রতিষ্ঠানপ্রধানেরা অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া ধর্মান্তরের কথা অস্বীকার করেছেন। বিষয়টি চলমান; এখানে কেবল প্রতিবেদনটি যা জানিয়েছে তা-ই, উভয় পক্ষসহ, তুলে দেওয়া হলো।
সর্বশেষ হালনাগাদ: ১৬ আগস্ট ২০২৬