icon

পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী পাহাড়ীদের প্রথা ও রীতি সংক্রান্ত জাতীয়, আন্তর্জাতিক ও বিশেষ আইন(?)

Alo Jyoti Chakma

Last updated Oct 6th, 2026 icon 0

পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী পাহাড়িদের প্রথা ও রীতি দেশের জাতীয় ও বিশেষ আইনসমূহে স্বীকৃত। আদিবাসীদের প্রথা-রীতি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আইনেও স্বীকৃত।

বিশেষ আইন।

(১) ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি।

(২) ভূমি বিরােধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন ২০০১

(৩) পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন।

(৪) পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন

১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি

১৯০০ সালের শাসনবিধিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ী আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত প্রথা, রীতি ও তাদের প্রথাগত প্রতিষ্ঠান স্বীকৃত। এ আইনে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথাগত নেতৃত্ব সার্কেল চিফ ও হেডম্যান স্বীকৃত। পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধির ৩৮ বিধিতে সার্কেল চিফ ও মৌজাপ্রধানের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে আলােকপাত করা হয়েছে; ৪০ বিধিতে সার্কেল চিফ ও মৌজাপ্রধানের প্রশাসনিক ক্ষমতা সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে; ৪১ বিধিতে জুমচাষ নিয়ন্ত্রণ এবং ৪২ বিধিতে জুম খাজনা-সংক্রান্ত বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে; ৪৩ বিধিতে খাজনা আদায় সংক্রান্ত বিস্তারিত আলােচনা করা হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসন বিধির ৪৮ নং বিধিতে উল্লেখ রয়েছে যে, সার্কেল চিফের (রাজা) সঙ্গে পরামর্শ করে ডেপুটি কমিশনার মৌজা হেডম্যান নিয়ােগ করবেন। যদিও এ পরামর্শ গ্রহণ বাধ্যতামূলক নয়। তবে সার্কেল চিফের পরামর্শ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে বিবেচনার দাবি রাখে। আইন অনুসারে হেডম্যান পদটি বংশানুক্রমিক নয়। তবে হেডম্যানের উপযুক্ত পুত্র হেডম্যান পদে নিয়ােগ লাভের বেলায় অগ্রাধিকারের দাবি রাখে। রীতি অনুসারে হেডম্যানের সন্তানই হেডম্যান হয়ে থাকে।

শাসনবিধির ৩৪ বি ধারায় বলা হয়েছে- জেলা প্রশাসক যদি এই অভিমত পােষণ করেন যে, নদীর তীরে বা তীরবর্তী স্থানে জুমচাষ বা কৃষিকাজ নদী ভাঙ্গন বা নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করার কারণ হতে পারে, তাহলে তিনি নদীর তীরে বা তীরবর্তী স্থানে জুমচাষ বা কৃষিকাজ নিষিদ্ধ করতে পারবেন।।

শাসনবিধির ৪১ (ঘ) ধারায় বলা হয়েছে- জুমচাষের জন্য ক্ষতিকর প্রতীয়মান হইলে হেডম্যান তাহার মৌজায় গবাদিপশু চড়ানাে নিষিদ্ধ মর্মে ঘােষণা করতে পারবেন।।

জুম কর ও জুম তৌজি

পার্বত্য চট্টগ্রাম
পার্বত্য চট্টগ্রাম

শাসনবিধির ৪২ ধারায় জুম ট্যাক্স বিষয়ে বলা হয়েছে- প্রাদেশিক সরকার কর্তৃক সময় সময় নির্ধারিত হারে প্রত্যেক জুমিয়া পরিবারকে হেডম্যানের নিকট জুম ট্যাক্স প্রদান করতে হবে। জুমচাষরত ও একই জুম ফসলভােগী একান্নভুক্ত কোন পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়া জুম পরিবার গঠিত হবে। সার্কেল চিফ সংশ্লিষ্ট সার্কেলের কোন শ্রেণীর লােকদের জুম ট্যাক্স প্রদান হইতে প্রথাসিদ্ধ রীতির প্রেক্ষিতে অব্যাহতি প্রদান করিবেন তাহা ঘােষণা করতে পারবেন। এতদুদ্দেশ্যে তিনি সাময়িক বা স্থায়ীভাবে জুম ট্যাক্স হইতে অব্যাহতি প্রাপ্ত জুম পরিবারের একটি তালিকা প্রতি বছর ১৫ অক্টোবরের পূর্বে জেলা প্রশাসকের অনুমােদনের জন্য উপস্থাপন করবেন।।

এক মৌজায় বসবাস করেন কিন্তু অন্য মৌজায় জুমচাষ করেন, এরূপ প্রত্যেক জুম পরিবারকে যে মােজায় জুম পরিবার জুমচাষ করেন, সেই মৌজার হেডম্যানকে জুম পরিবারের বসবাস এবং জুম চাষ একই সাকেলের ক্ষেত্রে অর্ধেক হারে এবং জুম পরিবারে বসবাস ও জুমচাষ ভিন্ন সার্কেলের ক্ষেত্রে, পূর্ণ হারে অতিরিক্ত জুম বক্স প্রদান করতে হবে। এ ধরনের পরিবারকে পারকুলিয়া বলা হয়।

প্রত্যেক হেডম্যানকে প্রতিবছর নিম্নবর্ণিত তথ্যেও সমন্বয়ে একটি জুম তৌজি প্রস্তুত করতে হবে। যথাপরিবার প্রধানের নাম ও সদস্য সংখ্যা, জুম কর পরিশােধ করেন কিনা বা পারকুলিয়া কিনা বা জুম কর থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত কিনা (কারণসহ), পরিবার সদ্যাগত নাকি পুরনাে অর্থাৎ পূর্ববর্তী পাঁচ বছরের পূর্বে না মধ্যে এসেছেন ইত্যাদি।

জুম তৌজি ১ জুনের আগে সার্কেল প্রধানের কাছে এবং সার্কেল প্রধান কর্তৃক আগস্টের পূর্বে জেলা প্রশাসকের কাছে পেশ করতে হবে। প্রত্যেক হেডম্যান যাতে সঠিক দলিল, জুম ট্যাক্সের হিসাব ও ট্যাক্স আদায়ের ছাপানাে রশিদের মুড়ি সংরক্ষণ করেন, সে বিষয়ে সার্কেল চিফ দায়ী থাকবেন।

পঞ্জিকা বছরের মধ্যে হেডম্যানের কাছে জুম কর পরিশােধ করতে হবে। প্রতি বছরের ১ জানুয়ারিতে পরবর্তী বছরের বকেয়া টাকা পরিশােধ করতে হবে এবং অনুরূপ বকেয়ার জন্য বার্ষিক শতকরা ছয় টাকা পঁচিশ পয়সা। হারে সুদ প্রদান করতে হবে । হেডম্যানের দাবির অন্তত অর্ধেক পূণ্যাহের দিন এবং অবশিষ্টাংশ ১৫ জানুয়ারির পূর্বে সার্কেল প্রধানের কাছে পরিশােধ করতে হবে। একই সময়ে বকেয়া তালিকা ও রশিদের চেক মুড়ি দাখিল করতে হবে। সার্কেল প্রধান এই বিধান লঙ্ঘনকারী হেডম্যানদের তালিকা প্রতিবেদনসহ জেলা প্রশাসকের কাছে পেশ করবেন। জেলা প্রশাসক ৩১ জানুয়ারির মধ্যে যথাযথ তদন্ত সম্পন্ন করবার পর সরকারি দাবি হিসেবে উক্ত বকেয়া আদায়ের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবেন।।

জেলা প্রশাসক কর্তৃক প্রত্যেক জুমিয়া থেকে জুমচাষের বকেয়া হিসেবে আদায়কৃত অর্থ হতে আদায়ের জন্য ব্যয়িত অর্থ এবং হেডম্যানের হিস্যার এক-চতুর্থাংশ প্রথমেই প্রাদেশিক সরকারের রাজস্ব খাতে জমা হবে। অবশিষ্টাংশ সার্কেল প্রধানের কাছে প্রদান করতে হবে।

বিশেষ ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক কারণ উল্লেখপূর্বক সার্কেল প্রধানকে অবহিত করে এই মর্মে নির্দেশ দিতে। পারবেন যে, কোনাে হেডম্যান বা জুমিয়া পরিবারবর্গ জুম কর সার্কেল প্রধানকে প্রদান না করে সরাসরি তাঁর কাছেই প্রদান করবেন। যখন কোনাে জুমিয়া অনুরূপ নির্দেশিত হন, তখন জুম ট্যাক্স হেডম্যান আদায় করেছে মর্মে ধরে নিয়ে হেডম্যানের প্রাপ্য এক-চতুর্থাংশ, জুম ট্যাক্স আদায়ের খরচ হিসেবে প্রাদেশিক সরকারের রাজস্ব খাতে জমা করতে হবে এবং অবশিষ্টাংশ সার্কেল প্রধানকে পরিশােধ করতে হবে। জুম ট্যাক্স আদায়ের জন্য জেলা প্রশাসক আদায়কারী নিয়ােগ করতে পারবেন। পরবর্তীকালে তাদেরকে জেলা প্রশাসক তার বিবেচনায় যেরূপ যুক্তিযুক্ত মনে হয় সেইরূপ পরিমাণ সম্মানী প্রদান করতে পারবেন।

সার্কেল প্রধান প্রতি বছর ৩১ মার্চের মধ্যে সরকারি দাবি পরিশােধ করবেন।

জেলা প্রশাসক কারণ উল্লেখপূর্বক সংশ্লিষ্ট সার্কেল প্রধান অথবা হেডম্যানের সঙ্গে আলােচনাক্রমেবিশেষ ক্ষেত্রে জুম কর হাস বা মওকুফ করতে পারবেন;

সুতরাং এটি প্রণিধানযােগ্য যে, ১৯০০ সনের শাসনবিধির বিভিন্ন ধারায় ‘জুমচাষ’ পরিষ্কারভাবে স্বীকৃত রয়েছে। বলাবাহুল্য, জুমচাষ এবং জুমচাষের জন্য জুমভূমি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা প্রথাগত ভূমি ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।।

সার্কেল চিফদের ক্ষমতা ও সংরক্ষিত বন

শাসনবিধির ৩৫ ধারায় বলা হয়েছে রিজার্ভ বন তিন সার্কেল চিফ যথা, চাকমা চিফ, বােমাং চিফ ও মং চিফ এবং মাইনী উপত্যকা নিয়ে চট্টগ্রাম পার্বত্য জেলা গঠিত হবে।

শাসনবিধির ৩৮ ধারায় বলা হয়েছে, সার্কেল চিফগণ জেলা প্রশাসকের উপদেষ্টা কাউন্সিল হিসেবে পরিগণিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট সার্কেলের প্রশাসন-সংক্রান্ত সকল বিষয়ে তথ্য এবং উপদেশ দিয়ে জেলা প্রশাসককে সহায়তা করবেন।।

শাসনবিধির ৩৯ ধারায় বলা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশাসন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে এমন গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়াদি নিয়ে জেলা প্রশাসক সার্কেল চিফদের সাথে পরামর্শ করবেন।।

শাসনবিধির ৪০ ধারায় চিফ ও হেডম্যানদের প্রশাসনিক ক্ষমতা অংশে বলা হয়েছে, মৌজার হেডম্যানগণ সংশ্লিষ্ট মৌজার অধিবাসী কর্তৃক আনীত বিরােধী সকল বিষয়ের ওপর বিচারপূর্বক সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন। তারা সংশ্লিষ্ট পক্ষদ্বয়ের প্রচলিত সামাজিক রীতিনীতি অনুসারে উপজাতীয় মােকদ্দমাসমূহের বিচার করবেন। এই ধরনের বিচারে হেডম্যান সর্বোচ্চ ২৫ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করিতে পারবেন এবং অন্যায়ভাবে সংগৃহীত বা চুরিকৃত মালামাল ফেরত প্রদানে বাধ্য করতে পারবেন। তাছাড়া এতদ্বিষয়ে জেলা প্রশাসকের আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত আটক রাখিবার কর্তৃত্ব দিতে পারবেন। এই বিধিতে ভিন্ন কিছু বর্ণিত না থাকলে সার্কেল চিফগণ, খাস মৌজার হেডম্যান হিসেবে তাদের নিকট মীমাংসার জন্য উপস্থাপিত বিরােধীয় সকল বিষয়ের ওপর বিচার পূর্বক সিদ্ধান্ত প্রদান করতে পারবেন। অনুরূপ উপজাতীয় বিরােধসমূহ, যাহা হেডম্যানদের প্রেক্ষিতে প্রেরিতব্য হেডম্যান নিজেরাই দাখিল করেছেন সেই বিরােধগুলিও সার্কেল চিফগণ একইভাবে মীমাংসা করবেন।

সার্কেল চিফ ৫০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারবেন এবং অবৈধভাবে লব্ধ কোন কিছু ফেরত প্রদানে বাধ্য করতে পারবেন। ইহা ছাড়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর জেলা প্রশাসকের আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত আটক রাখিবার আদেশ দিতে পারিবেন । উপজাতীয় মামলার রায়সমূহের রিভিশন পর্যায়ের সাধারণ অধিক্ষেত্র হিসেবে জেলা প্রশাসকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হবে। সার্কেল চিফ অথবা হেডম্যান কর্তৃক প্রদত্ত কোন মামলার রায়ে আরােপিত শাস্তি কার্যকর করিবার জন্য জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করতে পারবেন । সার্কেল চিফ অথবা হেডম্যানগণ কর্তৃক বিচার্য মােকাদ্দমায় কোন কোর্ট ফি প্রদান করতে হবে না। এইরূপ মামলায় আরােপিত জরিমানা সংক্ষুব্ধদের মাঝে (যদি থাকে) এবং সামাজিক প্রথা অনুসারে সমষ্টিগতভাবে গ্রামীণ সম্প্রদায়ের মধ্যে বন্টন করে দিতে হবে।

গোচারণভূমির কর

শাসনবিধির ৪৫ (বি) ধারায় গােচারণভূমির ট্যাক্স আদায় অংশে বলা হয়েছে

১. এই বিধিতে ভিন্নরূপ কিছু বর্ণিত না থাকলে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় পালিত, রক্ষিত বা চারণরত গবাদি পশু (গাভী ও ষাঁড়), মহিষ, ছাগল, গয়াল জন্য চারণ-কর আরােপযােগ্য হবে।

২. কমিশনারের অনুমােদন সাপেক্ষে জেলা প্রশাসক কর্তৃক নির্ধারিত হারে চারণ-কর ধার্য করা হবে।

৩. প্রতি বছরের জন্য বা বছরের অংশ বিশেষের জন্য ১ এপ্রিল কর পুনঃনির্ধারণ শুরু করতে হবে।

৪. বাজারের অধিবাসীদের চারণকর বাজার চৌধুরীর মাধ্যমে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে হেডম্যানের মাধ্যমে আদায় করা হবে। আদায়ের সময় চারণকর প্রদানকারীদেরকে ছাপানাে রসিদ প্রদান করতে হবে এবং আদায়ের পরিমাণ ক্যাশ বহিতে লিপিবদ্ধ করতে হবে। আদায়কারীগণ (বৃটিশ রাজতন্ত্রে কর্মচারী ব্যতীত) কমিশনারের অনুমােদন সাপেক্ষে জেলা প্রশাসক কর্তৃক নির্ধারিত হারে আদায়কৃত চারণ-করের ওপর কমিশন পাবেন।

৫. চারণ-ট্যাক্স পরিশােধ সাপেক্ষে বৃটিশ রাজশাসনের অধীনে ন্যস্ত একই মৌজায় অবস্থিত পতিত জমিতে গরু ছাগল, মহিষ এবং গয়াল চরানাের অধিকার থাকবে। যদি একাধিক মৌজায় চড়ানাে হয় তবে, প্রত্যেক মৌজার জন্য নতুনভাবে চারণ-কর নির্ধারণ করতে হবে । চারণকর রেয়াতপ্রাপ্ত গরু, মহিষ ও গয়াল শুধুমাত্র যেই মৌজায় চাষীর ভূমি আছে শুধুমাত্র সেই মৌজায় নয়; বরং যেই মৌজায় তিনি বাস করেন সেই মৌজাতেও চড়ানাে যাইবে । যদিও অনুরূপ মৌজায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোন বাড়ি থাকে না।

রেগুলেশন (সংশোধন) আইন, ২০০৩

পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন (সংশােধন) আইন- ২০০৩ [২০০৩ সালের ৩৮ নং আইন।

১৯০০ সনের শাসনবিধি অনুসারে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ফৌজদারী ও দেওয়ানী মামলা পরিচালনা করে থাকে। কিন্তু ২০০৩ সালে এ আইনের [ পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন (সংশােধন) আইন২০০৩] সংশােধনের মধ্য দিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের এ সংক্রান্ত ক্ষমতা বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট ও আইন, বিচার ও সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিচারকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে এ আইনের সংশােধনীতে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথাগত প্রতিষ্ঠানের বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতাকে খর্ব করা হয়নি। এছাড়া সংশােধিত আইনে বলা হয়েছে যে, আইন, প্রথা ও রীতি অনুসরণ করে আদালত বিরােধীয় বিষয়গুলি বিচার করতে বাধ্য থাকবে।

সুতরাং এটি পরিস্কার যে, ১৯০০ সালের শাসনবিধিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি আদিবাসীদের প্রথাগতভাবে পরিচালনাধীন ভূমি যেমন- জুমভূমি, গােচারণভূমি ইত্যাদি স্বীকৃত। পাহাড়ি আদিবাসীদের প্রথাগত বিচারব্যবস্থা, প্রথাগত ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি এ আইনে সুস্পষ্টভাবে স্বীকৃত। সর্বশেষ ২০০৩ সালে এ আইনের যে সংশােধনী হয় তাতেও পাহাড়ি আদিবাসীদের প্রথা ও রীতিকে আরাে সুস্পষ্ট ও শক্তিশালী করা হয়েছে।

ব, আমি জাঞ্চিলিক পরিষদ

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন।

ভূমি কমিশন আইন, ২০০১

ভূমি কমিশন আইন- ২০০১ ভূমি বিরােধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন ২০০১-এর ২(ছ)-এ বলা হয়েছে২(ছ) “প্রচলিত আইন” বলিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে এই আইন বলবৎ হইবার পূর্বে যে সমস্ত আইন, ঐতিহ্য, বিধি, প্রজ্ঞাপন প্রচলিত ছিল কেবলমাত্র সেইগুলিকে বুঝাইবে; ভূমি বিরােধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন ২০০১-এর ৬(১)-এ কমিশনের কার্যাবলী অংশে বলা হয়েছে(ক) পুনর্বাসিত শরণার্থীদের ভূমি সংক্রান্ত বিরােধ পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন ও রীতি অনুযায়ী।

নিষ্পত্তি করা; (খ) আবেদনে উল্লেখিত ভূমিতে আবেদনকারী, বা ক্ষেত্রমত সংশ্লিষ্ট প্রতিপক্ষের, স্বত্ব বা অন্যবিধ অধিকার।

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন ও রীতি অনুযায়ী নির্ধারণ এবং দখল পুনর্বহাল; (গ) পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রচলিত আইন বহির্ভূতভাবে কোন ভূমি বন্দোবস্ত প্রদান করা হইয়া থাকিলে উহা।

বাতিলকরণ এবং উক্ত বন্দোবস্তজনিত কারণে কোন বৈধ মালিক ভূমি হইতে বেদখল হইয়া থাকিলে তাহার দখল পুনর্বহাল:

পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন।

পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন

পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের ৬৪ ধারায় বলা হয়েছেআপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন(ক) রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার এলাকাধীন বন্দোবস্তযােগ্য খাস জমিসহ কোন জায়গা-জমি, পরিষদের

পূর্বানুমােদন ব্যতিরেকে, ইজারা প্রদান, বন্দোবস্ত, ক্রয়, বিক্রয় বা অন্যবিধ হস্তান্তর করা যাইবে না ? তবে শর্ত থাকে যে, রক্ষিত (Reserved) বনাঞ্চল, কাপ্তাই জল বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা, বেতবুনিয়া ভূউপগ্রহ এলাকা, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্প কারখানা এলাকা ও সরকারের নামে রেকর্ডকৃত ভূমির।

ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযােজ্য হইবে না। (খ) পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ও আওতাধীন কোন প্রকারের জমি, পাহাড় ও বনাঞ্চল পরিষদের সহিত আলােচনা।

ও উহার সম্মতি ব্যতিরেকে সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ ও হস্তান্তর করা যাইবে না। (২) হেডম্যান, চেইনম্যান, আমিন, সার্ভেয়ার, কানুনগাে ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যাদি পরিষদ

তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবে।।

উপজাতীয় বিরোধ নিষ্পত্তি ও আপিল

বান্দরবান
বান্দরবান

পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের ৬৬ ধারার উপজাতীয় বিষয়ে বিরােধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত বিধানে বলা হয়েছে(১) রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার বাসিন্দা এমন উপজাতীয়গণের মধ্যে কোন সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা উপজাতীয়

বিষয়ে বিরােধ দেখা দিলে বিরােধটি নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় কার্বারী বা হেডম্যানের নিকট উত্থাপন করিতে

হইবে এবং তিনি সংশ্লিষ্ট উপজাতীয়গণের মধ্যে প্রচলিত রীতি-নীতি অনুযায়ী বিরােধের নিষ্পত্তি করিবেন। (২) কার্বারী বা হেডম্যানের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষেত্র বিশেষে চাকমা সার্কেলের চীফ এবং বােমাং সার্কেলের।

চিফের নিকট আপীল করা যাইবে ।। (৩) চাকমা সার্কেলের চিফ এবং বােমাং সার্কেলের চিফের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনারের | নিকট আপীল করা যাইবে এবং তাহার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।

তবে শর্ত থাকে যে, আপীল নিষ্পত্তির পূর্বে তিনি সংশ্লিষ্ট উপজাতি হইতে তৎকর্তৃক মনােনীত অন্যূন তিন জন উপজাতীয় বিজ্ঞ ব্যক্তির সহিত পরামর্শ করিবেন।

পরিষদ আইনের প্রথম তফসিলে বর্ণিত পরিষদের কার্যাবলীতে উল্লেখ রয়েছে১খ । উপজাতীয় রীতিনীতি অনুসারে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও উপজাতীয় বিষয়ক বিরােধের বিচার; ২৩। উপজাতীয় আইন ও সামাজিক বিচার; ৩৩। জুম চাষ ।।

পার্বত্য চটগ্রামের ভূমি সংক্রান্ত প্রকার ও

জাতীয় আইন ও অন্যান্য

সংবিধানে যা আছে

সংবিধান সংবিধানের ২৩ক ধারায় বলা হয়েছে- “রাষ্ট্র বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা, নৃ-গােষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।”

সংবিধানের ১৪৯ ধারায় বলা হয়েছে যে- “এই সংবিধানের বিধানাবলী সাপেক্ষে সকল প্রচলিত আইনের। কার্যকারীতা অব্যাহত থাকিবে।”

১৫২ ধারায় ব্যাখ্যা অংশে বলা হয়েছে- “প্রচলিত আইন অর্থ এই সংবিধান প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানায় বা উহার অংশ বিশেষে আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন কিন্তু কার্যক্ষেত্রে থাকুক বা না থাকুক, এমন কোন আইন।” | বাংলাদেশ সংবিধানের এই ধারা ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি’-কে প্রচলিত আইন হিসেবে। স্বীকৃতি প্রদান করে।।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০

মাদক দ্রব্য আইন ১৯৯০ মদ পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি আদিবাসী জাতিসমূহের সংস্কৃতির এক অপরিহার্য উপাদান। বিয়ে অনুষ্ঠান, পূজাপার্বণ, বয়স্ক ও সম্মানীয় ব্যক্তিদের সম্মান প্রদর্শন সবক্ষেত্রে মদের প্রয়ােজন হয়। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে। মদ পাহাড়ি আদিবাসী সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯০ (১৯৯০ সালের ২০ নং আইন) পাহাড়ি আদিবাসীসহ দেশের সকল আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত সাংস্কৃতিক অধিকারের স্বীকৃতি দিয়েছে। এ আইনে সনাতনী পদ্ধতিতে চোলাইকৃত মদ বা বিশুদ্ধকৃত মদজাতীয় পানীয় ভােগের জন্য ফৌজদারী অভিযােগ থেকে চা বাগানের কর্মী এবং মুচি মেথর, ডােম (জেলে এবং শ্মশানের মৃতের সত্ত্বারকারী) জাতিসহ সমতল ও পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের অব্যাহতি দিয়েছে। যদিও আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি সাধারণ বিষয়, তবু যাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক রীতিনীতি সামাজিক প্রথায় ঐতিহ্যগতভাবে চোলাইকৃত মদ্য পানীয় ব্যবহার করার প্রথা ছিল এবং এখনও রয়েছে সেইসব আদিবাসী জনগােষ্ঠীর ক্ষেত্রে এটি একটি সাংস্কৃতিক অধিকারের স্বীকৃতি।

নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি

নির্বাচনী ইশতেহার। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের ১৮.১ ধারায় বলা হয়েছে, “আদিবাসীদের জমি, জলাধার এবং বন এলাকায় সনাতনি অধিকার সংরক্ষণের

জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” ১৮.২ ধারায় বলা হয়েছে, “আদিবাসী ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের অধিকারের স্বীকৃতি এবং তাদের ভাষা, সাহিত্য,

সংস্কৃতি ও জীবনধারার স্বাতন্ত্র্য সংরক্ষণ ও তাদের সুষম উন্নয়নের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচী গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।”

আন্তর্জাতিক আইন

আদিবাসী অধিকারবিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণাপত্র

আদিবাসী জাতিগােষ্ঠীর অধিকার-বিষয়ক জাতিসংঘ ঘােষণাপত্র। আদিবাসী জাতিগােষ্ঠীর অধিকার-বিষয়ক জাতিসংঘ ঘােষণাপত্রের ‘ঘােষণা’ অংশে বলা হয়েছে- আদিবাসী। জাতিগােষ্ঠীসমূহের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামাে এবং সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, ইতিহাস। ও দর্শন, বিশেষভাবে তাদের জমি, ভূখণ্ড ও সম্পদের অধিকারের প্রেক্ষাপটে গড়ে উঠা আদিবাসীদের সহজাত অধিকারকে শ্রদ্ধা ও প্রসারের জরুরি প্রয়ােজনীয়তাকে স্বীকার করে, ।

আদিবাসী জাতিগােষ্ঠীকে প্রভাবিত করে এমন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং ভূমি, ভূখণ্ড ও সম্পদের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আদিবাসী জাতিগােষ্ঠীর প্রতিষ্ঠান, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও শক্তিশালীকরণে এবং তাদের আশা-আকাক্ষা ও চাহিদাভিত্তিক উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণে তাদের সক্ষম করে তুলবে এটা মেনে নিয়ে,

– পার্বত্য চয়মি আপঞ্চলিক পরিষদ

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন

ঘােষণাপত্রের অনুচ্ছেদ-৮-এ বলা হয়েছে১. আদিবাসী জাতিগােষ্ঠী ও ব্যক্তির জোরজবরদস্তিমূলক একীভূতকরণ বা তাদের সংস্কৃতি ধ্বংসকরণের হাত

থেকে রক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। ২. (ক) তাদের স্বতন্ত্র জাতিগােষ্ঠীর মর্যাদা বা সাংস্কৃতিক মূল্যবােধ কিংবা নৃতাত্ত্বিক পরিচয়কে বিপন্ন করানে।

লক্ষ্যে অথবা প্রভাবিত করে এমন যে কোন কার্যক্রম; । (খ)তাদের ভূমি, ভূখণ্ড অথবা সম্পদ থেকে বিতাড়িত করার লক্ষ্যে অথবা প্রভাবিত করে এমন যে কোন কার্যক্রম;

2021.01.16 11:40

ঘােষণাপত্রের অনুচ্ছেদ-১০-এ বলা হয়েছেআদিবাসী জাতিগােষ্ঠীকে তাদের ভূমি কিংবা ভূখণ্ড থেকে জবরদস্তিমূলকভাবে উৎখাত করা যাবে না। আদিবাসী জাতিগােষ্ঠীকে তাদের স্বাধীন ও পূর্বাবহিত সম্মতি ছাড়া কোনভাবে অন্য এলাকায় স্থানান্তর করা যাবে না এবং ন্যায্য ও যথাযথ ক্ষতিপূরণের বিনিময়ে সমঝােতাসাপেক্ষে স্থানান্তর করা হলেও, যদি কোন সুযােগ থাকে, পুনরায় তাদেরকে স্ব-এলাকায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা থাকতে হবে।

ঘােষণাপত্রের অনুচ্ছেদ-১১-এ বলা হয়েছে১. আদিবাসী জাতিগােষ্ঠীর তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও প্রথা চর্চা করা ও পুনরুজ্জীবিত করার অধিকার

রয়েছে। এই অধিকারের মধ্যে তাদের সংস্কৃতির অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত অভিব্যক্তি, যেমন প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থান, শিল্পকলা, নকশা, আচার-অনুষ্ঠানাদি, প্রযুক্তি এবং সচিত্র ও অভিনয় শিল্প ও সাহিত্য। অক্ষুন্ন রাখা, রক্ষা করা এবং উন্নয়ন করার অধিকার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ঘােষণাপত্রের অনুচ্ছেদ-১২-এ বলা হয়েছে১. আদিবাসী জাতিগােষ্ঠীর তাদের আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য, প্রথা ও আচার-অনুষ্ঠান পালন করা, চর্চা করা,

উন্নয়ন করা এবং শিক্ষা প্রদানের অধিকার; তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থানসমূহ অক্ষুন্ন রাখা, রক্ষা করা এবং একান্তভাবে চর্চার অধিকার; উৎসব-আচারাদির বস্তুসামগ্রী ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণের অধিকার; এবং তাদের পূর্ব পুরুষের দেহাবশেষ ফিরে পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

ঘােষণাপত্রের অনুচ্ছেদ-২০-এ বলা হয়েছে১. আদিবাসী জাতিগােষ্ঠীর তাদের জীবন-জীবিকা ও উন্নয়নের নিজস্ব ধারা নিশ্চিত করার জন্য এবং তাদের

ঐতিহ্যগত ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কার্যক্রমে স্বাধীনভাবে নিযুক্ত থাকার জন্য তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা বা প্রতিষ্ঠান বজায় রাখা ও উন্নয়নের অধিকার রয়েছে।

ঘােষণাপত্রের অনুচ্ছেদ-২৪(১)-এ বলা হয়েছে১. আদিবাসী জাতিগােষ্ঠীর তাদের ঐতিহ্যগত ঔষধি ব্যবস্থাপনা এবং অত্যাবশ্যক ঔষধি গাছ, জীবজন্তু ও

খনিজ সম্পদ সংরক্ষণসহ তাদের স্বাস্থ্য পরিচর্যার অধিকার রয়েছে। কোন প্রকার বৈষম্য ছাড়া আদিবাসী জাতিগােষ্ঠীর সকল প্রকার সামাজিক ও স্বাস্থ্যসেবা লাভের অধিকার রয়েছে।

ঘােষণাপত্রের অনুচ্ছেদ-২৫-এ বলা হয়েছেআদিবাসী জাতিগােষ্ঠীর তাদের ঐতিহ্যগতভাবে মালিকানাধীন কিংবা অন্যথায় ভােগদখলে থাকা ও ব্যবহার করা জমি, ভূখণ্ড, জল, সমুদ্র উপকুল ও অন্যান্য সম্পদের সঙ্গে তাদের স্ব স্ব আধ্যাত্মিক সম্পর্ক বজায় রাখা ও সুদৃঢ়করণের অধিকার এবং এক্ষেত্রে ভবিষ্যত প্রজন্মের নিকট তাদের এসবের দায়িত্বসমূহ সমুন্নত রাখার অধিকার রয়েছে ।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি সংক্রান্ত এখ। এ

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।
[DISPLAY_ULTIMATE_SOCIAL_ICONS]

আরও কিছু লেখা