icon

রূপনা চাকমা: ভূঁইয়ো আদাম থেকে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গোলরক্ষক

Jumjournal

Published on Nov 8th, 2026 icon 0

রূপনা চাকমা বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের গোলরক্ষক। এশীয় ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) নিবন্ধন তালিকা অনুযায়ী তাঁর জন্ম 2 জানুয়ারি 2004, আর বাড়ি রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের ভূঁইয়ো আদাম গ্রামে। 2022 ও 2024 সালে টানা দুবার তিনি সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা গোলরক্ষক হয়েছেন।

এই লেখায় তাঁর জীবনের প্রতিটি তথ্য সংবাদপত্র, বাফুফে ও এএফসির নথি থেকে নেওয়া, উৎসের নামসহ। গ্রাম, পরিবার, স্কুল আর কোচদের কথা আছে; আছে দুই সাফের ম্যাচ-ধরা হিসাব, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বানানো ঘরের কালানুক্রম, আর সেই রাস্তা ও সাঁকোর খবর যা 2022 সালে প্রতিশ্রুত হয়েছিল। যেখানে দুই পত্রিকা দুই রকম কথা বলেছে, সেখানে দুটোই রাখা হয়েছে।

নামের বানান নিয়ে একটি কথা আগে। প্রথম আলো, বাংলা ট্রিবিউন ও দ্য ডেইলি স্টার বাংলার 2024 সালের প্রতিবেদন লেখে ‘রুপনা’; দ্য ডেইলি স্টার বাংলার 2023 সালের প্রতিবেদন ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর লেখে ‘রূপনা’। ইংরেজিতে Rupna Chakma। উদ্ধৃতির ভেতরে উৎসের বানানই রাখা হয়েছে। ইংরেজি উইকিপিডিয়া তাঁর নাম চাকমা লিপিতেও দিয়েছে: 𑄢𑄪𑄛𑄴𑄚 𑄌𑄋𑄴𑄟𑄳𑄦। এই লিপির ইতিহাস ও বর্ণমালা নিয়ে আমাদের লেখা চাকমা লিপি অঝাপাতের উৎপত্তি ও বর্ণমালা।

সূচিপত্র

  1. রূপনা চাকমা কে: এক নজরে মূল তথ্য
  2. রূপনা চাকমা কোথায় জন্মেছেন: ঘিলাছড়ির ভূঁইয়ো আদাম
  3. বাবাকে না দেখা শৈশব: মা কালাসোনা চাকমা ও চার ভাইবোন
  4. মাঝমাঠ থেকে গোলপোস্টে: রূপনা চাকমা কীভাবে গোলরক্ষক হলেন
  5. রূপনা চাকমা বয়সভিত্তিক দল থেকে জাতীয় দলে: 2016 থেকে 2022
  6. 2022 সালের সাফে রূপনা চাকমা কেন সেরা গোলরক্ষক হলেন
  7. অনূর্ধ্ব-20 সাফ 2023: ‘এমিলিয়ানো মার্তিনেজ’-এর সঙ্গে তুলনা
  8. 2024 সালের সাফ: রূপনা চাকমা টানা দ্বিতীয়বার সেরা গোলরক্ষক
  9. রূপনা চাকমার ঘর: ঘোষণা থেকে চাবি পর্যন্ত কালানুক্রম
  10. বাঁশের সাঁকো আর রাস্তার প্রতিশ্রুতি: পরে কী জানা গেছে
  11. রূপনা চাকমা কোন ক্লাবে খেলেন: বসুন্ধরা কিংস, ভুটান, রাজশাহী স্টার্স
  12. বাটলারের ছকে ‘সুইপার-কিপার’ আর 2025 সালের বয়কট
  13. 2026 সালে রূপনা চাকমা: এশিয়ান কাপ, সাফ ও এশিয়ান গেমস
  14. মাঠের বাইরে রূপনা চাকমা যা বলেছেন
  15. উৎসভেদে অমিল
  16. প্রশ্নোত্তর
  17. যা এখনো জানা যায়নি
  18. তথ্যসূত্র

রূপনা চাকমা কে: এক নজরে মূল তথ্য

রূপনা চাকমা নানিয়ারচরের এক চাকমা পরিবারের মেয়ে, জাতীয় দলে তাঁর জার্সি নম্বর 1, পজিশন গোলরক্ষক। এএফসির 2026 সালের এশিয়ান কাপ নিবন্ধনে তাঁর উচ্চতা লেখা 157 সেন্টিমিটার, ক্লাব রাজশাহী স্টার্স। দুই সাফ জয় আর দুবার সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার তাঁর সবচেয়ে পরিচিত অর্জন।

বিষয়তথ্যউৎস
জন্ম তারিখ2 জানুয়ারি 2004এএফসি নিবন্ধন তালিকা, ফেব্রুয়ারি 2026
গ্রামভূঁইয়ো আদাম, ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন, নানিয়ারচর, রাঙামাটিপ্রথম আলো, 20 ও 21 সেপ্টেম্বর 2022
মাকালাসোনা চাকমাপ্রথম আলো, বাংলা ট্রিবিউন, ঢাকা ট্রিবিউন
ভাইবোনচারজনের মধ্যে সবার ছোট (দুই ভাই, দুই বোন)প্রথম আলো, 20 সেপ্টেম্বর 2022 ও 21 এপ্রিল 2023
উচ্চতা157 সেমিএএফসি নিবন্ধন তালিকা
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ঘাগড়া উচ্চবিদ্যালয়, কাউখালী (2014 সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি)প্রথম আলো, 21 সেপ্টেম্বর 2022
ক্লাববসুন্ধরা কিংস → থিম্পু সিটি এফসি, ভুটান (2025) → রাজশাহী স্টার্সঢাকা ট্রিবিউন 2023, ডেইলি স্টার ও টিবিএস 2025, বাসস 2026
বড় দলীয় সাফল্যসাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ 2022 ও 2024; অনূর্ধ্ব-20 সাফ 2023; এএফসি নারী এশিয়ান কাপের মূলপর্বে প্রথমবার ওঠা (2025)ডেইলি স্টার, প্রথম আলো, ঢাকা ট্রিবিউন, ইত্তেফাক
ব্যক্তিগত পুরস্কারসাফের সেরা গোলরক্ষক 2022 ও 2024; অনূর্ধ্ব-20 সাফের সেরা গোলরক্ষক 2023; নারী ফুটবল লিগের সেরা গোলরক্ষক 2025–26ডেইলি স্টার, ঢাকা ট্রিবিউন, বাসস

রূপনা চাকমা কোথায় জন্মেছেন: ঘিলাছড়ির ভূঁইয়ো আদাম

রূপনা চাকমার জন্ম রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম ভূঁইয়ো আদামে। 2022 সালে প্রথম আলোর প্রতিবেদক সেখানে গিয়ে দেখেছিলেন, সেখানে মাত্র পাঁচটি পরিবারের বাস। বাড়ি পৌঁছাতে নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো পার হয়ে পাহাড়ি পথে হাঁটতে হয়।

প্রথম আলোর 21 সেপ্টেম্বর 2022-এর প্রতিবেদন পথটির বিবরণ দিয়েছে এভাবে: রাঙামাটি-মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়ক থেকে নেমে ইটের সলিং করা রাস্তা ধরে এগোলে বড়মহাপূরম নদের ওপর একটি বাঁশের সাঁকো পড়ে। সাঁকো পেরিয়ে বাঁয়ে 5 থেকে 7 মিনিট পাহাড়ি রাস্তা হাঁটলে বাড়ি। বাড়ির পশ্চিমে পাহাড়ি ছড়া ও জঙ্গল, পূর্বে নদী, উত্তরে জঙ্গলের ভেতর দিয়ে হাঁটাপথ, দক্ষিণে অন্য চার পরিবারের ঘর।

গ্রামের নাম পত্রিকাভেদে নানা বানানে ছাপা হয়েছে। প্রথম আলো লিখেছে ‘ভূঁইয়ো আদাম’ (একটি প্রতিবেদনে ‘ভূঁইয়োআদাম’), বাংলা ট্রিবিউন ‘ভুঁইয়া আদাম’ ও ‘ভূইয়াআদাম’, নয়া দিগন্ত ‘ভূয়ো আদাম’, আর ঢাকা ট্রিবিউনের ইংরেজি প্রতিবেদন ‘Bhuiyadham’। নামটির অর্থ বা উৎপত্তি কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি। দ্য ডেইলি স্টারের 2025 সালের একটি লেখা তাঁকে বলেছে “the girl from the Ghilachari hills of Rangamati”।

চট্টগ্রাম বিভাগের মানচিত্রে রাঙামাটি জেলা গোলাপি রঙে আর তার ভেতরে নানিয়ারচর উপজেলা গাঢ় লাল রঙে চিহ্নিত; গোলরক্ষক রূপনা চাকমা এই উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের মেয়ে
চট্টগ্রাম বিভাগে নানিয়ারচর উপজেলা (গাঢ় লাল), রাঙামাটি জেলার ভেতরে। মানচিত্র: C1MM · CC BY-SA 4.0 · উইকিমিডিয়া কমন্স

দলের আরেক তারকা ঋতুপর্ণা চাকমার বাড়ি একই জেলার কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের মগাছড়ি গ্রামে (প্রথম আলো ও বাংলা ট্রিবিউন, সেপ্টেম্বর 2022)। দুজনের বাড়ি আলাদা উপজেলায় হলেও দুজনেই ঘাগড়া উচ্চবিদ্যালয়ে পড়েছেন। ঋতুপর্ণার পূর্ণ জীবনী আছে আমাদের ঋতুপর্ণা চাকমার জীবনী, গোল ও পুরস্কার লেখায়। রাঙামাটিসহ পুরো অঞ্চলের পটভূমি পাবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম হাবে।

বাবাকে না দেখা শৈশব: মা কালাসোনা চাকমা ও চার ভাইবোন

রূপনা চাকমা তখনো মায়ের গর্ভে, যখন তাঁর বাবা মারা যান। মা কালাসোনা চাকমা নিজে প্রথম আলোকে এ কথা বলেছেন। চার সন্তানকে তিনি একা বড় করেছেন, আর রূপনা তাঁদের মধ্যে সবার ছোট। পরিবারটির আর্থিক অবস্থা যে খারাপ ছিল, সে কথা জেলা প্রশাসকও 2022 সালে প্রকাশ্যে বলেছেন।

20 সেপ্টেম্বর 2022 জেলা প্রশাসকের সফরের দিন কালাসোনা চাকমার কথা প্রথম আলো ছেপেছিল এভাবে: “রুপনা গর্ভে থাকা অবস্থায় আমার স্বামী মারা যান। অনেক কষ্ট করে রুপনাসহ চার সন্তানকে বড় করেছি। চার ভাইবোনের মধ্যে রুপনা সবার ছোট। ছোট মেয়েই সবার মুখ উজ্জ্বল করে দিয়েছে।” বাংলা ট্রিবিউন ও নয়া দিগন্তও একই তথ্য দিয়েছে যে জন্মের আগেই তিনি বাবাকে হারান।

পরিবারের বাকি সদস্যদের কথা এসেছে তাঁদের নিজেদের মুখে। প্রথম আলোকে রূপনার বড় ভাই অটিল চাকমা বলেছিলেন, “অভাবে আমরা কেউ লেখাপড়া করতে পারিনি। আমরা দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে রুপনা সবার ছোট। অন্য বোনটির বিয়ে হয়ে গেছে। সবার বড় ভাই বিয়ে করে আলাদা থাকেন।” তাঁর হিসাবে সেই সময় দুই কক্ষের ঘরে থাকতেন তিনি, তাঁর স্ত্রী, দুই সন্তান, মা ও রূপনা। রূপনা ছুটিতে বাড়ি এলে তাঁকে অন্য বাড়িতে থাকতে হতো।

বাংলা ট্রিবিউনের 23 সেপ্টেম্বর 2022-এর প্রতিবেদনে কথা বলেছেন রূপনার আরেক বড় ভাই, শান্তি জীবন চাকমা: “ছোট থেকে খেলায় আগ্রহ থাকায় পরিবার থেকে তাকে বাধা দেওয়া হয়নি।” তিনি জানান, ঘরে টিভি না থাকায় মা মাঝে মাঝে দূরে অন্যের বাড়িতে খেলা দেখতে যেতেন।

পুরোনো ঘরটির মাপ ছিল 18 ফুট দৈর্ঘ্য ও 13 ফুট প্রস্থ, দুই কক্ষের। প্রথম আলোর বিবরণে, বৃষ্টি হলে ভাঙা বেড়া ও ছালা দিয়ে পানি ঢুকত, পাশের খোলা রান্নাঘর ভেসে যেত, শৌচাগার ছিল জরাজীর্ণ, পানির ব্যবস্থা ছিল না। 2024 সালের সাফ জয়ের দিনেও কালাসোনা চাকমাকে মাঠে কাজ করতে দেখা গেছে বলে লিখেছে ঢাকা ট্রিবিউন।

গ্রামের মানুষের চোখে ছোটবেলার রূপনা কেমন ছিলেন, তার একটি সাক্ষ্য আছে বাংলা ট্রিবিউনে। ঘিলাছড়ির বাসিন্দা আলো বিকাশ চাকমা বলেন, “ছোট বেলা থেকে তার ফুটবলের প্রতি আকর্ষণ দেখেছি। সে ছেলেদের সঙ্গে মিশে ফুটবল খেলতো।”

মাঝমাঠ থেকে গোলপোস্টে: রূপনা চাকমা কীভাবে গোলরক্ষক হলেন

রূপনা চাকমা শুরুতে গোলরক্ষক ছিলেন না। ঢাকা ট্রিবিউনের 14 ফেব্রুয়ারি 2023-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বঙ্গমাতা প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে তিনি খেলতেন মিডফিল্ডার হিসেবে। স্থানীয় কোচ শান্তিমনি চাকমা তাঁকে খুঁজে পান, পরে তাঁরই পরামর্শে তিনি গোলপোস্টে দাঁড়ান। বাফুফে তাঁকে 2016 সালে গোলরক্ষক হিসেবে নারী ক্যাম্পে ডাকে।

প্রথম স্কুল আর প্রথম চোখে পড়া

নয়া দিগন্তের 20 সেপ্টেম্বর 2022-এর প্রতিবেদন বলছে, গ্রামের হাছাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির পর নানিয়ারচরে উপজেলা পর্যায়ের খেলায় তাঁর ফুটবল সবার নজরে আসে। ঢাকা ট্রিবিউন লিখেছে, তিনি কাছের একটি স্কুলে পড়তেন আর বঙ্গমাতা প্রাথমিক বিদ্যালয় টুর্নামেন্টে মিডফিল্ডে খেলতেন। একটি আঞ্চলিক ম্যাচে শান্তিমনি চাকমা তাঁর প্রতিভা লক্ষ করেন।

মগাছড়িতে আনতে তিনবারের চেষ্টা

ঢাকা ট্রিবিউনের বিবরণে, শান্তিমনি চাকমা ও বীরসেন চাকমা নামের এক শিক্ষক দুবার চেষ্টা করেও রূপনাকে কাউখালীর মগাছড়ির স্কুলে নিতে পারেননি, কারণ অভিভাবকদের আগ্রহ ছিল না। বীরসেন চাকমার এক আত্মীয় ছিলেন রূপনাদের প্রতিবেশী। তাঁর অনুরোধেই শেষে রূপনা মগাছড়িতে যান। সেখানে আরেক শিক্ষকের বাড়িতে থাকতেন, খরচও দিতেন সেই শিক্ষক।

বীরসেন চাকমা ছিলেন মগাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (প্রথম আলো ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের বানানে ‘মঘাছড়ি’) প্রধান শিক্ষক (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর 2024 সালে তাঁকে ‘সাবেক প্রধান শিক্ষক’ লিখেছে; প্রথম আলো, 2026)। এক বিদ্যালয় থেকে তিন জাতীয় ফুটবলার উঠে আসার গল্পটি আলাদা করে আছে মগাছড়ির প্রধান শিক্ষক বীরসেন চাকমার গল্প লেখায়। 2022 সালের সাফ জয়ের পর বাংলা ট্রিবিউনকে কালাসোনা চাকমা বলেছিলেন, “আমার মেয়ে শান্তিময় ও বীর সেনের সহযোগিতায় এতদূর এগ্রিয়ে গেছে।”

গোলপোস্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত

শান্তিমনি চাকমা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেছেন, দেশে গোলরক্ষকের সংকট ছিল বলেই তিনি রূপনাকে গোলরক্ষক হতে বলেন: “She agreed easily. She was also interested and gave it importance.” এরপর রূপনা মূলত গোলপোস্টেই খেলেছেন, মাঝে মাঝে পুরোনো মিডফিল্ড ভূমিকাতেও। রূপনা নিজে বলেছেন, পজিশন বদলের পর দ্রুতই গোলকিপিং ভালো লেগে যায় এবং আর কখনো মাঝমাঠে ফিরতে চাননি।

শান্তিমনি চাকমা বাফুফে ক্যাম্পে যাওয়ার আগে রূপনাকে বলেছিলেন, তিনি একদিন এশিয়ার সেরা হতে পারবেন, আর আশা করেন একদিন বিদেশি ক্লাবে খেলবেন (ঢাকা ট্রিবিউন, 2023)। প্রথম আলোর 27 জুন 2026-এর ফিচার জানায়, 2011 সালের দিকে বীরসেন চাকমার কথায় শান্তিমনি মেয়েদের দল গড়তে শুরু করেন; ঘাগড়া উচ্চবিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা হয়। ঋতুপর্ণা, মনিকা, রুপনা, আনাই মগিনী ও আনু মগিনীর যাত্রা এই কোচের হাত ধরেই শুরু হয়েছে বলে লিখেছে পত্রিকাটি।

ঘাগড়া উচ্চবিদ্যালয় আর সুইহলামং মারমা

প্রথম আলোর 21 সেপ্টেম্বর 2022-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রূপনা চাকমা 2014 সালে কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের ঘাগড়া উচ্চবিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন। খেলার ব্যস্ততায় মাঝখানে দুই বছর বিরতি দিতে হয়; 2022 সালের সেপ্টেম্বরে তিনি দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। একই বিদ্যালয়ে 2012 সালে ভর্তি হন মনিকা চাকমা, আনাই মগিনি ও আনুচিং মগিনি, আর পরে ঋতুপর্ণা চাকমা।

দ্য ডেইলি স্টারের 11 সেপ্টেম্বর 2025-এর প্রতিবেদন আরেক কোচের নাম যোগ করে। 2005 সাল থেকে আনসারের কোচ সুইহলামং মারমা 2011 থেকে 2016 সালের মধ্যে ঋতুপর্ণা, মনিকা, রূপনা চাকমা ও মগিনি বোনদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন বলে পত্রিকাটি লিখেছে। তিনি 2018 সালে সুইহলামং ফুটবল একাডেমি গড়েন, যার মেয়েরা কাউখালী উপজেলা মাঠে অনুশীলন করে।

মনিকা চাকমার জীবন ও তাঁর ‘জাদুকরী’ গোলের কথা আছে মনিকা চাকমা ও ফিফার জাদুকরী গোল লেখায়।

রূপনা চাকমা বয়সভিত্তিক দল থেকে জাতীয় দলে: 2016 থেকে 2022

বাফুফের ক্যাম্পে ঢোকার পর রূপনা চাকমা একে একে ফুটসাল দল, অনূর্ধ্ব-16, অনূর্ধ্ব-18/19 ও জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। 2018 সালের এপ্রিলে থাইল্যান্ডগামী নারী ফুটসাল দলের তালিকায় তাঁর নাম আছে, 2019 সালে এএফসি অনূর্ধ্ব-16 বাছাইয়ে স্বাগতিক মিয়ানমারের বিপক্ষে জয়ে তিনি গোলপোস্টে ছিলেন।

সময়দল / আসরযা জানা যায়উৎস
2016বাফুফে নারী ক্যাম্পগোলরক্ষক হিসেবে ডাকঢাকা ট্রিবিউন, 14 ফেব্রুয়ারি 2023
এপ্রিল 2018নারী ফুটসাল দল, থাইল্যান্ড সফরখেলোয়াড় তালিকার প্রথম নাম (ক্রমিক 07)বাফুফে কন্টিনজেন্ট তালিকা
মার্চ 2019অনূর্ধ্ব-16, এএফসি বাছাই, মিয়ানমারের মান্দালা থিরি স্টেডিয়ামমিয়ানমারকে 1-0 হারানোর ম্যাচে 63 মিনিটে এগিয়ে এসে আক্রমণ ঠেকানদ্য ডেইলি স্টার
19 মার্চ 2022সাফ অনূর্ধ্ব-18, জামশেদপুরভারতের কাছে 0-1 হার; 63 মিনিটে তাঁর হাত ফসকানো বল থেকে গোলদ্য ডেইলি স্টার
2018–2021সাফ অনূর্ধ্ব-18 (2018), বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-19 গোল্ডকাপ (2019), সাফ অনূর্ধ্ব-19 (2021)তিনটিতেই শিরোপাজয়ী দলের সদস্যইংরেজি উইকিপিডিয়ার সম্মাননা-তালিকা

2022 সালের মার্চের ম্যাচটি তাঁর ক্যারিয়ারের কঠিন এক রাত। দ্য ডেইলি স্টার শিরোনাম দিয়েছিল “Valiant Rupna’s error costs Bangladesh”। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েকটি সাহসী সেভে তিনি দলকে ম্যাচে রেখেছিলেন। তারপর Ritu Devi-র একটি সাধারণ ক্রস ধরতে না পারায় Nitu Linda গোল করেন। একই প্রতিবেদন জানায়, রূপনা তখনই সিনিয়র দলেরও গোলরক্ষক।

সিনিয়র দলে তাঁর অভিষেক কোন ম্যাচে, তা এই লেখার জন্য পড়া সংবাদ-উৎসে পাওয়া যায়নি; ইংরেজি উইকিপিডিয়া অভিষেকের বছর লিখেছে 2019। জাতীয় দলে তাঁর মোট ম্যাচসংখ্যা নিয়েও সরকারি কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি। ইংরেজি উইকিপিডিয়া 21 সেপ্টেম্বর 2026 পর্যন্ত হালনাগাদ করা হিসাবে 41 ম্যাচ দেখায়, বাংলা উইকিপিডিয়ার পুরোনো হিসাবে 15।

2022 সালের সাফে রূপনা চাকমা কেন সেরা গোলরক্ষক হলেন

2022 সালের সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ পাঁচ ম্যাচে 23 গোল দিয়েছিল, হজম করেছিল একটি। পাঁচটি ম্যাচেই গোলপোস্টে ছিলেন রূপনা চাকমা, আর একমাত্র গোলটি এসেছিল ফাইনালের 70 মিনিটে, নেপালের Anita Basnet-এর শটে। এই হিসাবেই 19 সেপ্টেম্বর 2022 কাঠমান্ডুতে তিনি টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষক নির্বাচিত হন।

তারিখ (2022)প্রতিপক্ষফলবাংলাদেশের জালে গোল
7 সেপ্টেম্বরমালদ্বীপ3-0 জয়0
10 সেপ্টেম্বরপাকিস্তান6-0 জয়0
13 সেপ্টেম্বরভারত3-0 জয়0
16 সেপ্টেম্বর (সেমিফাইনাল)ভুটান8-0 জয়0
19 সেপ্টেম্বর (ফাইনাল)নেপাল3-1 জয়1 (70 মিনিট)

ম্যাচের তারিখ ও স্কোর: ইংরেজি উইকিপিডিয়ার টুর্নামেন্ট-পাতা; মোট 23 গোল দেওয়া, 1 গোল খাওয়া ও পাঁচ ম্যাচে রূপনার খেলার তথ্য দ্য ডেইলি স্টার (19 সেপ্টেম্বর 2022) ও প্রথম আলো (6 ফেব্রুয়ারি 2023) থেকে।

প্রথম আলো 2023 সালে লিখেছে, এই টুর্নামেন্টের আগে রূপনার একটা ‘বাজে অভ্যাস’ ছিল: ডিফেন্ডারদের ওপর ভরসা না রেখে হুটহাট জায়গা ছেড়ে বেরিয়ে আসা, বক্সে বল ধরবেন কি না তা নিয়ে দ্বিধা। কাঠমান্ডুতে প্রতিটি ম্যাচে তিনি ছিলেন শান্ত; কখনো ফিস্ট করে বল সরিয়েছেন, কখনো লাফিয়ে লুফে নিয়েছেন।

দুই বছর পর প্রথম আলোর সাক্ষাৎকারে রূপনা চাকমা নিজেই দুটি পুরস্কারের মধ্যে 2022-এরটিকে এগিয়ে রেখেছেন: “গতবার পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল খেয়েছিলাম, নেপালের বিপক্ষে ফাইনালে।”

দেশে ফেরার আগেই তিনি সামাজিক মাধ্যমে নিজের অনুভূতি লিখেছিলেন। দ্য ডেইলি স্টার বাংলা সেই পোস্টের অংশ ছেপেছে: “জানিনা এইসব আমার পাওয়ার যোগ্য কিনা তবে আমি জীবন বাজি রেখে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনতে চাই।… শুধু এখানে নয় আমি আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে চাই এবং বাংলাদেশের নারী ফুটবলকে আরো বড় আকারে প্রতিনিধিত্ব করতে চাই।”

অনূর্ধ্ব-20 সাফ 2023: ‘এমিলিয়ানো মার্তিনেজ’-এর সঙ্গে তুলনা

সিনিয়র সাফের পাঁচ মাসের মাথায়, 2023 সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় অনূর্ধ্ব-20 সাফেও সেরা গোলরক্ষক হন রূপনা চাকমা। ঢাকা ট্রিবিউনের হিসাবে সেই আসরে তিনি টানা তিন ম্যাচে গোল খাননি, পুরো টুর্নামেন্টে হজম করেছেন একটি। দুই আসরেই বাংলাদেশ শিরোপা জেতে।

ফেব্রুয়ারি 2023-এ কমলাপুরে ভারতের বিপক্ষে ড্র ম্যাচে সাত মিনিটে সুমিতা কুমারী একা বক্সে ঢুকে দূরের পোস্টে শট নেন; রূপনা পা বাড়িয়ে তা ঠেকান। প্রথম আলো সেভটিকে কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালে এমিলিয়ানো মার্তিনেজের সেভের সঙ্গে তুলনা করে শিরোনাম দেয়। ম্যাচ শেষে ভারতের কোচ ময়মল রকি বলেন, তাঁর সেভগুলোর কারণেই ভারত জিততে পারেনি।

রূপনা নিজে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, “আসলে যখন বল আসে তখন ডিফেন্স ভাঙার পর আমার ওপরই সব ভরসা থাকে দলের। জানি বল এলে আমাকে সেভ দিতেই হবে।” তিনি জানান, বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখেছিলেন বসুন্ধরা কিংস ক্লাবে বসে, আর তাঁর প্রিয় গোলরক্ষক ব্রাজিলের আলিসন বেকার। ঢাকা ট্রিবিউনকেও তিনি আলিসনের কথা বলেছেন।

এই সময়েই ঢাকা ট্রিবিউনকে প্রায় 13 বছর ধরে নারী দলের প্রধান কোচ গোলাম রব্বানী বলেন, রূপনা বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা নারী গোলরক্ষক: “Her specialty is that she has tremendous mental strength.” বল ধরার আগেই কাকে পাস দেবেন তা ঠিক করে রাখেন বলে জানিয়েছিলেন রূপনা; বারবার অনুশীলনে এটা অভ্যাস হয়ে গেছে।

2024 সালের সাফ: রূপনা চাকমা টানা দ্বিতীয়বার সেরা গোলরক্ষক

2024 সালের অক্টোবরে কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ টানা দ্বিতীয়বার সাফ জেতে, আর রূপনা চাকমা আবার সেরা গোলরক্ষক হন। এবার তিনি চার ম্যাচ খেলেন, প্রতিটিতে একটি করে মোট চার গোল হজম করেন (দ্য ডেইলি স্টার বাংলা ও প্রথম আলো)। 30 অক্টোবর ফাইনালে নেপালকে 2-1 গোলে হারায় বাংলাদেশ।

তারিখ (2024)প্রতিপক্ষফলবাংলাদেশের জালে গোল
20 অক্টোবরপাকিস্তান1-1 ড্র1
23 অক্টোবরভারত3-1 জয়1
27 অক্টোবর (সেমিফাইনাল)ভুটান7-1 জয়1
30 অক্টোবর (ফাইনাল)নেপাল2-1 জয়1

তারিখ ও স্কোর: ইংরেজি উইকিপিডিয়ার টুর্নামেন্ট-পাতা; ভারত ম্যাচের 3-1, সেমিফাইনালের 7-1 ও ফাইনালের 2-1 প্রথম আলোর সাক্ষাৎকার ও প্রতিবেদনেও আছে।

ভারতের বিপক্ষে খাওয়া গোলটি নিয়ে রূপনা চাকমা প্রথম আলোকে (4 নভেম্বর 2024) খোলাখুলি বলেছেন: “খুবই বাজে গোল খেয়েছি। সহজ একটা বল এল, শুধু গ্রিপ করব, তখনই কী যেন হলো! হাত ফসকে বেরিয়ে গেল। কপাল খারাপ বলটা হাত থেকে বের হয়ে ভারতের বালা দেবীর হেডের নাগালে গেল।”

ফাইনালের আগের রাতের কথাও তিনি বলেছেন: “আগের রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনি। কিছুই খেতে পারছিলাম না। সাবিনা আপুসহ অন্যরা বুঝিয়েছে, টেনশন করা মানে নিজেদের খেলার ক্ষতি করা।” ঋতুপর্ণা চাকমার 81 মিনিটের জয়সূচক গোলটি তিনি মাঠের অন্য প্রান্ত থেকে ভালো দেখতে পাননি, পরে ভিডিওতে দেখে অবিশ্বাস্য লেগেছে।

এই আসরেই কোচ পিটার বাটলারের সঙ্গে খেলোয়াড়দের দূরত্বের খবর আসে। সে বিষয়ে প্রশ্নে রূপনার উত্তর ছিল, “দূরত্ব তৈরি হওয়া নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। তবে কোচ হিসেবে পিটার বাটলার অনেক ভালো।” ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, “আমি বিদেশি লিগে খেলতে চাই। আর দেশে নিয়মিত লিগ আয়োজিত হোক, সেটা চাই।”

2 নভেম্বর 2024 ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সাফজয়ী দলের সংবর্ধনায় সেরা গোলরক্ষকের ট্রফি হাতে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ছবি তোলেন; পিআইডির সেই ছবিই এই লেখার প্রধান ছবি। পরে রাঙামাটির চিং হ্লা মং মারী স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসনসহ সর্বস্তরের মানুষের আয়োজনে ঋতুপর্ণা, মনিকা ও রূপনা চাকমাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়; প্রত্যেককে এক লাখ টাকা এবং পৌরসভা ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে 50 হাজার টাকা করে দেওয়া হয় (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর, 23 নভেম্বর 2024)।

সাফজয়ী দলে পাহাড়ের অন্য মেয়েরা কে কোন গ্রামের, কোন টুর্নামেন্টে কী করেছেন, তার পূর্ণ তালিকা আছে সাফজয়ী নারী দলে পাহাড়ের মেয়েরা লেখায়।

রূপনা চাকমার ঘর: ঘোষণা থেকে চাবি পর্যন্ত কালানুক্রম

2022 সালের সাফ জয়ের পর রূপনা চাকমার জীর্ণ ঘরের ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। 21 সেপ্টেম্বর 2022 জেলা প্রশাসন জানায়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর পরিবারের জন্য ঘর বানানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এলজিইডির তত্ত্বাবধানে 13 লাখ 68 হাজার টাকায় তৈরি ঘরটির চাবি দেওয়া হয় 16 ফেব্রুয়ারি 2023, আর পরিবার সেখানে ওঠে 14 এপ্রিল 2023।

তারিখঘটনাউৎস
20 সেপ্টেম্বর 2022 (মঙ্গলবার)রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বাড়িতে গিয়ে কালাসোনা চাকমার হাতে দেড় লাখ টাকার চেক দেন; ঘর ও সাঁকো পাকা করার আশ্বাসপ্রথম আলো, বাংলা ট্রিবিউন, ঢাকা ট্রিবিউন
21 সেপ্টেম্বর 2022 (বুধবার)ফেসবুকে বাড়ির লাইভ ভিডিও ভাইরাল; প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ঘর বানানোর নির্দেশ; ইউএনও এলজিইডির প্রকৌশলী নিয়ে জায়গা মাপতে যানদ্য ডেইলি স্টার বাংলা, প্রথম আলো, বাংলা ট্রিবিউন
22 সেপ্টেম্বর 2022 (বৃহস্পতিবার)ইউএনও 32 ইঞ্চি টেলিভিশন ও ডিটিএইচ ডিশ অ্যানটেনা পৌঁছে দেন; জমি মাপা শেষপ্রথম আলো, বাংলা ট্রিবিউন
16 ফেব্রুয়ারি 2023 (বৃহস্পতিবার)জেলা প্রশাসক কালাসোনা চাকমার হাতে নতুন ঘরের চাবি দেনদ্য ডেইলি স্টার বাংলা, প্রথম আলো
10 এপ্রিল 2023রূপনা ছুটিতে গ্রামে ফেরেনপ্রথম আলো
14 এপ্রিল 2023ভিক্ষু ডেকে পূজা-অর্চনার পর মা-মেয়ে নতুন ঘরে ওঠেন; সেখানেই বিজু উদ্‌যাপনপ্রথম আলো

ঘরটি কেমন, খরচ কত

প্রথম আলোর 17 ফেব্রুয়ারি 2023-এর প্রতিবেদন উপজেলা প্রশাসনের বরাতে জানায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে 30 শতক জমিতে 925 বর্গফুটের ঘরটি বানানো হয়েছে, খরচ 13 লাখ 68 হাজার টাকা। ঘরটি টিনের ছাউনির আধা পাকা। জেলা প্রশাসক বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় ঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে।

পরিবার শুরুতে ঘরে ওঠেনি। কালাসোনা চাকমা প্রথম আলোকে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন বলে শুনেছেন, তারপর উঠবেন; আর ওঠার আগে ভিক্ষু ডেকে পূজা-অর্চনা করবেন। শেষ পর্যন্ত মেয়ে বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করেন। 14 এপ্রিল, বাংলা নববর্ষের দিনে, মা-মেয়ে নতুন ঘরে ওঠেন।

নতুন ঘরে প্রথম বিজুর পর রূপনা চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, “দীর্ঘদিন পর বাড়িতে এসেছি। নতুন ঘর দেখে আমি খুশি ও আনন্দিত। ঘরের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। নতুন ঘরে বিজু উৎসবে অনেক মজা করেছি।” বিজুর খাবার পাজন নিয়ে বিস্তারিত পড়তে পারেন পাজন কী, বিজুর খাবারে কত পদের সবজি লেখায়।

ঘরে ওঠার পর কালাসোনা চাকমা একটি অসুবিধার কথা জানান: টিনের নিচে ছাদ না থাকায় গরম অনেক বেশি; বিদ্যুৎসংযোগ আছে, কিন্তু তখনো ফ্যান লাগানো হয়নি। নানিয়ারচরের ইউএনও মুহাম্মদ শাহরিয়ার মুক্তার বলেন, ঘরের কোনো কাজ বাকি নেই, সম্পূর্ণ শেষ করেই বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে (প্রথম আলো, 21 এপ্রিল 2023)।

টেলিভিশন আসার রাত

ঘরের আগে এসেছিল একটি টেলিভিশন। প্রথম আলো লিখেছে, যেখানে “নুন আনতেই পান্তা ফুরায়”, সেখানে টিভি ছিল বিলাসিতা; বড় ভাই অটিল চাকমার কথায়, পরিবার রূপনার খেলা দেখত অন্যের মোবাইলে। 22 সেপ্টেম্বর 2022 রাতে টিভি চালু হলে আশপাশের কয়েক বাড়ির মানুষ মিলে দেখেন। কালাসোনা চাকমা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “এখন নিজের বাড়িতে বসে রূপনার খেলা টিভিতে দেখতে পাবো।”

বাঁশের সাঁকো আর রাস্তার প্রতিশ্রুতি: পরে কী জানা গেছে

ঘর তৈরি হয়েছে, কিন্তু রাস্তা ও সেতুর খবর ভিন্ন। 2022 সালের সেপ্টেম্বরে জেলা প্রশাসক বাড়ির পথের বাঁশের সাঁকো পাকা করা ও সড়ক তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন। 2024 সালের অক্টোবরে কালাসোনা চাকমা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, রাস্তা হওয়ার কথা হয়েছিল, কিন্তু কিছুই হয়নি।

প্রতিশ্রুতির দলিল তিনটি প্রতিবেদনে আছে। বাংলা ট্রিবিউন (20 সেপ্টেম্বর 2022) লিখেছে, জেলা প্রশাসক নানিয়ারচরের ইউএনওকে নতুন ঘর নির্মাণ এবং “তার বাড়িতে যাওয়ার সড়কটি তৈরি করে দেওয়ার” নির্দেশ দেন, আর পথের বাঁশের সেতুটি পাকা করার আশ্বাস দেন। দ্য ডেইলি স্টার বাংলা লিখেছে, তিনি “এলাকাবাসীর যাতায়াতের সুযোগ-সুবিধার জন্য ব্রিজ নির্মাণের ঘোষণা” দেন। ঢাকা ট্রিবিউনও সেতু ও ঘরের আশ্বাসের কথা ছেপেছে।

রূপনা চাকমা নিজেও সেদিন সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিলেন, জেলা প্রশাসক “আমাদের গ্রামে বাঁশের ভাঙ্গা সেতুটা নতুন করে পাকা ব্রিজ করে দেওয়ার জন্য কথা দিয়েছেন” (দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, 21 সেপ্টেম্বর 2022)।

পাঁচ মাস পরে, চাবি হাতে পাওয়ার দিন, কালাসোনা চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম থেকে আসতে একটি ছড়া পার হতে হয়, রাস্তাটিও ঝুঁকিপূর্ণ; ছড়ায় একটি সেতু ও একটি রাস্তা দরকার। তাঁর যুক্তি ছিল, আগে এখানে কেউ আসত না, রূপনার কারণে এখন অনেক মানুষ আসেন।

দ্বিতীয় সাফ জয়ের পরদিন, 31 অক্টোবর 2024, ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে (ছবি: বাংলা ট্রিবিউন) কালাসোনা চাকমার কথা: “There was talk of building a road, but nothing has happened. No one has kept in touch, and no one has checked in all this time.” একই প্রতিবেদন জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত জেলা ক্রীড়া সংস্থা, স্থানীয় বা জেলা প্রশাসনের কেউ দুই পরিবারের বাড়িতে যাননি।

এই লেখা তৈরির সময় (নভেম্বর 2026) পর্যন্ত সাঁকোটি পাকা হয়েছে বা রাস্তা তৈরি হয়েছে, এমন কোনো সংবাদ বা সরকারি নথি পাওয়া যায়নি।

রূপনা চাকমা কোন ক্লাবে খেলেন: বসুন্ধরা কিংস, ভুটান, রাজশাহী স্টার্স

রূপনা চাকমা দেশের লিগে খেলেছেন বসুন্ধরা কিংসে, 2025 সালে খেলতে গেছেন ভুটানে, আর 2025–26 মৌসুমে রাজশাহী স্টার্সের হয়ে নারী ফুটবল লিগ জিতে লিগের সেরা গোলরক্ষক হয়েছেন। এএফসির ফেব্রুয়ারি 2026-এর তালিকাতেও তাঁর ক্লাব রাজশাহী স্টার্স এফসি।

বসুন্ধরা কিংস। ঢাকা ট্রিবিউন ফেব্রুয়ারি 2023-এ তাঁকে লিখেছে “the Bashundhara Kings goalie”, আর প্রথম আলো জানায় তিনি 2022 সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখেছেন বসুন্ধরা কিংস ক্লাবে বসে। ক্লাবটিতে তিনি কোন বছর যোগ দেন, তা সংবাদ-উৎসে পাওয়া যায়নি।

ভুটান, 2025। 13 এপ্রিল 2025 পাঁচ বাংলাদেশি খেলোয়াড় ভুটানের নারী জাতীয় লিগে খেলতে থিম্পু যান, তাঁদের একজন রূপনা চাকমা। দ্য ডেইলি স্টার ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড দুটিই লিখেছে, মাসুরা পারভীন ও রূপনা খেলবেন Thimphu City FC-তে, বাকি তিনজন Transport United-এ। লিগ শুরু হওয়ার কথা ছিল 25 এপ্রিল, চলার কথা চার মাস।

রাজশাহী স্টার্স, 2025–26। বাসস জানায়, 13 ফেব্রুয়ারি 2026 কমলাপুরে শেষ হওয়া নারী ফুটবল লিগে চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী স্টার্সের গোলপোস্টে “brilliant performance”-এর জন্য রূপনা লিগের সেরা গোলরক্ষক হন। সেরা খেলোয়াড় ও সেরা গোলরক্ষক দুজনই পেয়েছেন 50 হাজার টাকা করে।

বাটলারের ছকে ‘সুইপার-কিপার’ আর 2025 সালের বয়কট

ইংলিশ কোচ পিটার বাটলারের আক্রমণাত্মক 3-4-3 ছকে রূপনা চাকমা হয়ে ওঠেন ‘সুইপার-কিপার’: উঁচু রক্ষণরেখার পেছনের ফাঁকা জায়গা তিনি বেরিয়ে এসে সামলান। দ্য ডেইলি স্টার 2025 সালের জুলাইয়ে তাঁকে ডেকেছিল “The Eagle”। এর আগে, 2025 সালের শুরুতে, বাটলারের বিরুদ্ধে বয়কট করা 18 সিনিয়র খেলোয়াড়ের তালিকায় তাঁর নামও ছিল।

বয়কট, জানুয়ারি থেকে এপ্রিল 2025

ইউএনবির 20 ফেব্রুয়ারি 2025-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের নেতৃত্বে 18 সিনিয়র খেলোয়াড় প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বাটলারের অনুশীলন বর্জন করছিলেন। তাঁরা মানসিক হয়রানি, গালাগাল, বডি শেমিং ও বৈষম্যসহ নানা অভিযোগ তুলেছিলেন। বাফুফে সেদিন সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের দল ঘোষণা করে এই 18 জনকে বাদ দিয়ে; ইউএনবির তালিকায় রূপনা চাকমার নাম আছে।

দ্য ডেইলি স্টার জানায়, 8 এপ্রিল 2025 বিদ্রোহী 18 জনের বেশির ভাগ বাটলারের অধীনে অনুশীলনে যোগ দেন। পাঁচ দিন পর রূপনা ভুটানের লিগে খেলতে যান। সেদিনের (13 এপ্রিল) ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী তখনো 18 সিনিয়র খেলোয়াড়ের কেউ ফেডারেশনের সঙ্গে চুক্তি করেননি।

‘দ্য ঈগল’: এশিয়ান কাপ বাছাই, জুন-জুলাই 2025

ইয়াঙ্গুনে এএফসি নারী এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশ বাহরাইনকে 7-0, মিয়ানমারকে 2-1 ও তুর্কমেনিস্তানকে 7-0 গোলে হারিয়ে প্রথমবার মূলপর্বে ওঠে; তিন ম্যাচে 16 গোল দিয়ে খায় একটি, মিয়ানমারের বিপক্ষে (ইত্তেফাক, ইউএনবির বরাতে)। দ্য ডেইলি স্টারের শাবাব চৌধুরী লিখেছেন, এই সাফল্যের আলো বেশির ভাগ পড়েছে বাটলারের ছক আর গোলের ওপর, কিন্তু দলকে জুড়ে রেখেছেন রূপনা চাকমা।

তাঁর ব্যাখ্যায়, ফুলব্যাকহীন 3-4-3 ছকের বড় দুর্বলতা রক্ষণের পেছনের জায়গা। প্রতিপক্ষ বারবার সেই জায়গায় বল পাঠিয়েছে, আর রূপনা দ্রুত লাইন ছেড়ে বেরিয়ে এসে ট্যাকল, ক্লিয়ারেন্স ও আক্রমণ শুরু করার পাস দিয়েছেন। লেখাটির ভাষায়, “She stands at just a little over five feet, but when the Bangladesh No. 1 spreads her wings, the entire box feels covered.”

2026 সালে রূপনা চাকমা: এশিয়ান কাপ, সাফ ও এশিয়ান গেমস

2026 সালে রূপনা চাকমা প্রথম একাদশের জায়গা হারান, তারপর আবার ফেরেন। মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় এএফসি নারী এশিয়ান কাপের প্রথম ম্যাচে বাটলার গোলে নামান Mile Akter-কে; জুনের সাফ ফাইনালেও গোলপোস্টে ছিলেন Mile। সেপ্টেম্বরে জাপানে এশিয়ান গেমসে মিয়ানমারের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ে আবার রূপনাই দলের সেরা পারফরমার।

এশিয়ান কাপ, মার্চ 2026

3 মার্চ 2026 সিডনিতে নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচের একাদশে রূপনার জায়গায় Mile Akter-এর নাম দেখে অনেকে অবাক হন, লিখেছে দ্য ডেইলি স্টার। পত্রিকাটির বিশ্লেষণ, রক্ষণাত্মক পরিকল্পনায় বাটলার উঁচু রক্ষণরেখা থেকে সরে এসেছেন, যেখানে রূপনার বল-পায়ে দক্ষতা কাজে লাগে; তার বদলে লম্বা গোলরক্ষক বেছে নিয়েছেন। গোলরক্ষক কোচ Masud Ahmed পরে জানান, এই পরিকল্পনা অন্তত দুই মাস আগে থেকে চলছিল।

বাংলাদেশ চীনের কাছে 0-2, উত্তর কোরিয়ার কাছে 0-5 ও উজবেকিস্তানের কাছে 0-4 গোলে হেরে প্রথম এশিয়ান কাপ শেষ করে (দ্য ডেইলি স্টার, ঢাকা ট্রিবিউন, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস)। তিন ম্যাচের যে প্রতিবেদনগুলো পড়া হয়েছে, সবগুলোতেই বাংলাদেশের গোলরক্ষক হিসেবে Mile Akter-এর নাম; রূপনা চাকমা কোনো ম্যাচে মাঠে নেমেছেন, এমন উল্লেখ সেগুলোতে নেই।

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ, জুন 2026

6 জুন 2026 গোয়ার মারগাওয়ে ফাইনালে ভারতের কাছে 1-3 গোলে হেরে টানা তৃতীয় শিরোপা হাতছাড়া করে বাংলাদেশ। দ্য অ্যাওয়ে এন্ড ও ইন্ডিয়া স্পোর্টস হাবের ম্যাচ-প্রতিবেদনে বাংলাদেশের গোলরক্ষকের নাম Mile Akter। আসরের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার পান ভারতের Panthoi Chanu Elangbam। রূপনা এই আসরের অন্য ম্যাচগুলোতে খেলেছেন কি না, তা পড়া উৎসগুলোতে নেই।

এশিয়ান গেমস, সেপ্টেম্বর 2026

জাপানে এশিয়ান গেমসের গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ 14 সেপ্টেম্বর ওসাকায় উত্তর কোরিয়ার কাছে 0-10 গোলে হারে, পরে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছেও হারে। শেষ ম্যাচে মিয়ানমারের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র নিয়ে তিন ম্যাচে এক পয়েন্ট পেয়ে গ্রুপে চতুর্থ হয়। দ্য ডেইলি স্টারের 21 সেপ্টেম্বর 2026-এর প্রতিবেদনের শিরোনাম: “Rupna stands tall but Bangladesh finish bottom after Myanmar draw”।

প্রতিবেদনটি জানায়, শুরুতে ডিফেন্ডার Airin Khatun-এর দুটি ভুলে রক্ষণ উন্মুক্ত হলেও দুবারই রূপনা লাইন ছেড়ে বেরিয়ে আক্রমণ থামান। 77 মিনিটে মিয়ানমারের বদলি Myat Noe Khin-এর শট তিনি পা বাড়িয়ে ঠেকান। 2019 সালের অনূর্ধ্ব-16 বাছাইয়ের প্রতিবেদনেও Myat Noe Khin-কে 63 মিনিটে রূপনার এগিয়ে এসে আটকানোর বিবরণ আছে (দ্য ডেইলি স্টার, 2019)। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে 0-10 ম্যাচে গোলপোস্টে কে ছিলেন, তা পড়া প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

মাঠের বাইরে রূপনা চাকমা যা বলেছেন

মাঠের বাইরে রূপনা চাকমার প্রকাশ্য বক্তব্য খুব বেশি প্রতিবেদনে আসেনি; যা এসেছে তা নিচে। 2025 সালের সেপ্টেম্বরে খাগড়াছড়িতে এক আদিবাসী স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনার পর উত্তেজনার সময় তিনি ধর্ষণের বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার ডাক দেন। এর আগে 2024 সালে বলেছেন, তিনি বিদেশি লিগে খেলতে চান আর দেশে নিয়মিত লিগ চান।

দ্য ডেইলি স্টারের 29 সেপ্টেম্বর 2025-এর প্রতিবেদনে পাহাড়ের কয়েকজন ক্রীড়াবিদের বক্তব্য ছাপা হয়: রূপনা ও মনিকা চাকমা, পুরুষ দলের গোলরক্ষক Mitul Marma, বক্সার Suro Krishna Chakma। পত্রিকাটি জানায়, ঘটনার জেরে আগের রোববার তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী রূপনা দেশে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং লেখেন, “Speaking in favour of rapists is, in itself, a form of complicity… We are all citizens of Bangladesh… All I want is a peaceful and just Bangladesh — for me and for all of us.”

খেলা নিয়ে তাঁর নিজের কথাগুলোও প্রতিবেদনে ছড়িয়ে আছে। ঢাকা ট্রিবিউনকে 2023 সালে বলেছিলেন, এক সময় প্রতিপক্ষের সঙ্গে একা মুখোমুখি হতে ভয় পেতেন, ম্যাচ খেলতে খেলতে সেটা কেটে গেছে। গোল খেলে নার্ভাস লাগে, আর দল গোল করলে মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় সতীর্থদের সঙ্গে উদ্‌যাপন করতে, কিন্তু গোলরক্ষক হিসেবে তা পারেন না।

উৎসভেদে অমিল

রূপনা চাকমাকে নিয়ে প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে ছয়টি জায়গায় অমিল আছে। প্রতিটি এক বাক্যে, উৎসের নামসহ:

  • 2024 সাফে গোল হজম। দ্য ডেইলি স্টার বাংলা ও প্রথম আলো বলছে রূপনা চার ম্যাচে মোট 4 গোল খেয়েছেন, প্রতি ম্যাচে একটি; দ্য ডেইলি অবজারভার (30 অক্টোবর 2024) বলছে চার ম্যাচে বাংলাদেশ হজম করেছে মাত্র দুটি গোল।
  • নতুন ঘর কবে। প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার বাংলা বলছে চাবি দেওয়া হয় 16 ফেব্রুয়ারি 2023; ঢাকা ট্রিবিউনের 31 অক্টোবর 2024-এর প্রতিবেদন বলছে নতুন ঘর বানানো হয়েছে “in September this year”।
  • নতুন ঘরে কয়টি শোবার ঘর। প্রথম আলো (17 ফেব্রুয়ারি 2023) ও দ্য ডেইলি স্টার বাংলায় কালাসোনা চাকমার বক্তব্য অনুযায়ী তিনটি; প্রথম আলোর 21 এপ্রিল 2023-এর প্রতিবেদন লিখেছে একটি শোবার ঘর ও একটি বসার ঘর।
  • ভুটানের ক্লাব। দ্য ডেইলি স্টার ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (13 এপ্রিল 2025) বলছে Thimphu City FC; ইংরেজি উইকিপিডিয়া বলছে Transport United Ladies।
  • নানিয়ারচরের ইউএনওর নাম (সেপ্টেম্বর 2022)। প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার বাংলা লিখেছে মো. ফজলুর রহমান; বাংলা ট্রিবিউনের 20 সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বজলুর রহমান।
  • জাতীয় দলে ম্যাচসংখ্যা। ইংরেজি উইকিপিডিয়া 41, বাংলা উইকিপিডিয়া 15; কোনোটির সঙ্গে বাফুফের সরকারি হিসাব পাওয়া যায়নি।

প্রশ্নোত্তর

রূপনা চাকমার জন্ম কবে ও কোথায়?

এএফসির 2026 সালের এশিয়ান কাপ নিবন্ধন তালিকা অনুযায়ী রূপনা চাকমার জন্ম 2 জানুয়ারি 2004। তাঁর গ্রাম রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের ভূঁইয়ো আদাম (প্রথম আলো, 2022)। গ্রামের নাম পত্রিকাভেদে ‘ভুঁইয়া আদাম’ বা ‘ভূয়ো আদাম’ বানানেও ছাপা হয়েছে।

রূপনা চাকমার বাবা-মা কে?

মায়ের নাম কালাসোনা চাকমা। মা নিজে প্রথম আলোকে বলেছেন, রূপনা যখন গর্ভে, তখন তাঁর স্বামী মারা যান; চার সন্তানকে তিনি একা বড় করেছেন। বাবার নাম এই লেখার জন্য পড়া কোনো প্রতিবেদনে নেই। রূপনা চার ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট।

রূপনা চাকমা কয়বার সাফের সেরা গোলরক্ষক হয়েছেন?

সিনিয়র সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে দুবার: 2022 সালে (পাঁচ ম্যাচে এক গোল হজম) ও 2024 সালে (চার ম্যাচে চার গোল হজম), দুবারই কাঠমান্ডুতে। এর মাঝে 2023 সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় অনূর্ধ্ব-20 সাফেও তিনি সেরা গোলরক্ষক হন (ঢাকা ট্রিবিউন)।

রূপনা চাকমা কি শুরু থেকেই গোলরক্ষক ছিলেন?

না। ঢাকা ট্রিবিউনের 14 ফেব্রুয়ারি 2023-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী বঙ্গমাতা প্রাথমিক বিদ্যালয় টুর্নামেন্টে তিনি মিডফিল্ডার ছিলেন। কোচ শান্তিমনি চাকমা দেশে গোলরক্ষকের সংকট দেখে তাঁকে পজিশন বদলাতে বলেন, তিনি সহজেই রাজি হন। বাফুফে 2016 সালে তাঁকে গোলরক্ষক হিসেবে ক্যাম্পে ডাকে।

রূপনা চাকমা কোন স্কুলে পড়েছেন?

নয়া দিগন্তের তথ্যে প্রথমে গ্রামের হাছাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে; ঢাকা ট্রিবিউন জানায় পরে কাউখালীর মগাছড়ির স্কুলে যান। প্রথম আলো অনুযায়ী 2014 সালে কাউখালীর ঘাগড়া উচ্চবিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন; খেলার কারণে দুই বছর বিরতির পর 2022 সালে দশম শ্রেণিতে পড়তেন।

রূপনা চাকমার পরিবারকে কে ঘর বানিয়ে দিয়েছে?

2022 সালের সাফ জয়ের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ঘরটি বানায়, এলজিইডির তত্ত্বাবধানে, আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে বিশেষ ব্যবস্থায়। প্রথম আলোর হিসাবে 30 শতক জমিতে 925 বর্গফুটের ঘর, খরচ 13 লাখ 68 হাজার টাকা। চাবি দেওয়া হয় 16 ফেব্রুয়ারি 2023।

রূপনা চাকমার বাড়ির রাস্তা কি হয়েছে?

পড়া কোনো উৎসে রাস্তা বা সেতু তৈরির খবর নেই। 2022 সালের সেপ্টেম্বরে জেলা প্রশাসক বাঁশের সাঁকো পাকা করা ও সড়ক তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন (বাংলা ট্রিবিউন)। 2023 সালের ফেব্রুয়ারিতে মা সেতু ও রাস্তার দাবি জানান, আর 31 অক্টোবর 2024 ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, রাস্তার কথা হলেও কিছুই হয়নি।

রূপনা চাকমা এখন কোন ক্লাবে খেলেন?

এএফসির ফেব্রুয়ারি 2026-এর নিবন্ধন তালিকায় তাঁর ক্লাব রাজশাহী স্টার্স এফসি। বাসস জানায়, 2025–26 নারী ফুটবল লিগে চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী স্টার্সের হয়ে খেলে তিনি লিগের সেরা গোলরক্ষক হয়েছেন, পুরস্কার 50 হাজার টাকা। এর আগে খেলেছেন বসুন্ধরা কিংসে, আর 2025 সালে ভুটানের থিম্পু সিটিতে।

রূপনা চাকমার উচ্চতা কত?

এএফসির 2026 সালের এশিয়ান কাপ নিবন্ধন তালিকায় রূপনা চাকমার উচ্চতা 157 সেন্টিমিটার, জার্সি নম্বর 1। দ্য ডেইলি স্টার 2025 সালে লিখেছে, তিনি পাঁচ ফুটের সামান্য বেশি লম্বা। 2026 সালের এশিয়ান কাপে বাটলার চীনের বিপক্ষে লম্বা গোলরক্ষক Mile Akter-কে নামানোর পেছনে উচ্চতার যুক্তি দেওয়া হয়েছিল।

2026 সালের এশিয়ান কাপে রূপনা চাকমা খেলেছেন কি?

তিনি এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত দলে ছিলেন (ঢাকা ট্রিবিউন)। কিন্তু চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের যে প্রতিবেদনগুলো পড়া হয়েছে, সবগুলোতে গোলরক্ষক Mile Akter। রূপনা মাঠে নেমেছেন, এমন উল্লেখ সেগুলোতে নেই। বাংলাদেশ তিন ম্যাচেই হেরেছিল।

রূপনা চাকমার প্রিয় গোলরক্ষক কে?

ব্রাজিলের আলিসন বেকার। রূপনা প্রথম আলো (6 ফেব্রুয়ারি 2023) ও ঢাকা ট্রিবিউন (14 ফেব্রুয়ারি 2023) দুই জায়গাতেই এ কথা বলেছেন, আর ঢাকা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন তিনি তাঁকে অনুসরণ করার চেষ্টা করেন। কাতার বিশ্বকাপে এমিলিয়ানো মার্তিনেজের সেভের ভিডিও তিনি ইউটিউবে কয়েকবার দেখেছেন।

রূপনা চাকমার কোচ কারা ছিলেন?

প্রথম কোচ শান্তিমনি চাকমা, যিনি তাঁকে গোলরক্ষক বানান; মগাছড়ির শিক্ষক বীরসেন চাকমা তাঁকে স্কুলে আনতে সাহায্য করেন (ঢাকা ট্রিবিউন)। দ্য ডেইলি স্টার জানায় সুইহলামং মারমা 2011–2016 সালে তাঁকে প্রশিক্ষণ দেন। জাতীয় দলে কোচ ছিলেন গোলাম রব্বানী, পরে পিটার বাটলার।

যা এখনো জানা যায়নি

  • রাস্তা ও সেতু। 2022 সালে প্রতিশ্রুত পাকা সেতু ও সড়কের কোনো দরপত্র, বরাদ্দ বা নির্মাণের খবর পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অক্টোবর 2024-এর, যখন মা বলেছেন কিছুই হয়নি।
  • সিনিয়র অভিষেক ও মোট ম্যাচ। জাতীয় দলে প্রথম ম্যাচ কোনটি, আর মোট কত ম্যাচ খেলেছেন, তার বাফুফে-প্রকাশিত হিসাব পাওয়া যায়নি; উইকিপিডিয়ার দুই সংস্করণ দুই সংখ্যা দেয়।
  • বসুন্ধরা কিংসে যোগদান। কোন মৌসুমে ক্লাবটিতে যোগ দেন, কত ম্যাচ খেলেন, সংবাদে পাওয়া যায়নি।
  • ভুটানের লিগে পারফরম্যান্স। থিম্পু সিটির হয়ে তিনি কত ম্যাচ খেলেছেন বা দল কোথায় শেষ করেছে, জানা যায়নি।
  • 2026 সালের সাফ। ফাইনাল ছাড়া বাকি ম্যাচগুলোতে গোলপোস্টে কে ছিলেন, এবং উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে এশিয়ান গেমসের 0-10 ম্যাচে কে খেলেছেন, তা পড়া উৎসে নেই।
  • পড়াশোনা। 2022 সালে দশম শ্রেণিতে পড়ার পর তিনি এসএসসি দিয়েছেন কি না, সে তথ্য পাওয়া যায়নি।
  • গ্রামের নামের অর্থ। ‘ভূঁইয়ো আদাম’ নামের উৎপত্তি কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র

নথি

  1. Asian Football Confederation. “AFC Women’s Asian Cup Australia 2026 — Final Registration” (squad lists), ফেব্রুয়ারি 2026, বাংলাদেশ দল, পৃষ্ঠা 2 (জার্সি 1, জন্মতারিখ, উচ্চতা, ক্লাব)। the-afc.com (PDF)
  2. বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন. “Bangladesh Women’s Futsal Team Contingent List” (থাইল্যান্ড সফর), এপ্রিল 2018, ক্রমিক 07। ইন্টারনেট আর্কাইভ কপি (PDF)

প্রথম আলো

  1. “সাফজয়ী রুপনা ও ঋতুপর্ণার বাড়িতে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক”, 20 সেপ্টেম্বর 2022। prothomalo.com
  2. সাধন বিকাশ চাকমা. “গোলরক্ষক রুপনার পরিবারের জন্য বাড়ি বানানোর উদ্যোগ”, 21 সেপ্টেম্বর 2022। prothomalo.com
  3. “এখন ঘরে বসেই মেয়ের খেলা দেখতে পারবেন সাফজয়ী রুপনার মা”, 23 সেপ্টেম্বর 2022। prothomalo.com
  4. “ভারতের বিপক্ষে রুপনা হয়ে উঠেছিলেন ‘এমিলিয়ানো মার্তিনেজ’”, 6 ফেব্রুয়ারি 2023। prothomalo.com
  5. “নতুন ঘরের চাবি পেল সাফজয়ী রুপনার পরিবার, তবে এখনই উঠছে না”, 17 ফেব্রুয়ারি 2023। prothomalo.com
  6. সাধন বিকাশ চাকমা. “ছুটিতে বাড়ি ফিরলেন ফুটবলার রুপনা, মায়ের সঙ্গে উঠলেন নতুন ঘরে”, 21 এপ্রিল 2023। prothomalo.com
  7. “ঋতুপর্ণা, রুপনারা নাম লেখালেন ইতিহাসে”, 30 অক্টোবর 2024। prothomalo.com
  8. “‘বিদেশি লিগে খেলতে চাই’” (সাক্ষাৎকারে রুপনা চাকমা), 4 নভেম্বর 2024। prothomalo.com
  9. “নির্দিষ্ট বেতন নেই, তবু নিজের শ্রমে পাহাড়ে ঋতুপর্ণা–রুপনাদের মতো ফুটবলার গড়ে তুলছেন এই কোচ”, 27 জুন 2026। prothomalo.com

বাংলা ট্রিবিউন, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, নয়া দিগন্ত, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর

  1. বাংলা ট্রিবিউন. “রুপনার মা চাইলেন ঘর, রাস্তা নেই ঋতুপর্ণার বাড়ির”, 20 সেপ্টেম্বর 2022। banglatribune.com
  2. বাংলা ট্রিবিউন. “ঘর পাচ্ছে সাফজয়ী রুপনা চাকমার পরিবার”, 21 সেপ্টেম্বর 2022। banglatribune.com
  3. বাংলা ট্রিবিউন. “এখন থেকে রুপনার খেলা ঘরে বসে দেখতে পারবেন মা”, সেপ্টেম্বর 2022। banglatribune.com
  4. দ্য ডেইলি স্টার বাংলা. “রুপনা চাকমার ভাঙা বাড়ি ‘পাকা’ হচ্ছে”, 21 সেপ্টেম্বর 2022। bangla.thedailystar.net
  5. দ্য ডেইলি স্টার বাংলা. “রুপনা চাকমাকে বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর”, 21 সেপ্টেম্বর 2022। bangla.thedailystar.net
  6. দ্য ডেইলি স্টার বাংলা. “নতুন ঘর পেল রূপনা চাকমার পরিবার”, 16 ফেব্রুয়ারি 2023। bangla.thedailystar.net
  7. দ্য ডেইলি স্টার বাংলা. “টানা দ্বিতীয়বার নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা গোলরক্ষক রুপনা”, 30 অক্টোবর 2024। bangla.thedailystar.net
  8. নয়া দিগন্ত. “শ্রেষ্ঠ গোলরক্ষক রুপনা চাকমা ও ফুটবলার ঋতুর্পনা চাকমা”, 20 সেপ্টেম্বর 2022। ইন্টারনেট আর্কাইভ কপি
  9. বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর. রাঙামাটিতে ঋতুপর্ণা, রূপনা ও মনিকার সংবর্ধনা, 23 নভেম্বর 2024। bangla.bdnews24.com

ইংরেজি সংবাদমাধ্যম

  1. The Daily Star. “U-16 girls in final round again”, 1 March 2019. thedailystar.net
  2. The Daily Star. “Valiant Rupna’s error costs Bangladesh”, 19 March 2022. thedailystar.net
  3. The Daily Star. “Bangladesh players sweep SAFF Women Championship awards”, 19 September 2022. thedailystar.net
  4. Dhaka Tribune. “Rangamati DC hands 3L to Rupna and Ritu Porna’s family”, September 2022. dhakatribune.com
  5. Dhaka Tribune. “How Rupna became best goalkeeper from midfielder”, 14 February 2023. dhakatribune.com
  6. The Daily Observer. SAFF Women’s Championship 2024 awards report, 30 October 2024. observerbd.com
  7. Dhaka Tribune. “Despite SAFF victory, promises remain unfulfilled”, 31 October 2024. dhakatribune.com
  8. UNB. “Women’s Football: BFF announces squad for UAE friendlies minus 18 rebels”, 20 February 2025. unb.com.bd
  9. The Daily Star. “Rebel footballers join training under Butler”, 8 April 2025. thedailystar.net
  10. The Daily Star. “Five more women footballers leave for Bhutan”, 13 April 2025. thedailystar.net
  11. The Business Standard. “Five more Bangladeshi women footballers head to Bhutan for National League”, 13 April 2025. tbsnews.net
  12. Shabab Chowdhury. “Want to play high-risk, high-reward football? Better have Rupna ‘The Eagle’ Chakma”, The Daily Star, 4 July 2025. thedailystar.net
  13. The Daily Ittefaq (English). Bangladesh qualify for AFC Women’s Asian Cup (UNB report), July 2025. en.ittefaq.com.bd
  14. Rikors Chakma. “Slow and steady, Suehlamong shaping stars in the hills”, The Daily Star, 11 September 2025. thedailystar.net
  15. The Daily Star. “‘Unite against rape, restore peace in the hills’”, 29 September 2025. thedailystar.net
  16. BSS. “Shamsunnahar Jr emerges most valuable player in WFL”, 14 February 2026. bssnews.net
  17. Dhaka Tribune. “Anika, Alpi, Munki in Bangladesh final Asian Cup squad”, February 2026. dhakatribune.com
  18. The Daily Star. “No Rupna in goal as Bangladesh take on champions China”, 3 March 2026. thedailystar.net
  19. The Daily Star. “‘Mile decision taken two months ago’”, 4 March 2026. thedailystar.net
  20. The Financial Express. “Bangladesh go down fighting 2-0 to China in Asian Cup”, March 2026. thefinancialexpress.com.bd
  21. Dhaka Tribune. “Bangladesh battle hard but North Korea prove too strong in 5-0 defeat”, 6 March 2026. dhakatribune.com
  22. The Daily Star. “Bangladesh women conclude maiden Asian Cup campaign with Uzbekistan loss”, 9 March 2026. thedailystar.net
  23. The Away End. SAFF Women’s Championship 2026 final report, 6 June 2026. theawayend.co
  24. India Sports Hub. “India end seven-year wait, beat Bangladesh 3-1 to win SAFF Women’s Championship 2026”, June 2026. indiasportshub.com
  25. The Daily Star. “A big loss and Butler falls back to blame game”, 15 September 2026. thedailystar.net
  26. The Daily Star. “Rupna stands tall but Bangladesh finish bottom after Myanmar draw”, 21 September 2026. thedailystar.net

বিশ্বকোষ ও ছবি

  1. Wikipedia. “Rupna Chakma” (ইংরেজি), “2022 SAFF Women’s Championship”, “2024 SAFF Women’s Championship”; বাংলা উইকিপিডিয়া “রূপনা চাকমা”। পাঠ দেখা হয়েছে 7 নভেম্বর 2026। en.wikipedia.org · bn.wikipedia.org
  2. প্রধান ছবি: Press Information Department (PID), “Bangladesh Women Football Team Photo Session Dhaka 2024-11-02 (PID-0005482)”, পাবলিক ডোমেইন। উইকিমিডিয়া কমন্স

সর্বশেষ হালনাগাদ: 8 নভেম্বর 2026

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।
[DISPLAY_ULTIMATE_SOCIAL_ICONS]

আরও কিছু লেখা