icon

প্রথাগত আইনে আদিবাসী পাংখোয়া নারীর অবস্থান

Jumjournal

Published on Oct 6th, 2026 icon 2

একজন পাংখোয়া নারীর স্বামী মারা গেলেন। তিনি শ্বশুরবাড়িতেই রইলেন, আর দ্বিতীয়বার বিয়ে করলেন না। প্রথাগত নিয়মে তিনি মৃত স্বামীর সম্পত্তি থেকে ভরণপোষণ পাবেন — কিন্তু সম্পত্তিটির উত্তরাধিকারী হবেন না। এই দুটি শব্দের ফারাকেই পাংখোয়া নারীর আইনগত অবস্থান দাঁড়িয়ে আছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্রতম জনগোষ্ঠীগুলোর একটি পাংখোয়া। তাদের বিবাহ, বিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকার — তিনটিই চলে লিখিত নয় এমন প্রথাগত আইনে, যার নিজস্ব শব্দ আছে: ইননেই, ইনসেন, রৌহুইতু।

পাংখোয়া সমাজে নারীর অবস্থান কোথায়

নারী পরিবারের সদস্য, কিন্তু সম্পত্তির ধারক নন। প্রথাগত আইনে অধিকার আসে পরিবারের ভেতরে অবস্থান থেকে — আর সেই কাঠামোয় সম্পত্তি চলে পুরুষের রেখা ধরে। নারীর যেটুকু নিরাপত্তা, তা মালিকানা নয়, ভরণপোষণ।

এটি বোঝা জরুরি, কারণ এর পরের প্রতিটি নিয়ম — বিবাহ থেকে উত্তরাধিকার — এই একটিই কাঠামোর ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ।

পাংখোয়া নারী ও পুরুষ
পাংখোয়া নারী ও পুরুষ। ছবি: জুমজার্নাল আর্কাইভ

ইননেই: বিবাহের দুই ধরন

পাংখোয়া সমাজে বিবাহ (ইননেই) দুই প্রকার — সামাজিক বা নিয়মিত বিবাহ, এবং পলায়ন বা অনিয়মিত বিবাহ। প্রথমটি পূর্ণ সামাজিক আচারসহ, দ্বিতীয়টি পালিয়ে গিয়ে, যা পরে স্বীকৃতি পেতে পারে।

একটি বিষয় আর্কাইভের বিবরণে স্পষ্ট করে বলা আছে: বিবাহের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো বয়সের মাপকাঠি নেই। বিবরণে এ-ও বলা আছে যে গ্রামীণ সমাজে কম বয়সের বিবাহ প্রচলিত, এবং রাষ্ট্রীয় আদালতে প্রশ্ন উঠলে নাবালকের বিবাহ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।

এখানেই প্রথাগত আইন ও রাষ্ট্রীয় আইনের প্রথম সংঘাত। বাংলাদেশের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন প্রথাগত নিয়মের ব্যতিক্রম রাখে না। [যাচাই প্রয়োজন] — এই সংঘাত বাস্তবে কীভাবে নিষ্পত্তি হয়, তার কোনো নথিভুক্ত উদাহরণ এই গবেষণায় পাওয়া যায়নি।

ইনসেন: বিচ্ছেদ কীভাবে হয়

বিবাহ বিচ্ছেদকে বলা হয় ইনসেন। আর্কাইভের বিবরণ অনুযায়ী এটি সামাজিকভাবে উৎসাহিত নয়, তবু সামাজিক আদালতের সিদ্ধান্তে স্বামী-স্ত্রী জীবদ্দশায় ইনসেন করতে পারেন। পারস্পরিক সমঝোতার পথটিও স্বীকৃত।

পদ্ধতিটি নির্দিষ্ট: স্বামী-স্ত্রী কার্বারি বা হেডম্যানের আদালতে যান, আর সেখানে ‘নিপারেল’ ও ‘নুনারেল’ — দুই পক্ষের সাক্ষী — উপস্থিত থাকেন। আদালতের সিদ্ধান্তেই ইনসেন সম্পন্ন হয়।

নারীর দিক থেকে যা বলা যায়: নিয়মে বিচ্ছেদের দরজা তাঁর জন্যও খোলা। যা বলা যায় না: বাস্তবে কত নারী এই আদালতে যান, আর গেলে ফল কী দাঁড়ায় — কোনো সংখ্যা নেই।

রৌহুইতু: কন্যা কেন কিছুই পান না

পাংখোয়া উত্তরাধিকারের নাম রৌহুইতু, আর এখানকার নিয়মটি এই অঞ্চলের কঠোরতম প্রান্তে। আর্কাইভের বিবরণে সরাসরি লেখা: মৃত ব্যক্তির স্থাবর ও অস্থাবর — কোনো সম্পত্তিতেই কন্যা উত্তরাধিকারী হন না।

ব্যতিক্রম একটিই: মৃত ব্যক্তি জীবদ্দশায় দান বা উইলের মাধ্যমে স্ত্রী বা কন্যাকে সম্পত্তি দিয়ে গেলে তাঁরা সেটির উত্তরাধিকারী হন। অর্থাৎ অধিকারটি নিয়মের নয়, ব্যক্তির ইচ্ছার।

উল্টো দিকটিও লক্ষণীয়। স্ত্রীর নামে সম্পত্তি থাকলে তাঁর মৃত্যুর পর সেটির উত্তরাধিকারী হন স্বামী, তাঁর অবর্তমানে পুত্রসন্তানরা — কন্যা নন। সম্পত্তি নারীর হাত দিয়ে এলেও পুরুষের রেখাতেই ফিরে যায়।

তুলনার জন্য: তঞ্চঙ্গ্যা সমাজে ভাই না থাকলে কন্যা উত্তরাধিকারী হন, মারমা সমাজে পুত্র না থাকলে স্ত্রী ও কন্যা স্থাবর সম্পত্তির এক-চতুর্থাংশ পান, আর খিয়াংদের লাইতু শাখায় পুত্র থাকা সত্ত্বেও কন্যার নির্দিষ্ট ভাগ আছে। পাংখোয়া নিয়ম চাকমা, ম্রো ও খুমী সমাজের কাছাকাছি।

ভরণপোষণ: যেটুকু অধিকার আছে

উত্তরাধিকার না থাকলেও নারীর একটি নির্দিষ্ট, স্বীকৃত অধিকার আছে — ভরণপোষণ। মৃতের সংসারে অবস্থানকারী বিধবা স্ত্রী এবং অবিবাহিত কন্যারা বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত মৃতের সম্পত্তি থেকে ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী।

বিধবার ক্ষেত্রে শর্তটি স্পষ্ট: দ্বিতীয়বার বিবাহ না করলে তিনি মৃত স্বামীর সম্পত্তি থেকে ভরণপোষণ পান। পুনর্বিবাহ করলে সেই অধিকার থাকে না।

এটিই পাংখোয়া নিয়মের কেন্দ্রীয় বৈশিষ্ট্য — নারীর নিরাপত্তা আছে, কিন্তু সেটি মালিকানা নয়, ভরণপোষণ; আর সেই ভরণপোষণও শর্তসাপেক্ষ।

দশটি জনগোষ্ঠীর তুলনায় পাংখোয়া নিয়ম

পাংখোয়া নিয়মটি কতটা কঠোর, তা বোঝা যায় কেবল পাশাপাশি রাখলে। জুমজার্নালের আর্কাইভে প্রথাগত আইনে নারীর অবস্থান নিয়ে যে লেখাগুলো আছে, সেগুলোর মধ্যে কন্যার উত্তরাধিকারের প্রশ্নে ছবিটি এরকম।

জনগোষ্ঠীকন্যা কখন উত্তরাধিকারী হন
খিয়াং (লাইতু শাখা)পুত্র থাকা সত্ত্বেও কন্যার নির্দিষ্ট ভাগ আছে
মারমাপুত্র না থাকলে স্ত্রী ও কন্যা স্থাবর সম্পত্তির এক-চতুর্থাংশ পান
তঞ্চঙ্গ্যাভাই না থাকলে কন্যা অংশ দাবি করতে পারেন
চাকমা, ম্রো, খুমীপাংখোয়া নিয়মের কাছাকাছি
পাংখোয়াকোনো সম্পত্তিতেই নন — ব্যতিক্রম কেবল দান বা উইল

ছকটি একটি ধারাবাহিকতা দেখায়, বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। এক প্রান্তে খিয়াং সমাজের লাইতু শাখা, যেখানে পুত্র থাকা সত্ত্বেও কন্যার নির্দিষ্ট ভাগ; অন্য প্রান্তে পাংখোয়া, যেখানে কোনো অবস্থাতেই নয়। মাঝখানে শর্তসাপেক্ষ ব্যবস্থা — ভাই বা পুত্র না থাকার শর্তে।

দুটি কথা এখানে স্পষ্ট করা দরকার।

এক, ছকটি সম্পূর্ণ নয়। ত্রিপুরা, বম, লুসাই ও চাক সমাজের নিয়ম এই লেখায় আলাদা করে যাচাই করা হয়নি। [যাচাই প্রয়োজন]

দুই, ‘কঠোর’ বা ‘উদার’ — এই মূল্যায়ন এখানে করা হচ্ছে না। ছকটি দেখায় নিয়মগুলো অভিন্ন নয়, আর সেটিই মূল কথা: ‘আদিবাসী প্রথাগত আইন’ বলে একক কোনো ব্যবস্থা নেই। এক অঞ্চলে, এক আইনি কাঠামোর ভেতরে, দশটি ভিন্ন নিয়ম।

এই ভিন্নতার একটি ব্যবহারিক ফলও আছে। জেলা পরিষদ আইনের ৬৬(১) ধারায় বলা আছে নিষ্পত্তি হবে ‘সংশ্লিষ্ট উপজাতীয়গণের মধ্যে প্রচলিত রীতি-নীতি অনুযায়ী’ — অর্থাৎ কার্বারিকে জানতে হয় কোন সম্প্রদায়ের কোন নিয়ম। একটি সাধারণ ছাঁচ এখানে চলে না।

প্রথাগত আদালত থেকে আপিল কোথায় যায়

ইনসেনের নিষ্পত্তি হয় কার্বারি বা হেডম্যানের আদালতে — এটুকু আগে বলা হয়েছে। কিন্তু সেখানেই শেষ নয়, আর পরের ধাপগুলো ১৯৮৯ সালের রাংগামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের ৬৬ ধারায় লিখিতভাবে দেওয়া।

ধারাটি বলছে, জেলার বাসিন্দা উপজাতীয়দের মধ্যে কোনো সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা উপজাতীয় বিষয়ে বিরোধ হলে তা স্থানীয় কার্বারি বা হেডম্যানের কাছে তুলতে হবে, এবং তিনি সংশ্লিষ্ট উপজাতীয়দের মধ্যে প্রচলিত রীতি-নীতি অনুযায়ী নিষ্পত্তি করবেন।

এটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি — পাংখোয়া প্রথাগত রীতি ‘প্রচলিত রীতি-নীতি’ হিসেবে আইনেই স্বীকৃত, আর নিষ্পত্তি হবে সেই সম্প্রদায়ের রীতি অনুযায়ী, সাধারণ কোনো ছাঁচে নয়।

তিন ধাপের সিঁড়ি

ধাপকে
প্রথমস্থানীয় কার্বারি বা হেডম্যান — প্রচলিত রীতি-নীতি অনুযায়ী
আপিলসার্কেল চীফ — রাঙামাটির ক্ষেত্রে চাকমা চীফ
চূড়ান্তচট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার — তাঁর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত

শেষ ধাপে একটি শর্ত আছে যা পাংখোয়াদের মতো ছোট জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক: আপিল নিষ্পত্তির আগে বিভাগীয় কমিশনারকে সংশ্লিষ্ট উপজাতি থেকে তাঁর মনোনীত অন্তত তিনজন উপজাতীয় বিজ্ঞ ব্যক্তির সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।

অর্থাৎ পাংখোয়া রীতির ব্যাখ্যা একজন সরকারি কর্মকর্তা একা দিতে পারেন না — তিনজন পাংখোয়া বিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ বাধ্যতামূলক। তবে তাঁদের মনোনয়নও তাঁরই।

বান্দরবানের আইনে সিঁড়িটি এক ধাপ লম্বা — সেখানে কার্বারির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল যায় হেডম্যানের কাছে, তারপর বোমাং চীফের কাছে, তারপর কমিশনারের কাছে।

আর ৬৬(৪) ধারা অনুযায়ী জেলা পরিষদ প্রবিধান দিয়ে এই বিচারের পদ্ধতি এবং বিচারপ্রার্থী ও আপিলকারীর দেয় ফিস নির্ধারণ করতে পারে।

একজন পাংখোয়া নারী ইনসেন বা ভরণপোষণের দাবি নিয়ে এই সিঁড়ি ধরেই ওঠেন। প্রতিটি ধাপেই সিদ্ধান্তের আসনে সাধারণত পুরুষ — কার্বারি, হেডম্যান, চীফ, কমিশনার, এবং ‘তিনজন বিজ্ঞ ব্যক্তি’।

আইনে পাংখোয়াদের প্রতিনিধিত্ব

প্রথাগত আইনের প্রশ্নের পাশে আরেকটি প্রশ্ন থাকে — যে প্রতিষ্ঠানগুলো এই প্রথাগত ব্যবস্থার তত্ত্বাবধান করে, সেখানে পাংখোয়াদের কণ্ঠ কতটুকু। আইনের পাঠে এর উত্তর বেশ নির্দিষ্ট, এবং জায়গাভেদে আলাদা।

রাঙামাটিতে নিজস্ব একটি আসন

রাংগামাটি জেলা পরিষদ আইনের ২(খ) ধারায় ‘উপজাতীয়’-র সংজ্ঞায় সাতটি জনগোষ্ঠীর নাম, আর পাংখোয়া তার একটি — চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা, লুসাই, পাংখোয়া ও খেয়াং।

আর ৪(৩)(চ) ধারা অনুযায়ী ২০টি উপজাতীয় আসনের মধ্যে একটি আসন পাংখোয়াদের জন্য নির্ধারিত।

৩৪ পদের একটি পরিষদে একটি আসন — সংখ্যায় সামান্য, কিন্তু নিজস্ব। ওই আসনে কেবল পাংখোয়া প্রার্থীরাই দাঁড়াতে পারেন, অন্য কোনো জনগোষ্ঠীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয় না।

বান্দরবানে তিন জনগোষ্ঠী মিলে একটি

বান্দরবান জেলা পরিষদ আইনের ৪(৩)(ঙ) ধারায় হিসাবটি আলাদা — বম, লুসাই ও পাংখোয়া মিলে একটি আসন।

অর্থাৎ কোনো এক নির্বাচনে যদি বম প্রতিনিধি জেতেন, ওই মেয়াদে বান্দরবানের পাংখোয়া বা লুসাইদের কোনো প্রতিনিধি জেলা পরিষদে থাকেন না।

আঞ্চলিক পরিষদে ছয় জনগোষ্ঠী মিলে একটি

আঞ্চলিক পরিষদ আইন ১৯৯৮-এর ৫(৩)(ঙ) ধারায় হিসাবটি আরও সংকুচিত — লুসাই, বোম, পাংখো, খুমী, চাক ও খিয়াং — ছয় জনগোষ্ঠী মিলে একটিমাত্র আসন।

স্তরপাংখোয়াদের আসন
রাঙামাটি জেলা পরিষদ১টি — নিজস্ব
বান্দরবান জেলা পরিষদ১টি — বম ও লুসাইয়ের সঙ্গে যৌথ
রাঙামাটির অন্তর্বর্তী পরিষদ১টি — খিয়াং ও লুসাইয়ের সঙ্গে যৌথ
আঞ্চলিক পরিষদ১টি — ছয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যৌথ

ছকটি একটি ধরন দেখায়: স্তর যত উপরে ওঠে, পাংখোয়াদের কণ্ঠ তত পাতলা হয়। রাঙামাটিতে নিজস্ব, বান্দরবানে তিনজনে ভাগ, আঞ্চলিক পরিষদে ছয়জনে।

তৃতীয় সারিটিও লক্ষণীয়। রাঙামাটির আইনের ১৬ক ধারা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না হলে পরিষদ বাতিল হয়ে যায়, আর সরকার-মনোনীত অন্তর্বর্তী পরিষদে খিয়াং, লুসাই ও পাংখোয়া থেকে মনোনীত একজন সদস্য — অর্থাৎ নির্বাচিত পরিষদের নিজস্ব আসনটি সেখানে তিন জনগোষ্ঠীর যৌথ আসনে নেমে আসে।

আর পরিচয়ের সার্টিফিকেট

এই আসনে দাঁড়াতে হলে প্রথমে প্রমাণ করতে হয় যে প্রার্থী পাংখোয়া। আইনের ৪(৫) ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি উপজাতীয় কি না এবং হলে কোন উপজাতির, তা স্থির করেন জেলার সার্কেল চীফ — এবং তাঁর সার্টিফিকেট ছাড়া কেউ উপজাতীয় আসনে প্রার্থী হতে পারেন না।

রাঙামাটির ক্ষেত্রে সেই সার্কেল চীফ হলেন চাকমা চীফ (২(ঞ) ধারা)। অর্থাৎ একজন পাংখোয়া প্রার্থীর পাংখোয়া হওয়ার স্বীকৃতি আসে চাকমা চীফের কাছ থেকে — কারণ ক্ষমতাটি সার্কেল ধরে, জনগোষ্ঠী ধরে নয়।

এই সার্টিফিকেট প্রত্যাখ্যাত হলে আপিলের কোনো ব্যবস্থা ৪(৫) ধারায় লেখা নেই। [যাচাই প্রয়োজন]

নারীর জন্য কী দাঁড়ায়

দুটি বিষয় একসঙ্গে পড়লে ছবিটি স্পষ্ট হয়।

এক দিকে, ৪(১)(ঘ) ধারার ব্যাখ্যায় লেখা আছে — উপজাতীয় মহিলা সদস্যদের ক্ষেত্রে জেলার বিভিন্ন উপজাতির জন্য কোনো কোটা থাকবে না। ফলে দুটি সংরক্ষিত নারী আসনে একজন পাংখোয়া নারীও দাঁড়াতে পারেন।

অন্য দিকে, ওই দুটি আসনে তাঁকে জেলার সব জনগোষ্ঠীর নারীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয় — যেখানে চাকমাদের জনসংখ্যা অনেক বেশি (আসন-হিসাবে ২০টির ১০টি)।

আর ৪(৪ক) ধারা অনুযায়ী যেকোনো উপজাতীয় নারী চেয়ারম্যান পদে এবং নিজের উপজাতির জন্য নির্ধারিত সদস্যপদে প্রার্থী হতে পারেন — অর্থাৎ পাংখোয়াদের নির্ধারিত আসনটিতেও একজন পাংখোয়া নারী দাঁড়াতে পারেন।

এ পর্যন্ত কোনো পাংখোয়া নারী এসব আসনে নির্বাচিত হয়েছেন কি না, তার কোনো তালিকা এই কাজে পাওয়া যায়নি। [যাচাই প্রয়োজন]

শাসনবিধি ১৯০০ যা বলে না

বিবাহ, বিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকার নিয়ে ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধিতে পাংখোয়া সমাজের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বিধান নেই। বিধিমালায় আছে জুম কর (৪২ বিধি), জুম নিয়ন্ত্রণ (৪১ ও ৪১A বিধি) এবং খাস জমির বন্দোবস্ত (৩৪ বিধি)।

একটি সংশোধনী। আর্কাইভের উত্তরাধিকার-বিষয়ক লেখাটিতে বলা হয়েছে ‘৪২ নং বিধিমতে পাহাড়ে জুম চাষের জন্য জমির মালিকানার প্রয়োজন হয় না’। মূল পাঠ অনুযায়ী ৪২ বিধির শিরোনাম “Jhum tax” — জুম কর। মালিকানার কথা সেখানে নেই।

তবে বক্তব্যটি কাঠামো থেকেই দাঁড়ায়: শাসনবিধিতে জুম একটি নিয়ন্ত্রিত ও করযোগ্য চর্চা, আর জমি সম্পত্তি হিসেবে বন্দোবস্ত সম্পূর্ণ আলাদা প্রক্রিয়া। জুম করলে স্বত্ব জন্মায় — এমন কোনো বিধান পাওয়া যায়নি।

ফলে পাংখোয়া নারীর অধিকার-প্রশ্ন সম্পূর্ণভাবে প্রথাগত আইনের হাতে ছাড়া। যা লিখিত নয়, তা বদলানোও কঠিন, আদালতে প্রমাণ করাও কঠিন।

দুটি ব্যতিক্রম, যেখানে বিধি নারীকে স্পর্শ করে

‘কিছুই নেই’ কথাটি অবশ্য পুরোপুরি ঠিক নয়। শাসনবিধির দুটি জায়গায় এমন ভাষা আছে যা নারীর অবস্থানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, যদিও কোনোটিই পাংখোয়া-নির্দিষ্ট নয়।

প্রথম — ৪৮ বিধি। হেডম্যান নিয়োগের ধারার শেষ বাক্য: “This appointment is not hereditary, but a son, when competent, may be appointed to succeed his father.”

বাংলায় — এই নিয়োগ বংশানুক্রমিক নয়, তবে যোগ্য হলে পুত্র পিতার স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন। কন্যার উল্লেখ নেই।

ইনসেনের প্রথম বিচার যিনি করেন, সেই হেডম্যান পদে উত্তরাধিকারের একমাত্র স্বীকৃত পথটি এভাবে পুরুষের নামে লেখা। কার্বারি পদ সম্পর্কে শাসনবিধিতে কিছুই নেই — নিয়োগ, মেয়াদ, অপসারণ কোনোটিই।

দ্বিতীয় — ৩৪(১৩) বিধি। এই উপবিধিতেই শাসনবিধিতে ‘inheritance’ শব্দটি আছে:

“Nothing in these rules… shall operate to permit the inheritance of any Hill-tracts land by non-residents of the district except with the express consent of the Deputy Commissioner…”

শাসনবিধি ১৯০০, বিধি ৩৪(১৩)

অর্থাৎ জেলার বাইরের বাসিন্দা কেউ পার্বত্য চট্টগ্রামের জমি উত্তরাধিকারসূত্রে পেতে পারেন না, জেলা প্রশাসকের স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া।

পাংখোয়া নিয়মে কন্যা এমনিতেই উত্তরাধিকারী হন না, তাই এই বিধানটি সেখানে অতিরিক্ত বাধা তৈরি করে না। কিন্তু দান বা উইলের মাধ্যমে কোনো কন্যা জমি পেলে এবং তিনি যদি জেলার বাইরে বিয়ে করে সেখানে বসবাস শুরু করেন, তবে তাঁর দাবি ৩৪(১৩)-এর আওতায় পড়ে যায় — জেলাতেই থেকে যাওয়া ভাইয়ের ক্ষেত্রে যে বাধা নেই।

দুটি বিধানই সব জনগোষ্ঠীর জন্য অভিন্ন। এখানে উল্লেখের কারণ, ‘শাসনবিধি নারীর বিষয়ে নীরব’ বললে ছবিটি অসম্পূর্ণ থাকে — বিধি নীরব নয়, কেবল পরিবারের ভেতরের প্রশ্নে নীরব।

প্রশ্নোত্তর

পাংখোয়া কন্যা কি পিতার সম্পত্তি পান?

না। আর্কাইভের বিবরণ অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির স্থাবর বা অস্থাবর — কোনো সম্পত্তিতেই কন্যা উত্তরাধিকারী হন না। ব্যতিক্রম কেবল দান বা উইল।

পাংখোয়া সমাজে বিবাহ ও বিচ্ছেদকে কী বলে?

বিবাহকে বলা হয় ‘ইননেই’, বিচ্ছেদকে ‘ইনসেন’। বিবাহ দুই ধরনের — সামাজিক বা নিয়মিত, এবং পলায়ন বা অনিয়মিত।

ইনসেন কীভাবে সম্পন্ন হয়?

কার্বারি বা হেডম্যানের সামাজিক আদালতে, ‘নিপারেল’ ও ‘নুনারেল’ নামের সাক্ষীদের উপস্থিতিতে, আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসারে।

বিধবা পাংখোয়া নারী কী পান?

মৃত স্বামীর সম্পত্তি থেকে ভরণপোষণ — তবে দ্বিতীয়বার বিবাহ না করলে। সম্পত্তির উত্তরাধিকার তিনি পান না।

ইনসেনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়?

যায়। রাংগামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের ৬৬ ধারা অনুযায়ী কার্বারি বা হেডম্যানের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল যায় সার্কেল চীফের কাছে, আর সেখান থেকে চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনারের কাছে — তাঁর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তবে সিদ্ধান্তের আগে তাঁকে সংশ্লিষ্ট উপজাতির অন্তত তিনজন মনোনীত বিজ্ঞ ব্যক্তির সঙ্গে পরামর্শ করতে হয়।

জেলা পরিষদে পাংখোয়াদের কয়টি আসন?

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে ৪(৩)(চ) ধারা অনুযায়ী পাংখোয়াদের জন্য একটি নিজস্ব আসন নির্ধারিত। বান্দরবানে হিসাব আলাদা — সেখানে বম, লুসাই ও পাংখোয়া মিলে একটি আসন। আঞ্চলিক পরিষদে লুসাই, বোম, পাংখো, খুমী, চাক ও খিয়াং — ছয় জনগোষ্ঠী মিলে একটি।

কেউ পাংখোয়া কি না তা কে নির্ধারণ করেন?

জেলার সার্কেল চীফ। জেলা পরিষদ আইনের ৪(৫) ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি উপজাতীয় কি না এবং হলে কোন উপজাতির, তা স্থির করেন সার্কেল চীফ, এবং তাঁর সার্টিফিকেট ছাড়া কেউ উপজাতীয় আসনে প্রার্থী হতে পারেন না। রাঙামাটির ক্ষেত্রে সেই চীফ হলেন চাকমা চীফ, কারণ ক্ষমতাটি সার্কেল ধরে — জনগোষ্ঠী ধরে নয়।

পাংখোয়া নারী কি জেলা পরিষদে প্রার্থী হতে পারেন?

পারেন। ৪(১)(ঘ) ধারার ব্যাখ্যা অনুযায়ী উপজাতীয় নারী সদস্যদের ক্ষেত্রে জনগোষ্ঠীভিত্তিক কোনো কোটা নেই, তাই দুটি সংরক্ষিত নারী আসনে যেকোনো জনগোষ্ঠীর নারী দাঁড়াতে পারেন। আর ৪(৪ক) ধারা অনুযায়ী যেকোনো উপজাতীয় নারী চেয়ারম্যান পদে এবং নিজের উপজাতির নির্ধারিত আসনেও প্রার্থী হতে পারেন।

শাসনবিধিতে হেডম্যান পদের উত্তরাধিকার নিয়ে কী আছে?

৪৮ বিধিতে লেখা, এই নিয়োগ বংশানুক্রমিক নয়, তবে যোগ্য হলে পুত্র পিতার স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন। কন্যার কোনো উল্লেখ নেই। কার্বারি পদ সম্পর্কে শাসনবিধিতে কোনো বিধানই নেই — নিয়োগ, মেয়াদ বা অপসারণ কিছুই।

জেলার বাইরে বিয়ে হলে জমির উত্তরাধিকারে সমস্যা হয়?

শাসনবিধির ৩৪(১৩) বিধি অনুযায়ী জেলার বাইরের বাসিন্দা কেউ পার্বত্য চট্টগ্রামের জমি উত্তরাধিকারসূত্রে পেতে পারেন না, যদি না জেলা প্রশাসক স্পষ্ট সম্মতি দেন। পাংখোয়া নিয়মে কন্যা এমনিতেই উত্তরাধিকারী হন না, তবে দান বা উইলে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।

পাংখোয়া প্রথাগত নিয়ম কি আইনে স্বীকৃত?

হ্যাঁ। জেলা পরিষদ আইনের ৬৬(১) ধারায় বলা আছে, সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা উপজাতীয় বিষয়ে বিরোধ কার্বারি বা হেডম্যান নিষ্পত্তি করবেন ‘সংশ্লিষ্ট উপজাতীয়গণের মধ্যে প্রচলিত রীতি-নীতি অনুযায়ী’। অর্থাৎ পাংখোয়া রীতি অনুযায়ীই নিষ্পত্তি হবে, সাধারণ কোনো ছাঁচে নয়।

প্রথাগত বিচারের ফি কে নির্ধারণ করে?

জেলা পরিষদ। ৬৬(৪) ধারা অনুযায়ী পরিষদ প্রবিধান দ্বারা এই ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তির বিচার পদ্ধতি এবং বিচারপ্রার্থী ও আপিলকারীর দেয় ফিস নির্ধারণ করতে পারে।

যা এখনো জানা যায়নি

  • বয়সের প্রশ্ন। বিবাহে নির্দিষ্ট বয়স-মাপকাঠি নেই বলা আছে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় আইনের সঙ্গে এই সংঘাত বাস্তবে কীভাবে মেটে, কোনো নথিভুক্ত উদাহরণ পাওয়া যায়নি।
  • ভরণপোষণের পরিমাণ। কতটুকু, কে নির্ধারণ করেন, না দিলে কী হয় — কোনো উৎসে নেই।
  • সামাজিক আদালতে নারীর জায়গা। BRAC-এর ২০১১ সালের গবেষণায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে কোনো নারী কার্বারি বা হেডম্যান পাওয়া যায়নি, তবে সেই গবেষণা পাংখোয়া সমাজকে আলাদা করে দেখেনি।
  • বাস্তব প্রয়োগ। ইনসেনের সংখ্যা, দান বা উইলে কন্যাকে সম্পত্তি দেওয়ার প্রচলন কতটা — কিছুই জানা যায়নি।

তথ্যসূত্র

  1. পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি, ১৯০০ (Regulation I of 1900), বিধি ৩৪, ৪১, ৪১A, ৪২ — সংকলিত পাঠ, PCJSS; সরকারি পাঠ bdlaws.minlaw.gov.bd
  2. Debasish Kumar Kundu ও অন্যান্য, State of Justice in Chittagong Hill Tracts, Research Monograph Series No. 44, BRAC, জানুয়ারি 2011 — bigd.bracu.ac.bd
  3. রাংগামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯ (১৯৮৯ সনের ১৯ নং আইন) — ধারা ২(খ), ২(ঞ), ৪(১)(ঘ), ৪(৩)(চ), ৪(৪ক), ৪(৫), ১৬ক, ৬৬ — bdlaws.minlaw.gov.bd/act-724.html
  4. বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯ — ধারা ৪(৩)(ঙ), ৬৬(২) — bdlaws.minlaw.gov.bd/act-726.html
  5. পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, ১৯৯৮ — ধারা ২(গ), ৫(৩)(ঙ) — bdlaws.minlaw.gov.bd/act-822.html
  6. জুমজার্নাল, পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর বিবাহ (ইননেই)
  7. জুমজার্নাল, পাংখোয়া জনগোষ্ঠী বিবাহ বিচ্ছেদ (ইনসেন)
  8. জুমজার্নাল, পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর উত্তরাধিকার (রৌহুইতু)
  9. জুমজার্নাল, পাংখোয়া জাতির আদ্যাপান্ত

এই লেখার সীমা

একটি কথা স্পষ্ট করে বলা দরকার, কারণ পাঠক যেন এই লেখার ভিত্তি সম্পর্কে ভুল ধারণা না করেন।

প্রথাগত নিয়মের অংশটুকু দাঁড়িয়ে আছে জুমজার্নালের নিজস্ব আর্কাইভের চারটি লেখার উপর — ইননেই, ইনসেন, রৌহুইতু ও পাংখোয়া জাতির আদ্যোপান্ত। পাংখোয়া প্রথাগত আইনের কোনো স্বাধীন একাডেমিক সমীক্ষা বা স্বীকৃত সংকলন এই কাজে পাওয়া যায়নি।

এর ফল হলো, এই লেখায় পাংখোয়া নিয়ম নিয়ে যা আছে তা একটিমাত্র উৎস-ধারার বিবরণ — একাধিক স্বাধীন উৎস মিলিয়ে যাচাই করা নয়। ভরণপোষণের পরিমাণ, ইনসেনের প্রকৃত সংখ্যা, দান বা উইলের চল কতটা — এসবের কোনো তথ্য কোথাও পাওয়া যায়নি।

বিপরীতে, আইনি কাঠামোর অংশটুকু — প্রতিনিধিত্ব, সার্টিফিকেট, আপিলের সিঁড়ি, শাসনবিধির দুটি বিধান — সবই সরকারি পাঠ থেকে ধারা ধরে ধরে নেওয়া এবং যাচাইযোগ্য।

পাংখোয়া নারীদের নিজেদের বয়ানে এই নিয়মগুলো কীভাবে কাজ করে, তার কোনো নথিভুক্ত বিবরণ এই আর্কাইভে নেই। সেটিই সম্ভবত সবচেয়ে বড় ফাঁক — এবং সেটি ভরাট করার একমাত্র পথ মাঠপর্যায়ের কাজ, আরও পড়াশোনা নয়।

পদ্ধতি সম্পর্কে। আইনের উদ্ধৃতিগুলো bdlaws.minlaw.gov.bd-এ প্রকাশিত সরকারি বাংলা পাঠ থেকে ধারা ধরে ধরে নেওয়া; শাসনবিধি ১৯০০-এর ইংরেজি উদ্ধৃতি সংশোধনীসহ সংকলিত পাঠ থেকে। প্রতিটি দাবির পাশে ধারা বা বিধির নম্বর দেওয়া আছে। প্রথাগত নিয়মের অংশে ব্যবহৃত পাংখোয়া ভাষার শব্দগুলো — ইননেই, ইনসেন, রৌহুইতু, নিপারেল, নুনারেল — আর্কাইভের বানান অনুসারে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

সর্বশেষ হালনাগাদ: ১৫ আগস্ট ২০২৬

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।
[DISPLAY_ULTIMATE_SOCIAL_ICONS]

আরও কিছু লেখা