দীঘিনালা খাগড়াছড়ি সহিংসতা ২০২৪ বলতে 18 থেকে 20 সেপ্টেম্বর 2024-এর তিন দিনের ঘটনাগুলোকে বোঝায়: খাগড়াছড়ি শহরে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে মো. মামুনের মৃত্যু, পরদিন দীঘিনালার লারমা স্কয়ারে আগুন ও খাগড়াছড়ি সদরের স্বনির্ভরে গুলি, আর 20 সেপ্টেম্বর রাঙামাটি শহরে সংঘর্ষ। মামুন ছাড়া চারজন নিহত হন—এ সংখ্যায় সরকারি সূত্র, জনসংহতি সমিতি, মানবাধিকার সংগঠন ও সংবাদমাধ্যম একমত। কারা প্রথমে হামলা করেছিল, কে কার গুলিতে মারা গেছেন, কতগুলো দোকান পুড়েছে—এসব প্রশ্নে সূত্রগুলোর বিবরণ আলাদা।
এই লেখা কোনো পক্ষের রায় দেয় না। প্রতিটি সংখ্যা ও দাবি যে সূত্র থেকে এসেছে, তার নাম পাশে লেখা আছে। যেখানে দুই সূত্র দুই রকম বলে, সেখানে দুটোই পাশাপাশি রাখা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য বিষয়ের জন্য দেখুন আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক পাতা।
ঘটনাগুলো ঘটেছে তিনটি জায়গায়, তিন দিনে। 18 সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি শহরে মামুনের মৃত্যু; 19 সেপ্টেম্বর বিকেলে দীঘিনালার লারমা স্কয়ারে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগ, রাতে খাগড়াছড়ি সদরের স্বনির্ভর এলাকায় গুলি; 20 সেপ্টেম্বর সকালে রাঙামাটি শহরে মিছিল থেকে সংঘর্ষ। নিচের ছকে প্রতিটি ধাপ ও তার সূত্র।

| তারিখ ও সময় | স্থান | কী ঘটেছিল | সূত্র |
|---|---|---|---|
| 18 সেপ্টেম্বর, ভোর/সকাল | খাগড়াছড়ি শহর | মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে মো. মামুন আহত হন, পরে হাসপাতালে মৃত ঘোষিত | প্রথম আলো, আইএসপিআর, জনসংহতি সমিতি |
| 19 সেপ্টেম্বর, বিকেল প্রায় 4–5টা | দীঘিনালা, বোয়ালখালী বাজার ও লারমা স্কয়ার | মামুনের মৃত্যুর প্রতিবাদে মিছিল, সংঘর্ষ, দোকান ও ঘরবাড়িতে আগুন | ডেইলি স্টার, প্রথম আলো, বাংলা ট্রিবিউন, আইএসপিআর, জনসংহতি সমিতি |
| 19 সেপ্টেম্বর, রাত প্রায় 10:30–10:45 | খাগড়াছড়ি সদর, স্বনির্ভর ও নারানখাইয়া | সড়ক অবরোধ ও গুলি; নিহত হন একাধিক ব্যক্তি | আইএসপিআর, জনসংহতি সমিতি, ইউপিডিএফ |
| 20 সেপ্টেম্বর, সকাল প্রায় 10টা থেকে | রাঙামাটি শহর, বনরূপা, কালিন্দীপুর, বিজন সরণি | প্রতিবাদ মিছিল থেকে সংঘর্ষ; আঞ্চলিক পরিষদ কার্যালয়, দোকান, বাড়ি, যানবাহনে আগুন; অনিক কুমার চাকমা নিহত | আইএসপিআর, জনসংহতি সমিতি, রাঙামাটি জেলা প্রশাসন |
| 19–22 সেপ্টেম্বর | খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি | ফৌজদারি কার্যবিধির 144 ধারা জারি; রাঙামাটিতে 22 সেপ্টেম্বর সকালে, খাগড়াছড়িতে 21 সেপ্টেম্বর প্রত্যাহার | বিডিনিউজ২৪ |
| 21 সেপ্টেম্বর থেকে 72 ঘণ্টা | তিন পার্বত্য জেলা | “বিক্ষুব্ধ জুম্ম ছাত্র-জনতা”-র সড়ক ও নৌপথ অবরোধ | প্রথম আলো ইংরেজি, বিডিনিউজ২৪ |
| 26 সেপ্টেম্বর | চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় | সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন | chtnews24 (দৈনিক আজাদী থেকে) |
খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলার অবস্থান, আয়তন ও জনসংখ্যা জানতে দেখুন খাগড়াছড়ি জেলা পরিচিতি ও রাঙামাটি জেলা পরিচিতি।
পাঁচটি বিষয়ে সরকারি সূত্র, সেনাবাহিনী, জনসংহতি সমিতি, ইউপিডিএফ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কেউ ভিন্ন কথা বলেনি: ঘটনার শুরু 18 সেপ্টেম্বর মামুনের মৃত্যু দিয়ে; 19 সেপ্টেম্বর দীঘিনালার লারমা স্কয়ারে আগুন লাগে; সেই রাতে খাগড়াছড়ি সদরের স্বনির্ভরে গুলিতে মানুষ মারা যান; 20 সেপ্টেম্বর রাঙামাটিতে অনিক চাকমা নিহত হন; আর দুই জেলায় 144 ধারা জারি হয়।
এর বাইরে আরও কিছু তথ্যে বিরোধ পাওয়া যায় না:
বাকি প্রায় সব প্রশ্নে—কে আগে হামলা করেছে, স্বনির্ভরে কে গুলি চালিয়েছে, নিহতদের নাম-বয়স, ক্ষতির মাপ—সূত্রগুলো আলাদা কথা বলে। নিচের প্রতিটি অংশে সেই অমিলগুলো এক এক করে রাখা হয়েছে।
মো. মামুন মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে আহত হয়ে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে মারা যান—এটুকু সব সূত্রে আছে। কিন্তু তারিখ (18 না 19 সেপ্টেম্বর), জায়গা (নোয়াপাড়া, মধুপুর, পানখাইয়া পাড়া না শালবন), বয়স (30, 35 না 40) এবং মৃত্যুর কারণ (গণপিটুনি না বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা) নিয়ে বিবরণ ভিন্ন।
প্রথম আলো (19 সেপ্টেম্বর 2024), আইএসপিআরের 20 সেপ্টেম্বর 2024-এর বিবৃতি (খবরসংযোগের প্রতিবেদনে) এবং জনসংহতি সমিতি তারিখ দিয়েছে 18 সেপ্টেম্বর, বুধবার। এক বছর পর, 2025 সালের সেপ্টেম্বরে গুইমারার ঘটনা নিয়ে আইএসপিআর যে বিবৃতি দেয়, তাতে আগের বছরের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয় মামুন নিহত হন 19 সেপ্টেম্বর 2024 (প্রথম আলো, 28 সেপ্টেম্বর 2025)। chtnews24-এর 5 অক্টোবরের একটি প্রতিবেদনেও “১৯ সেপ্টেম্বর” লেখা, যদিও একই সাইটের বেশিরভাগ প্রতিবেদনে 18 সেপ্টেম্বর।
প্রথম আলো লিখেছে, খাগড়াছড়ি শহরের নোয়াপাড়া এলাকায় মামুনকে পেটানো হয়; ঢাকা ট্রিবিউন ও কালচারাল সারভাইভালও নোয়াপাড়া বলে। জনসংহতি সমিতির প্রতিবেদন বলে, খাগড়াছড়ি সদরের মধুপুর এলাকা থেকে মোটরসাইকেলটি নেওয়া হয়েছিল। 44 নাগরিকের বিবৃতিতে (ডেইলি স্টার বাংলা, 2 অক্টোবর) জায়গাটি “খাগড়াছড়ি সদরের পানখাইয়া পাড়া”। আর মামলার খবরে ডেইলি স্টার বাংলা (22 সেপ্টেম্বর) ও ঢাকা ট্রিবিউন লিখেছে “দীঘিনালা উপজেলার শালবন এলাকা”। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী মামুনের বাড়ি খাগড়াছড়ি সদরের শালবন মধ্যপাড়ায়।
এখানে দুটি বিবরণ পাশাপাশি আছে। খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বাতেন মৃধা প্রথম আলোকে বলেন, চুরি করা মোটরসাইকেল নিয়ে পালানোর সময় বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা খেয়ে মামুন আহত হন, আর “গণপিটুনির বিষয়টি তাঁর জানা নেই”। অন্যদিকে প্রথম আলোকেই মামুনের এক আত্মীয় বলেন, পানখাইয়া পাড়ার স্লুইসগেটের কাছে তাঁকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়, মাথা ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। আইএসপিআরের বিবৃতি বলে, “উত্তেজিত জনতা” তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করে। জনসংহতি সমিতির প্রতিবেদন দুটোই বলে: খুঁটিতে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যাওয়ার পর আশপাশের “বাঙালি ও জুম্ম জনতা” তাঁকে মারধর করে।
প্রথম আলো ও আইএসপিআর মামুনের বয়স লিখেছে 30, ঢাকা ট্রিবিউন 35, জনসংহতি সমিতি 40। মামলার এজাহারে তাঁর স্ত্রী জানান, মামুন একজন ফার্নিচার ব্যবসায়ী ছিলেন (ডেইলি স্টার বাংলা)। খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল ডেইলি স্টার বাংলাকে বলেন, মামুনের বিরুদ্ধে 17টি মামলা ছিল, যার 14টি চুরির। জনসংহতি সমিতির প্রতিবেদনেও “পুলিশ ও একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে” একই 17টি মামলার হিসাব আছে, তার মধ্যে 3টি মাদকের।
মামুনের স্ত্রী 19 সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। ডেইলি স্টার বাংলা ও ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়, সঙ্গে 10 থেকে 12 জন অজ্ঞাতনামা। ওসি আবদুল বাতেন মৃধা বলেন, “আমরা মামলা নিয়েছিলাম কিন্তু তদন্ত শুরু করার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।” জনসংহতি সমিতি ও 44 নাগরিকের বিবৃতি বলে, নামধারী তিন আসামিই বাঙালি। ঢাকা ট্রিবিউন লিখেছে, অজ্ঞাতনামা আসামিদের মধ্যে আদিবাসী ও বাঙালি দুই-ই আছেন।
19 সেপ্টেম্বর বিকেলে দীঘিনালায় মামুনের মৃত্যুর প্রতিবাদে একটি মিছিল বের হয়, আর বিকেল প্রায় 5টায় লারমা স্কয়ার ও বোয়ালখালী বাজারে দোকানপাটে আগুন লাগে—এ নিয়ে বিরোধ নেই। বিরোধ দুটি প্রশ্নে: মিছিলটি কারা করেছিল, আর সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল কার হামলায়।
20 সেপ্টেম্বরের বিবৃতিতে আইএসপিআর বলে, দীঘিনালা কলেজ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বোয়ালখালী বাজার অতিক্রম করার সময় ইউপিডিএফ (মূল)-এর “সন্ত্রাসীরা” মিছিলে হামলা করে “২০-৩০ রাউন্ড গুলি” ছোড়ে। এরপর “বিক্ষুব্ধ জনতা” বাজারের কয়েকটি দোকানে আগুন দেয়। দুই পক্ষের ছয়জন আহত হয়ে দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে যান। সেনা টহল দল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সঙ্গে আগুন নেভায় (খবরসংযোগ, 20 সেপ্টেম্বর 2024)। বাংলা ট্রিবিউনের 19 সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনেও স্থানীয় সূত্র ও শিক্ষার্থীদের বরাতে লেখা হয়, দীঘিনালা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের মিছিলে হামলা হয় ও কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) 3 অক্টোবর যে প্রতিবেদন প্রকাশ করে (chtnews24-এ পূর্ণ পাঠ), তাতে বলা হয়: বিকেল প্রায় 4টায় “বাঙালি ছাত্র পরিষদের ব্যানারে” দীঘিনালা উপজেলা সদরে মিছিল ও সমাবেশ হয়; সমাবেশের শেষে জুম্মদের ওপর লাঠি ও ইটপাটকেল দিয়ে হামলা হয়। আশপাশের জুম্মরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পিছু হটে; তখন সেনাবাহিনীর একটি দল এসে জুম্মদের সরিয়ে দেয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী কয়েক মিনিট পর হামলাকারীরা “দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে” সজ্জিত হয়ে ফিরে আসে এবং বিকেল প্রায় 5টায় বটতলার লারমা স্কয়ার স্টেশন বাজারে আগুন দেয়; প্রায় রাত 9টা পর্যন্ত কলেজ টিলা ও বাবু পাড়ায় হামলার চেষ্টা চলে। জনসংহতি সমিতির ভাষায় সেনাবাহিনী তখন “নিরব দর্শকের ভূমিকা” পালন করে।
প্রথম আলোর 19 সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বিকেল 5টার দিকে জামতলী ও বোয়ালখালী বাজারের দিক থেকে 300 থেকে 400 জন বাঙালি মিছিল নিয়ে লারমা স্কয়ারের দিকে যেতে চাইলে পাহাড়িরা বাধা দেন, তখন সংঘর্ষ শুরু হয়। একই প্রতিবেদনে দুই পক্ষের দুই বাসিন্দার বক্তব্য পাশাপাশি আছে। বোয়ালখালী বাজারের এক বাঙালি বাসিন্দা বলেন, মিছিল শান্তিপূর্ণ ছিল, মামুন হত্যার বিচার চাওয়া হচ্ছিল, পাহাড়িরা এসে বাধা দেন। লারমা স্কয়ারের এক পাহাড়ি বাসিন্দা বলেন, “মিছিলে পাহাড়িরা কেউ বাধা দেননি”, হামলা ও আগুন মিছিল থেকেই হঠাৎ শুরু হয়।
দ্য ডেইলি স্টার বাংলাকে (19 সেপ্টেম্বর) ঘটনাস্থলে থাকা একজন বলেন, একটি মসজিদের মাইক থেকে ঘোষণা দেওয়া হয় যে পাহাড়িরা বাঙালিদের ওপর হামলা করেছে, তার পর শত শত বাঙালি জড়ো হন। সিএইচটি কমিশন ও আইডব্লিউজিআইএর 20 সেপ্টেম্বরের যৌথ বিবৃতিও (দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে) দীঘিনালায় মসজিদের মাইক ব্যবহার করে লোক জড়ো করার অভিযোগ করে। এই অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসন বা পুলিশের কোনো বক্তব্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, একটি পক্ষ পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়েছে এবং সেই সুযোগে দুর্বৃত্তরা দোকানে আগুন দিয়েছে। ডেইলি স্টার বাংলাকে তিনি বলেন, এলাকাটি দুর্গম, তাই ফায়ার সার্ভিসকে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ বলেন, সেনা, পুলিশ ও বিজিবির যৌথ টহল চলছে, “আজ রাতটি খুব গুরুত্বপূর্ণ”। জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, মামুনের মৃত্যুর পর পানখাইয়া পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা সভা চলাকালেই দীঘিনালার খবর আসে।
দীঘিনালায় ক্ষতির কোনো একক সংখ্যা নেই। প্রথম দিনের প্রতিবেদনে “অন্তত 30টি” ঘর ও দোকান, এক সপ্তাহ পর জেলা প্রশাসনের হিসাবে 87টি স্থায়ী ও 94টি ভাসমান দোকান। সংখ্যাগুলো সময়ের সঙ্গে বেড়েছে, আবার একই দিনে দুই সূত্র দুই রকম বলেছে। নিচের ছকে প্রতিটি সংখ্যা তার সূত্রসহ।
| সূত্র ও তারিখ | কে বলেছে | সংখ্যা |
|---|---|---|
| ডেইলি স্টার বাংলা, 19 সেপ্টেম্বর | প্রতিবেদকের নিজের হিসাব | পাহাড়িদের “অন্তত ৩০টি বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান” |
| প্রথম আলো, 19 সেপ্টেম্বর | প্রতিবেদন | লারমা স্কয়ার ও দীঘিনালা কলেজের কাছে “প্রায় ৩৭টি ঘরবাড়ি ও দোকানপাট” |
| বাংলা ট্রিবিউন, 19 সেপ্টেম্বর রাত | দীঘিনালার ইউএনও মামুনুর রশীদ | “আগুনে ৬০টি দোকান পুড়ে গেছে”; ক্ষতির পরিমাণ তখনো জানা যায়নি |
| বিডিনিউজ২৪, 20 সেপ্টেম্বর | ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি | 60 থেকে 70টি দোকান |
| দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, 20 সেপ্টেম্বর | প্রতিবেদন | প্রায় 50টি দোকান |
| প্রথম আলো ইংরেজি, 21 সেপ্টেম্বর | ইউএনও মামুনুর রশীদ | বাসস্ট্যান্ড ও লারমা স্কয়ার এলাকায় 120টি দোকান; তার 78টি চাকমা-মালিকানাধীন, 24টি বাঙালি-মালিকানাধীন |
| ঢাকা ট্রিবিউন, 22 সেপ্টেম্বর | প্রতিবেদন | 100টির বেশি দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান |
| বাংলা ট্রিবিউন (বাসস থেকে), 28 সেপ্টেম্বর | খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন (খাগড়াছড়ি ও দীঘিনালা মিলিয়ে) | 87টি স্থায়ী দোকান (30টি বাঙালির, 57টি পাহাড়ির) ও 94টি ভাসমান দোকান পোড়ানো; 26টি দোকানে লুট; 20টি যানবাহনে আগুন; ক্ষতি 7 কোটি টাকা |
| জনসংহতি সমিতি, 3 অক্টোবর | দলের প্রতিবেদন | জুম্মদের অন্তত 52টি দোকান ও বাড়ি এবং 24টি মোটরবাইক ও অটোরিকশা; ক্ষতি “কমপক্ষে ৫ কোটি টাকা” |
| ইউএনবি/টিবিএস, 29 সেপ্টেম্বর | ছবির ক্যাপশন | লারমা স্কয়ারে প্রায় 50টি দোকান |
ছকের দুটি সংখ্যা মালিকানার ভাগ দেয়, আর দুটোই সরকারি সূত্রের: ইউএনওর হিসাবে 120টির মধ্যে 78টি চাকমা ও 24টি বাঙালি মালিকের (বাকি 18টির মালিকানা প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই); জেলা প্রশাসনের হিসাবে 87টি স্থায়ী দোকানের 57টি পাহাড়ি ও 30টি বাঙালি মালিকের। জেলা প্রশাসনের হিসাবটি খাগড়াছড়ি সদর ও দীঘিনালা দুই জায়গা মিলিয়ে, তাই শুধু লারমা স্কয়ারের সংখ্যার সঙ্গে সরাসরি মেলানো যায় না।
দীঘিনালার খবর ছড়ালে 19 সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে খাগড়াছড়ি সদরের স্বনির্ভর ও নারানখাইয়া এলাকায় পাহাড়ি ছাত্র-যুবকেরা জড়ো হন এবং রাত সাড়ে 10টার দিকে সেখানে গুলিতে মানুষ মারা যান। গুলি প্রথমে কোন দিক থেকে হয়েছিল, আর কতজন মারা গেছেন—এ দুই প্রশ্নে সেনাবাহিনী ও জনসংহতি সমিতির বিবরণ আলাদা।
| বিষয় | আইএসপিআর (20 সেপ্টেম্বর 2024) | জনসংহতি সমিতি (3 অক্টোবর 2024) | ইউপিডিএফ (20–21 সেপ্টেম্বর 2024) |
|---|---|---|---|
| সময় | রাত প্রায় 10:30 | রাত পৌনে 11টা | উল্লেখ নেই |
| সেনা দলটি কেন সেখানে | একজন মুমূর্ষু রোগী নিয়ে যাচ্ছিল | ক্যান্টনমেন্ট থেকে একটি গাড়ি স্বনির্ভরের দিকে যাচ্ছিল | উল্লেখ নেই |
| কে বাধা দিয়েছিল | ইউপিডিএফ (মূল)-এর নেতৃত্বে “উত্তেজিত জনসাধারণ” | গাছবান ও পেরাছড়া থেকে আসা ছাত্র-যুবক, যাদের ইউপিডিএফ পাঠিয়েছিল বলে প্রতিবেদনের দাবি | প্রতিবাদরত ছাত্র-জনতা |
| প্রথম গুলি | ইউপিডিএফ (মূল)-এর “সন্ত্রাসীরা” টহল দলের ওপর গুলি করে; সেনাবাহিনী “আত্মরক্ষার্থে” পাল্টা গুলি চালায় | বাকবিতণ্ডার পর ছাত্ররা গুলতি ব্যবহার করে; “এক পর্যায়ে সেনাবাহিনী সেখানে গুলিবর্ষণ করে” | আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রতিবাদকারীদের ওপর “এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ” করে |
| নিহত | 3 জন | 2 জন (জুনান চাকমা, রুবেল ত্রিপুরা) | 2 জন (জুনান চাকমা, রুবেল ত্রিপুরা) |
| আহত | “বেশ কয়েকজন” | অন্তত 20 জন জুম্ম ছাত্র-যুবক, একজনকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয় | 12 জনের বেশি; 7 জনকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়, 9 জনকে আটক করা হয় |
সূত্র: আইএসপিআরের বিবৃতি খবরসংযোগ (20 সেপ্টেম্বর 2024) ও বিডিনিউজ২৪ (3 অক্টোবর 2024)-এর প্রতিবেদনে; জনসংহতি সমিতির প্রতিবেদন chtnews24-এ (5 অক্টোবর 2024); ইউপিডিএফের সহসভাপতি নতুন কুমার চাকমার বিবৃতি ইত্তেফাকে (21 সেপ্টেম্বর 2024)।
কালচারাল সারভাইভালের 24 সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বলা হয়, স্বনির্ভর ও নারানখাইয়ায় সড়ক অবরোধের সময় সেনাসদস্যরা গুলি চালান এবং অন্তত নয়জন আহত হন; প্রতিবেদনে এটি প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ হিসেবেই লেখা। অন্যদিকে পার্বত্য উপদেষ্টার 7 অক্টোবরের সফর নিয়ে chtnews24-এর প্রতিবেদনের পটভূমি অংশে লেখা হয়, দীঘিনালার মিছিলে “সন্ত্রাসীরা গুলি-হামলা” চালায় এবং “খাগড়াছড়ি জেলা সদরে সেনাবাহিনীর উপরও পাল্টা গুলি চালানো হয়”।
লক্ষ করার বিষয়: আইএসপিআর স্বনির্ভরের ঘটনায় তিনজন নিহত বলেছে, আর জনসংহতি সমিতি সেখানে দুজন ও দীঘিনালায় একজন—মোট তিনজনই খাগড়াছড়ি জেলায়। দুই হিসাবের মোট সংখ্যা এক, কিন্তু তৃতীয় ব্যক্তিটি কোথায় ও কীভাবে মারা গেছেন, তা নিয়ে বিবরণ আলাদা। পরের অংশে নিহতদের নামের ছকে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
প্রধান সংবাদমাধ্যম ও সরকারি সফরের খবরে নিহত চারজনের নাম প্রকাশিত হয়েছে। তিনজনের নাম ও বয়সে সূত্রগুলো একমত নয়: খাগড়াছড়িতে নিহত “রুবেল”কে কেউ চাকমা, কেউ ত্রিপুরা লিখেছে; তৃতীয় জনের নাম কোথাও “ধনঞ্জয় চাকমা”, কোথাও “ধন রঞ্জন চাকমা”; আর অনিকের বয়স পাঁচটি সূত্রে পাঁচ রকম।
| যেভাবে লেখা হয়েছে | কোথায় মারা গেছেন | সূত্রভেদ |
|---|---|---|
| জুনান চাকমা | খাগড়াছড়ি সদর, স্বনির্ভর | বয়স 20 (প্রথম আলো, জনসংহতি সমিতি, 44 নাগরিক), 22 (ইউপিডিএফ, কালচারাল সারভাইভাল)। পার্বত্য উপদেষ্টার সফরের খবরে বানান “জুনাল চাকমা” (chtnews24)। জনসংহতি সমিতির মতে পানছড়ি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থী। |
| রুবেল ত্রিপুরা / রুবেল চাকমা | খাগড়াছড়ি সদর, স্বনির্ভর | “রুবেল ত্রিপুরা”: জনসংহতি সমিতি (বয়স 30), ইউপিডিএফ (24), কালচারাল সারভাইভাল (24), প্রথম আলোর রাঙামাটি-ডেটলাইন প্রতিবেদন (30), পার্বত্য উপদেষ্টার সফরের খবর। “রুবেল চাকমা”: প্রথম আলো 21 সেপ্টেম্বর (30) ও 44 নাগরিকের বিবৃতি (20)। |
| ধনঞ্জয় চাকমা / ধন রঞ্জন চাকমা | দীঘিনালা (জনসংহতি সমিতি: মাইনী ব্রিজ এলাকা) | “ধনঞ্জয় চাকমা”, বয়স 50: প্রথম আলো, 44 নাগরিক, কালচারাল সারভাইভাল; পার্বত্য উপদেষ্টা 8 অক্টোবর দীঘিনালায় “ধনঞ্জয় চাকমার বাড়ী” যাবেন বলে জানানো হয়। “ধন রঞ্জন চাকমা”, বয়স 52: জনসংহতি সমিতি; ইউপিডিএফ লিখেছে বয়স 50 এবং মৃত্যু খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে। প্রথম আলোর ইংরেজি সংস্করণ 21 সেপ্টেম্বর তাঁকে খাগড়াছড়িতে বৃহস্পতিবারের গুলি ও সংঘর্ষে নিহতদের তালিকায় রাখে, স্থান আলাদা করে বলেনি; প্রথম আলোর 3 অক্টোবরের প্রতিবেদন লিখেছে, 19 সেপ্টেম্বর দীঘিনালায় মারধরের পর তিনি মারা যান। জনসংহতি সমিতিও বলে দীঘিনালায় হামলায় আহত হয়ে তাঁর মৃত্যু। |
| অনিক কুমার চাকমা / অনিক চাকমা | রাঙামাটি শহর, নিউমার্কেট-সংলগ্ন কালিন্দীপুর সড়ক | বয়স 17 (44 নাগরিক), 18 (জনসংহতি সমিতি), 19 (ঢাকা ট্রিবিউন), 22 (কালচারাল সারভাইভাল), 25 (প্রথম আলো)। জনসংহতি সমিতি ও প্রথম আলোর মতে কাপ্তাই কর্ণফুলী সরকারি ডিগ্রি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষের ছাত্র; প্রথম আলো ইংরেজি সংস্করণে “অনার্সের ছাত্র”। |
মামুনকে এই চারজনের হিসাবে ধরা হয়নি। প্রথম আলো ইংরেজি সংস্করণের 21 সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন মামুনসহ পাঁচজনের নাম দিলেও শিরোনামে চারজনের মৃত্যুর কথা বলে। অন্যদিকে মৃত্যুর কারণ নিয়ে সূত্রগুলো বিভক্ত: জনসংহতি সমিতি বলে, চারজনের মধ্যে দুজন সেনাবাহিনীর গুলিতে এবং দুজন “সেটেলার বাঙালি”-দের হামলায় নিহত; আইএসপিআর বলে স্বনির্ভরে নিহত তিনজন ইউপিডিএফের গুলির জবাবে চালানো গুলির ঘটনায় মারা গেছেন; ইউপিডিএফ বলে দুজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে এবং ধন রঞ্জন চাকমা “সেনা-সেটলারদের হামলায়” নিহত।
ময়নাতদন্তের কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। ফলে কে কোন অস্ত্রে মারা গেছেন, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করার মতো সরকারি নথি নেই।
20 সেপ্টেম্বর সকালে রাঙামাটি জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গণ থেকে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালার ঘটনার প্রতিবাদে একটি মিছিল বের হয়, বনরূপায় পৌঁছে সংঘর্ষ শুরু হয়, তারপর বনরূপা, কালিন্দীপুর ও বিজন সরণিতে আগুন ও ভাঙচুর হয় এবং অনিক চাকমা নিহত হন। মিছিলটি কোন সংগঠনের ছিল, আর প্রথম ঢিল কে ছুড়েছিল—এ নিয়ে চারটি আলাদা বিবরণ আছে।
আইএসপিআরের বিবৃতি বলে, জনসংহতি সমিতি-সমর্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) এবং স্থানীয়রা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র ব্যানারে জিমনেসিয়াম এলাকায় জড়ো হন। 800 থেকে 1,000 জন বনরূপার দিকে মিছিল নিয়ে যান এবং একটি মসজিদ, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর ও আগুন দেন। দুই পক্ষেই আহত হন (খবরসংযোগ, 20 সেপ্টেম্বর 2024)।
জনসংহতি সমিতির প্রতিবেদন অনুযায়ী মিছিলটি “সংঘাত ও বৈষম্য বিরোধী পাহাড়ি ছাত্র আন্দোলন”-এর ব্যানারে। প্রতিবেদন বলে, শিল্পকলা একাডেমির কাছে প্রায় 200 জন “অপরিচিত ছাত্র-যুবক” মিছিলে যোগ দেন, যাদের আয়োজকেরা চিনতেন না, আর তাঁরা ইউপিডিএফের সঙ্গে যুক্ত। মিছিল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘুরে ফিরে আসার কথা থাকলেও তাঁরা সেটিকে বনরূপার দিকে নিয়ে যান, হ্যাপী মোড়ে কয়েকজন বাঙালিকে ধাওয়া করেন। বনরূপা পেট্রোল পাম্পের কাছে একটি দোকানের ছাদ থেকে একজন মিছিলে ইটপাটকেল ছোড়েন, তারপর দুই দিক থেকে ইট ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। এরপর বনরূপায় জুম্মদের বাড়ি, সেভরন ও মেডিনেট ক্লিনিক, বিজন সরণির দোকান, জনসংহতি সমিতির রাঙামাটি জেলা কার্যালয় ও আঞ্চলিক পরিষদে হামলা হয় বলে প্রতিবেদনের দাবি।
ইউপিডিএফের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব চাকমা 3 অক্টোবর জনসংহতি সমিতির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেন, মিছিলে জেলার সব এলাকার সাধারণ ছাত্ররা অংশ নেন, আর মিছিল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় পর্যন্ত যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল এমন কোনো তথ্য তাঁদের জানা নেই। তাঁর বক্তব্য, “বনরূপা মসজিদ থেকে মাইকে ‘পাহাড়িরা মসজিদ আক্রমণ করছে’ বলে ঘোষণা” দেওয়ার পরই মিছিলে হামলা শুরু হয় (chtnews24, 5 অক্টোবর 2024)। ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা প্রথম আলোকে বলেন, জনসংহতি সমিতির অভিযোগ “উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সাজানো”; তবে মিছিলকারীরা ইউপিডিএফ-নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে এসেছিলেন এবং দলটি তাঁদের “নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে” সমর্থন দেয়।
20 সেপ্টেম্বরের যৌথ বিবৃতি বলে, বনরূপা বাজারে জুম্মদের মিছিলের ওপর ইট ছোড়া হয়, যা সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়। বিবৃতির অভিযোগ, বনরূপা বাজার জামে মসজিদের মাইক থেকে কেউ মিথ্যা ঘোষণা দেন যে জুম্মরা মসজিদে হামলা করতে আসছে, যাতে আতঙ্ক ছড়ায়। বিবৃতিতে বনরূপা, চম্পকনগর ও বিজন সরণিতে বাড়ি ও দোকানে আগুন, আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যানের কার্যালয় ও পিসিপির কার্যালয়ে আগুন এবং কাঁঠালতলী মৈত্রী বিহারে ভাঙচুর ও লুটের কথা আছে (দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, 21 সেপ্টেম্বর 2024)।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ে গঠিত কোর কমিটির হিসাবে ক্ষতি 9 কোটি 22 লাখ 45 হাজার টাকা। তালিকায় আছে: আঞ্চলিক পরিষদ ভবন ও গ্যারেজে আগুন, সেখানে রাখা 9টি গাড়ি পোড়ানো, জেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের অস্থায়ী কার্যালয়ে ভাঙচুর, 8টি ব্যাংকে ভাঙচুর, 10টি মোটরসাইকেলে আগুন ও 8টিতে ভাঙচুর, 18টি বসতবাড়ি, 89টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও 85টি ভাসমান দোকানে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, 2টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, একটি মসজিদ ও একটি বৌদ্ধ বিহারে ভাঙচুর (chtnews24, 29 সেপ্টেম্বর 2024, দৈনিক আজাদী থেকে)। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান জানান, তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
জনসংহতি সমিতির হিসাব আলাদা: জুম্মদের 24টি বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানে আগুন, ভাঙচুর ও লুট, ক্ষতি প্রায় 5 কোটি টাকা। আঞ্চলিক পরিষদের একটি পিকআপ, পাঁচটি পাজেরো, দুটি ব্যক্তিগত গাড়ি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের একটি পাজেরো ও একটি পিকআপে আগুন দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, মৈত্রী বিহার থেকে 7টি দানবাক্স, 90 হাজার টাকা, 10টি বুদ্ধমূর্তি ও একটি ল্যাপটপ লুট হয়, আর তবলছড়ির আনন্দ বিহারে ইট ছোড়া হয়। প্রথম আলো লিখেছে, বনরূপা ও কালিন্দীপুরে আঞ্চলিক পরিষদ কার্যালয়সহ 30 থেকে 40টি ঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন বা ভাঙচুর হয় এবং অন্তত 30টি যানবাহন পোড়ানো হয়।
জনসংহতি সমিতি বলে, অনিক কুমার চাকমা নিউমার্কেট-সংলগ্ন কালিন্দীপুর সড়কে লাঠি দিয়ে আঘাতে নিহত হন। 44 নাগরিকের বিবৃতি ও এএলআরডির বিবৃতিতে বলা হয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে “২০০ গজের মধ্যে” একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়, ঘটনার ভিডিওতে হামলাকারীদের মুখ দেখা যায়। ডেইলি স্টার বাংলা লিখেছে, গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহতের সংখ্যা হাসপাতালে ভর্তি, ঘরে চিকিৎসা নেওয়া ও সংগঠনের তালিকা মিলিয়ে এক সূত্রে 80, আরেক সূত্রে শতাধিক। প্রথম আলো হাসপাতাল সূত্রে দুই জেলায় মোট 80 জন আহতের কথা লিখেছে; জনসংহতি সমিতি শুধু রাঙামাটিতেই “প্রায় শতাধিক” জুম্ম আহত বলেছে।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় 20 সেপ্টেম্বর বিবৃতিতে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানায় এবং “একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি শিগগিরই” গঠনের ঘোষণা দেয়। 21 সেপ্টেম্বর চার সদস্যের উপদেষ্টা প্রতিনিধিদল রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি যায়। 26 সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন, আর অক্টোবরে দুই জেলায় নিহতদের পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
বিবৃতি শুরু হয় এভাবে: “খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে সৃষ্ট সমস্যা নিরসনে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।” এতে চলমান হামলা ও প্রাণহানিতে দুঃখ প্রকাশ করা হয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সংযম দেখাতে নির্দেশ দেওয়া হয়, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বলা হয় এবং বলা হয়, “আইন নিজ হাতে তুলে নেওয়া এবং যেকোনো সম্পত্তি ধ্বংস করা দণ্ডনীয় ও গর্হিত অপরাধ” (ডেইলি স্টার বাংলা)। কালচারাল সারভাইভালের প্রতিবেদন অনুযায়ী বিবৃতিতে নিহতদের পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি-ব্যবসার মালিকদের ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের বিনা মূল্যে চিকিৎসার প্রতিশ্রুতিও ছিল।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজ রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি যান। রাঙামাটিতে মতবিনিময় সভার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “যারা আইনশৃঙ্খলার অবনতি করতে চাচ্ছে, তাদের কোনো অবস্থায় ছাড় দেওয়া হবে না”, এবং একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানান। হাসান আরিফ বলেন, বাইরে থেকে সম্প্রীতি নষ্টের ষড়যন্ত্র হচ্ছে (প্রথম আলো, 21 সেপ্টেম্বর 2024)।
44 নাগরিকের বিবৃতি ও এএলআরডির বিবৃতিতে এই সফরের সমালোচনা করে বলা হয়, উপদেষ্টারা সেনানিবাসে পাহাড়ি-বাঙালি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করলেও নিহতদের পরিবার বা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যাননি।
দুই জেলায় 144 ধারা জারি হয়। বিডিনিউজ২৪ (22 সেপ্টেম্বর) জানায়, রাঙামাটিতে 46 ঘণ্টা পর রোববার সকাল 11টায় এবং খাগড়াছড়িতে শনিবার আদেশ প্রত্যাহার হয়। কালচারাল সারভাইভাল লিখেছে, তিন জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট 20 থেকে 22 সেপ্টেম্বর আদেশ বলবৎ রাখেন। “বিক্ষুব্ধ জুম্ম ছাত্র-জনতা” 21 সেপ্টেম্বর সকাল 6টা থেকে তিন পার্বত্য জেলায় 72 ঘণ্টার সড়ক ও নৌপথ অবরোধ ডাকে, যাতে “সংঘাত ও বৈষম্যবিরোধী পাহাড়ি ছাত্র আন্দোলন” ও ইউপিডিএফ সমর্থন দেয়; রাঙামাটির পরিবহন মালিকেরা যানবাহন পোড়ানোর প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডাকেন (প্রথম আলো ইংরেজি)। বাঘাইছড়ির ইউএনও জানান, সাজেকে প্রায় দেড় হাজার পর্যটক আটকে ছিলেন (বিডিনিউজ২৪)। প্রশাসন 25 সেপ্টেম্বর থেকে সাজেক ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করে, আর 6 অক্টোবর 8 থেকে 31 অক্টোবর তিন জেলায় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানায় (chtnews24)।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলামের অফিস আদেশে কমিটির আহ্বায়ক চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নূরী; সদস্য রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। কাজ তিনটি: সহিংসতার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, জড়িতদের চিহ্নিত করা এবং পুনরাবৃত্তি রোধে সুপারিশ। সময় দুই সপ্তাহ; chtnews24-এর আরেক প্রতিবেদনে “১৪ কার্যদিবস”। গঠনের তারিখ chtnews24-এর দুটি প্রতিবেদনে 26 সেপ্টেম্বর, তৃতীয়টিতে “বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর)”। কমিটি 29 সেপ্টেম্বর দীঘিনালার লারমা স্কয়ার এবং 30 সেপ্টেম্বর রাঙামাটির বনরূপা বাজার, বনরূপা মসজিদ ও মৈত্রী বিহার পরিদর্শন করে। নূরুল্লাহ নূরী জানান, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য, ভিডিও ফুটেজ ও পত্রিকার প্রতিবেদন দেখে প্রতিবেদন দেওয়া হবে (ইউএনবি; chtnews24)।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা 7 অক্টোবর খাগড়াছড়িতে মামুন, রুবেল ত্রিপুরা ও জুনান চাকমার পরিবারকে প্রাথমিকভাবে 1 লাখ টাকা করে দেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত 237টি পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেন; পরদিন দীঘিনালায় ধনঞ্জয় চাকমার বাড়ি যাওয়ার কথা জানানো হয় (chtnews24, 8 অক্টোবর)। এই 237 পরিবারের হিসাবে 1 অক্টোবরের আলাদা ঘটনার ক্ষতিগ্রস্তরাও আছেন কি না, প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়। রাঙামাটির জেলা প্রশাসক 22 অক্টোবর আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত 21 জন ব্যবসায়ীকে 25 হাজার টাকা করে এবং ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত 5 জনকে 20 হাজার টাকা করে, মোট 6 লাখ 25 হাজার টাকা দেন; তিনি বলেন, এ সহায়তা “ক্ষতির তুলনায় কিছু নয়” (chtnews24)।
আইএসপিআরের 20 সেপ্টেম্বরের বিবৃতি দীঘিনালার মিছিলে গুলি এবং স্বনির্ভরের গুলিবিনিময়ের জন্য ইউপিডিএফ (মূল)-কে দায়ী করে, রাঙামাটির মিছিলের জন্য পিসিপিকে উল্লেখ করে এবং সতর্ক করে যে উত্তেজনা “ভয়াবহ দাঙ্গা”-য় রূপ নিতে পারে। জনসংহতি সমিতি ও পিসিপি এই বিবৃতির বিরোধিতা করে।
বিবৃতির অন্যান্য অংশ: মামুনের মৃতদেহ পুলিশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারকে দেয়; জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে জরুরি ভার্চুয়াল সভায় 19 সেপ্টেম্বর রাত 10টা থেকে সেনা, বিজিবি, পুলিশ ও আনসারের যৌথ টহলের সিদ্ধান্ত হয়; পানছড়িতে মোটরসাইকেল আরোহী তরুণদের থামিয়ে মারধর এবং ফায়ার সার্ভিস অফিসে ভাঙচুর হয়; সামাজিক মাধ্যমে “স্বার্থান্বেষী মহল” গুজব ছড়াচ্ছে। শেষে বলা হয়, “তিন পার্বত্য জেলায় শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সর্বসাধারণকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।” এখানে বিবৃতির বিবরণ নেওয়া হয়েছে খবরসংযোগ ও বিডিনিউজ২৪-এর প্রতিবেদন থেকে।
জনসংহতি সমিতির প্রতিবেদন বলে, “ভয়াবহ দাঙ্গা”-র সতর্কবার্তা “সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার আগাম প্রচারণার সামিল”। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত পিসিপির প্রতিবাদে বলা হয়, আইএসপিআরের বক্তব্য “সাম্প্রদায়িক, দায়িত্বহীন, একপেশে ও উস্কানিমূলক” এবং রাঙামাটির কর্মসূচিতে পিসিপির কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।
এক বছর পর, সেপ্টেম্বর 2025-এ খাগড়াছড়ি ও গুইমারার সহিংসতা নিয়ে আইএসপিআর যে বিবৃতি দেয়, তাতে আগের বছরের ঘটনা সংক্ষেপে বলা হয়: মামুন নিহত হওয়ার পর ইউপিডিএফ ও তার অঙ্গসংগঠন দীঘিনালা ও রাঙামাটিতে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করে, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়, এবং তাতে তিনজন নিহত ও কয়েকজন আহত হন (প্রথম আলো, 28 সেপ্টেম্বর 2025)।
জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফ দুই দলই সহিংসতাকে “সেটেলার বাঙালি”-দের হামলা বলেছে এবং বিচার চেয়েছে, কিন্তু রাঙামাটির মিছিলে কার ভূমিকা ছিল তা নিয়ে দুই দল একে অপরের বিবরণ প্রত্যাখ্যান করেছে। ছাত্র ও নাগরিকদের একটি অংশ ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিক্ষোভ এবং তিন জেলায় অবরোধ করে।
দলের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমার পাঠানো প্রতিবেদনে ঘটনাগুলোকে “বিশেষ মহলের সহযোগিতায়” সংঘটিত “সাম্প্রদায়িক হামলা” বলা হয় (প্রথম আলো, 3 অক্টোবর 2024)। প্রতিবেদনের দাবি, 1997 সালের চুক্তির পর এটিসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে 21টি সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছে। সুপারিশ তিনটি: বিচার বিভাগীয় তদন্ত, নিহত-আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসা, আর জড়িতদের “দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি”। দলটি সমাধান হিসেবে চুক্তি বাস্তবায়নের কথা বলে; চুক্তির ধারা ও বাস্তবায়নের হিসাব দেখুন পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি 1997: ধারা ধরে ধরে লেখায়।
দলের সহসভাপতি নতুন কুমার চাকমা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার এ হামলার দায় এড়াতে পারে না, এবং জড়িত “সেনা ও সেটলারদের” বিচার, ক্ষতিপূরণ ও সাম্প্রদায়িক হামলা বন্ধের দাবি জানান (ইত্তেফাক, 21 সেপ্টেম্বর 2024)। খাগড়াছড়ির সংগঠক অংগ্য মারমা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বিকেল থেকে নিরাপত্তা বাহিনী হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। জনসংহতি সমিতির প্রতিবেদনকে দলটি “চরম প্রতিক্রিয়াশীল” অপপ্রচার বলে প্রত্যাখ্যান করে।
পিসিপি আইএসপিআরের বক্তব্যের প্রতিবাদ করে এবং জড়িতদের শাস্তি ও চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি জানায়। “বিক্ষুব্ধ জুম্ম ছাত্র-জনতা” 20 সেপ্টেম্বর ঢাকার রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল করে শাহবাগ মোড় প্রায় 25 মিনিট অবরোধ করে। তাদের দাবির মধ্যে ছিল তিন জেলায় জুম্মদের জানমালের নিরাপত্তা, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তি, নিহতদের ক্ষতিপূরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধ বিহার পুনর্নির্মাণ (বিডিনিউজ২৪)। একই দিন চট্টগ্রামের চেরাগী পাহাড়ে 72 ঘণ্টার অবরোধের ঘোষণা আসে।
জনসংহতি সমিতির প্রতিবেদন অনুযায়ী দীঘিনালার 19 সেপ্টেম্বরের মিছিল “বাঙালি ছাত্র পরিষদের ব্যানারে” হয়েছিল; আইএসপিআর ও বাংলা ট্রিবিউন এটিকে দীঘিনালা কলেজের শিক্ষার্থীদের মিছিল বলেছে। মিছিলে অংশ নেওয়া পক্ষের বক্তব্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসেছে মূলত স্থানীয় বাসিন্দাদের মুখে: মিছিল শান্তিপূর্ণ ছিল এবং মামুন হত্যার বিচার চাওয়া হচ্ছিল (প্রথম আলো)। কোনো বাঙালি সংগঠনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা নিজস্ব হতাহত-ক্ষতির হিসাব প্রধান সংবাদমাধ্যমে পাওয়া যায়নি। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের হিসাবে পোড়া স্থায়ী দোকানের 30টি বাঙালি মালিকের, আর দীঘিনালার ইউএনওর হিসাবে 24টি; প্রথম আলোর সংবাদদাতার বরাতে বোয়ালখালী বাজারের এক বাঙালি বাসিন্দা বলেন, “এভাবে ঘরবাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হবে, এটা ভাবিনি।”
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত অভিযোগ নিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কাছে 6 নভেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন চায়। সিএইচটি কমিশন, আইডব্লিউজিআইএ ও এআইপিপি জাতিসংঘ-নেতৃত্বাধীন তদন্ত চায় এবং সরকারের সাত সদস্যের কমিটির ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। দেশের নাগরিক সমাজের দুটি বিবৃতি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত ও ভিডিওতে শনাক্ত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার চায়।
কমিশন 22 সেপ্টেম্বর দীঘিনালার সংঘর্ষ ও দোকান-বাড়িতে আগুনকে “deeply troubling” বলে, দ্রুত আইনি ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ চায়, স্বতঃপ্রণোদিত অভিযোগ নেয় এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারকে জড়িতদের চিহ্নিত করে 6 নভেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলে। ঢাকা ট্রিবিউনের একই প্রতিবেদনে দুই জেলায় চারজন নিহত ও অন্তত 80 জন আহত বলে উল্লেখ আছে।
সিএইচটি কমিশন ও আইডব্লিউজিআইএ 20 সেপ্টেম্বর এবং এআইপিপিকে নিয়ে 8 অক্টোবর দুটি বিবৃতি দেয়। দ্বিতীয়টিতে বলা হয়, 19 সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা এবং 20 সেপ্টেম্বর রাঙামাটিতে “রাষ্ট্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে” সেটলারদের হামলায় চারজন আদিবাসী নিহত হন—একজন রাঙামাটিতে, তিনজন খাগড়াছড়িতে। বিবৃতির মূল্যায়ন, সাত সদস্যের কমিটির 1956 সালের কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্টের ক্ষমতা নেই এবং সদস্যরা পদমর্যাদায় জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের তলব করার মতো অবস্থানে নেই; লংগদু, মাটিরাঙ্গা-তাইন্দং ও বাঘাইহাটের আগের তদন্তের কোনোটির ফলাফল প্রকাশ হয়নি। দাবির মধ্যে আছে জাতিসংঘকে তদন্তে আমন্ত্রণ, পূর্ণ দেওয়ানি আদালতের ক্ষমতাসহ স্বাধীন তদন্ত কমিশন, 144 ধারা চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার তদন্ত এবং “অপারেশন উত্তরণ” প্রত্যাহার (এআইপিপির ওয়েবসাইট; টিবিএস)। এই নির্বাহী আদেশটি কী, তা নিয়ে দেখুন অপারেশন উত্তরণ: নথিতে যা আছে, যা নেই। একই বিবৃতি বসতি স্থাপনকারীদের পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে পুনর্বাসনের দাবিও তোলে; বসতি স্থাপন ও জনসংখ্যার অনুপাতের নথিভিত্তিক হিসাব আছে পাহাড়ি ও বাঙালি জনসংখ্যার অনুপাত, 1941–2022 লেখায়।
2 অক্টোবর সুলতানা কামাল, খুশী কবির, জেড আই খান পান্না, ইফতেখারুজ্জামান, সারা হোসেন, শহিদুল আলম, পল্লব চাকমাসহ 44 জন নাগরিকের বিবৃতি প্রকাশিত হয় (ডেইলি স্টার বাংলা)। প্রায় একই ভাষায় এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদার সই করা বিবৃতিও আসে (বিডিনিউজ২৪)। দুটিতেই পাঁচ দফা দাবি: চারটি হত্যাসহ সব ঘটনার স্বচ্ছ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত এবং ভিডিওতে শনাক্তদের গ্রেপ্তার; নিহত চার পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ; কোনো রাষ্ট্রীয় সংস্থার গোপন সহায়তা বন্ধ; চুক্তি বাস্তবায়নের সময়বদ্ধ রোডম্যাপ; এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গোলটেবিল আলোচনা। 44 নাগরিকের বিবৃতি বলে, স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী কিছু নিরাপত্তাকর্মী শৃঙ্খলা ফেরানোর বদলে হামলাকারীদের উৎসাহ দেন।
কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা কালচারাল সারভাইভালকে বলেন, ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তখনো চলছে, আগের তদন্তগুলো প্রতিবেদন দিলেও ব্যবস্থা হয়নি, আর রাঙামাটির হত্যার ভিডিও প্রকাশ্যে থাকা সত্ত্বেও গ্রেপ্তার না হওয়া “culture of impunity”-র ইঙ্গিত। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সরকারকে অবিলম্বে মব-সহিংসতা বন্ধ ও এর মূল কারণ মোকাবিলার আহ্বান জানায়। আইডব্লিউজিআইএ মামুনের মৃত্যুরও পূর্ণ তদন্ত চায়।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনটি মামলা হয়েছিল: খাগড়াছড়ি সদর থানায় মামুন হত্যার মামলা, রাঙামাটি কোতোয়ালী থানায় অনিক চাকমা হত্যার মামলা, আর রাঙামাটিতে পুলিশের করা অগ্নিসংযোগ-ভাঙচুরের মামলা। 9 অক্টোবরের মধ্যে রাঙামাটির দুই মামলায় মোট সাতজন গ্রেপ্তার হন। খাগড়াছড়ির স্বনির্ভর ও দীঘিনালার মৃত্যুর ঘটনায় কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারের খবর প্রধান সংবাদমাধ্যমে পাওয়া যায়নি।
| মামলা | বাদী ও আসামি | গ্রেপ্তার (যতদূর প্রকাশিত) |
|---|---|---|
| মামুন হত্যা, খাগড়াছড়ি সদর থানা, 19 সেপ্টেম্বর | মামুনের স্ত্রী; তিনজন নামধারী ও 10–12 জন অজ্ঞাতনামা | 22 সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হননি (ডেইলি স্টার বাংলা, ঢাকা ট্রিবিউন); পরের অবস্থা জানা যায়নি |
| অনিক চাকমা হত্যা, রাঙামাটি কোতোয়ালী থানা | অনিকের বাবা; অজ্ঞাতনামা আসামি | 4 অক্টোবর মানিকছড়ি থেকে একজন, 5 অক্টোবর রাঙামাটি শহর থেকে একজন (17 বছর বয়সী), 9 অক্টোবর চাঁদপুর থেকে একজন—মোট 3 জন |
| অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর, রাঙামাটি কোতোয়ালী থানা | পুলিশ | 5 অক্টোবর দুজন (একজন 17 বছর বয়সী), 9 অক্টোবর ভেদভেদী থেকে আরও দুজন—মোট 4 জন |
সূত্র: chtnews24 (5 ও 10 অক্টোবর 2024), যেখানে রাঙামাটির পুলিশ সুপার এস এম ফরহাদ হোসেন ও কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ সাহেদ উদ্দিনের বক্তব্য আছে। দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে আদালতের আদেশে নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়। পুলিশ সুপার বলেন, “আমরা সাদা-কালো, জাতি-বর্ণ কিছুই দেখবো না। যে দোষী তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।” এখানে আসামিদের নাম দেওয়া হয়নি, কারণ তাঁরা অভিযুক্ত, দণ্ডিত নন, আর দুজন শিশু।
সাত সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা হয়েছে কি না, কিংবা তার কোনো অংশ প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি। মানবাধিকার কমিশন 6 নভেম্বর 2024-এর মধ্যে যে প্রতিবেদন চেয়েছিল, সেটিরও কোনো প্রকাশিত পাঠ পাওয়া যায়নি। আগের তদন্তগুলোর ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন আর তার ওপর আপত্তির একটি পুরোনো উদাহরণ দেখুন লোগাং গণহত্যা 1992 তদন্ত লেখায়।
খাগড়াছড়িতে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে এবং ঠিক এক বছর পর আরও দুটি আলাদা ঘটনা ঘটে। সংবাদ ও সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই এগুলোর সংখ্যা ও ছবি সেপ্টেম্বর 2024-এর ঘটনার সঙ্গে মিশে যায়।
সেপ্টেম্বর 2024-এ সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো কোন ছবি ও ভিডিও আসলে কোথাকার ছিল, তা নিয়ে জুমজার্নালের আলাদা লেখা “পার্বত্য চট্টগ্রাম গুজব: সেপ্টেম্বর 2024-এ ছড়ানো ভুয়া ছবি ও ভিডিও আসলে কোথাকার” প্রকাশের অপেক্ষায়। 2025-এর ঘটনার তদন্তের অবস্থা নিয়ে আলাদা লেখা “খাগড়াছড়ি গুইমারা সহিংসতা তদন্ত: সেপ্টেম্বর 2025-এর ঘটনায় কোন তদন্ত কে করছে, এ পর্যন্ত কী প্রকাশিত”-ও প্রস্তুত হচ্ছে। পাহাড়ি ও বাঙালি সহাবস্থান এবং আগের নথিভুক্ত ঘটনাগুলোর তালিকা নিয়ে আরেকটি লেখা “পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি ও বাঙালি সহাবস্থান: জনসংখ্যার অনুপাত, বসতি স্থাপন কর্মসূচি ও নথিভুক্ত ঘটনা”-ও প্রকাশের অপেক্ষায়।
18 থেকে 20 সেপ্টেম্বর 2024। 18 সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি শহরে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে মো. মামুনের মৃত্যু হয়। 19 সেপ্টেম্বর বিকেলে দীঘিনালার লারমা স্কয়ারে দোকানপাটে আগুন এবং রাতে খাগড়াছড়ি সদরের স্বনির্ভরে গুলি হয়। 20 সেপ্টেম্বর রাঙামাটি শহরে সংঘর্ষে অনিক চাকমা নিহত হন। আইএসপিআরের 2025 সালের একটি বিবৃতিতে মামুনের মৃত্যুর তারিখ 19 সেপ্টেম্বর লেখা।
মামুন ছাড়া চারজন: খাগড়াছড়িতে তিনজন, রাঙামাটিতে একজন। এই সংখ্যা প্রথম আলোর হাসপাতাল সূত্র, ঢাকা ট্রিবিউন, জনসংহতি সমিতি এবং সিএইচটি কমিশন-আইডব্লিউজিআইএ-এআইপিপির বিবৃতিতে একই। মামুনকে ধরলে মোট পাঁচজন। আইএসপিআর বলেছে স্বনির্ভরের গুলির ঘটনায় তিনজন নিহত; জনসংহতি সমিতি বলেছে সেখানে দুজন, দীঘিনালায় একজন।
প্রকাশিত নাম: জুনান চাকমা, রুবেল ত্রিপুরা (কিছু প্রতিবেদনে রুবেল চাকমা), ধনঞ্জয় চাকমা (জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফের বিবৃতিতে ধন রঞ্জন চাকমা) এবং রাঙামাটিতে অনিক কুমার চাকমা। অনিকের বয়স পাঁচটি সূত্রে 17 থেকে 25 পর্যন্ত পাঁচ রকম লেখা হয়েছে। এর আগে 18 সেপ্টেম্বর মারা যান মো. মামুন, যাঁর বয়স সূত্রভেদে 30, 35 বা 40।
সংখ্যা সূত্রভেদে 30 থেকে 181। দীঘিনালার ইউএনও প্রথমে 60টি, পরে 120টি দোকানের কথা বলেন, যার 78টি চাকমা ও 24টি বাঙালি মালিকের। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের হিসাবে খাগড়াছড়ি ও দীঘিনালা মিলিয়ে 87টি স্থায়ী দোকান (57টি পাহাড়ির, 30টি বাঙালির) ও 94টি ভাসমান দোকান পোড়ে, ক্ষতি 7 কোটি টাকা। জনসংহতি সমিতি বলেছে জুম্মদের অন্তত 52টি দোকান ও বাড়ি।
এ প্রশ্নে বিবরণ দুই রকম। আইএসপিআর বলে, রাত সাড়ে 10টায় রোগী বহনকারী সেনা টহল দলকে ইউপিডিএফ (মূল)-এর নেতৃত্বে বাধা দেওয়া হয়, তারা গুলি করে, সেনাবাহিনী আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফ বলে, প্রতিবাদরত ছাত্র-যুবকদের ওপর সেনাবাহিনী গুলি চালায়। কোনো স্বাধীন তদন্তের প্রকাশিত ফল নেই।
20 সেপ্টেম্বর সকালে জিমনেসিয়াম থেকে বের হওয়া প্রতিবাদ মিছিল বনরূপায় পৌঁছানোর পর সংঘর্ষ শুরু হয়। আইএসপিআর বলে, মিছিলকারীরা মসজিদ, ব্যাংক ও দোকানে ভাঙচুর করে। জনসংহতি সমিতি বলে, একটি দোকানের ছাদ থেকে মিছিলে ইট ছোড়া হয় এবং মিছিলে যোগ দেওয়া প্রায় 200 অপরিচিত যুবক পাল্টা ইট ছোড়ে। ইউপিডিএফ ও সিএইচটি কমিশন বলে, মসজিদের মাইকে মিথ্যা ঘোষণার পর হামলা শুরু হয়।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের কোর কমিটির হিসাবে 9 কোটি 22 লাখ 45 হাজার টাকা। তালিকায় আছে আঞ্চলিক পরিষদ ভবন ও 9টি গাড়ি, 8টি ব্যাংক, 18টি বাড়ি, 89টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, 85টি ভাসমান দোকান, 2টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, একটি মসজিদ ও একটি বৌদ্ধ বিহার। জনসংহতি সমিতির হিসাবে জুম্মদের 24টি বাড়ি-দোকান ও প্রায় 5 কোটি টাকার ক্ষতি।
হ্যাঁ। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলাম 26 সেপ্টেম্বর 2024 সাত সদস্যের কমিটি গঠন করেন। আহ্বায়ক অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নূরী; সদস্য তিন পার্বত্য জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। সময় দুই সপ্তাহ। কমিটি 29–30 সেপ্টেম্বর দীঘিনালা ও রাঙামাটি পরিদর্শন করে। প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলে জানা যায়নি।
জনসংহতি সমিতি 3 অক্টোবর 2024-এর প্রতিবেদনে ঘটনাগুলোকে “বিশেষ মহলের সহযোগিতায়” সেটলার বাঙালিদের “সাম্প্রদায়িক হামলা” বলে। দলের হিসাবে চারজন জুম্ম নিহত—দুজন সেনাবাহিনীর গুলিতে, দুজন হামলায়—এবং শতাধিক আহত। দাবি তিনটি: বিচার বিভাগীয় তদন্ত, নিহত-আহতদের ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসা, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
আইএসপিআরের 20 সেপ্টেম্বর 2024-এর বিবৃতি দীঘিনালার মিছিলে “২০-৩০ রাউন্ড গুলি” এবং স্বনির্ভরে টহল দলের ওপর গুলির জন্য ইউপিডিএফ (মূল)-কে দায়ী করে। রাঙামাটির মিছিলের আয়োজক হিসেবে জনসংহতি সমিতি-সমর্থিত পিসিপির নাম উল্লেখ করে। বিবৃতিতে সতর্ক করা হয় যে উত্তেজনা “ভয়াবহ দাঙ্গা”-য় রূপ নিতে পারে। পিসিপি ও জনসংহতি সমিতি এ বক্তব্যের প্রতিবাদ করে।
প্রকাশিত খবর অনুযায়ী পার্বত্য উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা 7 অক্টোবর 2024 খাগড়াছড়িতে মামুন, রুবেল ত্রিপুরা ও জুনান চাকমার পরিবারকে প্রাথমিকভাবে 1 লাখ টাকা করে দেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত 237 পরিবারকে সহায়তা দেন। রাঙামাটিতে 22 অক্টোবর 26 জন ব্যবসায়ী মোট 6 লাখ 25 হাজার টাকা পান। অনিক চাকমা ও ধনঞ্জয় চাকমার পরিবারের সহায়তার অঙ্ক প্রকাশিত প্রতিবেদনে নেই।
রাঙামাটিতে হয়েছিল। 9 অক্টোবর 2024 পর্যন্ত অনিক চাকমা হত্যা মামলায় তিনজন এবং অগ্নিসংযোগ-ভাঙচুর মামলায় চারজন গ্রেপ্তার হন, তাঁদের দুজন 17 বছর বয়সী। খাগড়াছড়িতে মামুন হত্যা মামলায় 22 সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হননি। স্বনির্ভর ও দীঘিনালার মৃত্যুর ঘটনায় মামলা বা গ্রেপ্তারের খবর প্রধান সংবাদমাধ্যমে পাওয়া যায়নি।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 19 অক্টোবর 2026