রূপনা চাকমা বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের গোলরক্ষক। এশীয় ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) নিবন্ধন তালিকা অনুযায়ী তাঁর জন্ম 2 জানুয়ারি 2004, আর বাড়ি রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের ভূঁইয়ো আদাম গ্রামে। 2022 ও 2024 সালে টানা দুবার তিনি সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা গোলরক্ষক হয়েছেন।
এই লেখায় তাঁর জীবনের প্রতিটি তথ্য সংবাদপত্র, বাফুফে ও এএফসির নথি থেকে নেওয়া, উৎসের নামসহ। গ্রাম, পরিবার, স্কুল আর কোচদের কথা আছে; আছে দুই সাফের ম্যাচ-ধরা হিসাব, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বানানো ঘরের কালানুক্রম, আর সেই রাস্তা ও সাঁকোর খবর যা 2022 সালে প্রতিশ্রুত হয়েছিল। যেখানে দুই পত্রিকা দুই রকম কথা বলেছে, সেখানে দুটোই রাখা হয়েছে।
নামের বানান নিয়ে একটি কথা আগে। প্রথম আলো, বাংলা ট্রিবিউন ও দ্য ডেইলি স্টার বাংলার 2024 সালের প্রতিবেদন লেখে ‘রুপনা’; দ্য ডেইলি স্টার বাংলার 2023 সালের প্রতিবেদন ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর লেখে ‘রূপনা’। ইংরেজিতে Rupna Chakma। উদ্ধৃতির ভেতরে উৎসের বানানই রাখা হয়েছে। ইংরেজি উইকিপিডিয়া তাঁর নাম চাকমা লিপিতেও দিয়েছে: 𑄢𑄪𑄛𑄴𑄚 𑄌𑄋𑄴𑄟𑄳𑄦। এই লিপির ইতিহাস ও বর্ণমালা নিয়ে আমাদের লেখা চাকমা লিপি অঝাপাতের উৎপত্তি ও বর্ণমালা।
সূচিপত্র
রূপনা চাকমা নানিয়ারচরের এক চাকমা পরিবারের মেয়ে, জাতীয় দলে তাঁর জার্সি নম্বর 1, পজিশন গোলরক্ষক। এএফসির 2026 সালের এশিয়ান কাপ নিবন্ধনে তাঁর উচ্চতা লেখা 157 সেন্টিমিটার, ক্লাব রাজশাহী স্টার্স। দুই সাফ জয় আর দুবার সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার তাঁর সবচেয়ে পরিচিত অর্জন।
| বিষয় | তথ্য | উৎস |
|---|---|---|
| জন্ম তারিখ | 2 জানুয়ারি 2004 | এএফসি নিবন্ধন তালিকা, ফেব্রুয়ারি 2026 |
| গ্রাম | ভূঁইয়ো আদাম, ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন, নানিয়ারচর, রাঙামাটি | প্রথম আলো, 20 ও 21 সেপ্টেম্বর 2022 |
| মা | কালাসোনা চাকমা | প্রথম আলো, বাংলা ট্রিবিউন, ঢাকা ট্রিবিউন |
| ভাইবোন | চারজনের মধ্যে সবার ছোট (দুই ভাই, দুই বোন) | প্রথম আলো, 20 সেপ্টেম্বর 2022 ও 21 এপ্রিল 2023 |
| উচ্চতা | 157 সেমি | এএফসি নিবন্ধন তালিকা |
| মাধ্যমিক বিদ্যালয় | ঘাগড়া উচ্চবিদ্যালয়, কাউখালী (2014 সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি) | প্রথম আলো, 21 সেপ্টেম্বর 2022 |
| ক্লাব | বসুন্ধরা কিংস → থিম্পু সিটি এফসি, ভুটান (2025) → রাজশাহী স্টার্স | ঢাকা ট্রিবিউন 2023, ডেইলি স্টার ও টিবিএস 2025, বাসস 2026 |
| বড় দলীয় সাফল্য | সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ 2022 ও 2024; অনূর্ধ্ব-20 সাফ 2023; এএফসি নারী এশিয়ান কাপের মূলপর্বে প্রথমবার ওঠা (2025) | ডেইলি স্টার, প্রথম আলো, ঢাকা ট্রিবিউন, ইত্তেফাক |
| ব্যক্তিগত পুরস্কার | সাফের সেরা গোলরক্ষক 2022 ও 2024; অনূর্ধ্ব-20 সাফের সেরা গোলরক্ষক 2023; নারী ফুটবল লিগের সেরা গোলরক্ষক 2025–26 | ডেইলি স্টার, ঢাকা ট্রিবিউন, বাসস |
রূপনা চাকমার জন্ম রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম ভূঁইয়ো আদামে। 2022 সালে প্রথম আলোর প্রতিবেদক সেখানে গিয়ে দেখেছিলেন, সেখানে মাত্র পাঁচটি পরিবারের বাস। বাড়ি পৌঁছাতে নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো পার হয়ে পাহাড়ি পথে হাঁটতে হয়।
প্রথম আলোর 21 সেপ্টেম্বর 2022-এর প্রতিবেদন পথটির বিবরণ দিয়েছে এভাবে: রাঙামাটি-মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়ক থেকে নেমে ইটের সলিং করা রাস্তা ধরে এগোলে বড়মহাপূরম নদের ওপর একটি বাঁশের সাঁকো পড়ে। সাঁকো পেরিয়ে বাঁয়ে 5 থেকে 7 মিনিট পাহাড়ি রাস্তা হাঁটলে বাড়ি। বাড়ির পশ্চিমে পাহাড়ি ছড়া ও জঙ্গল, পূর্বে নদী, উত্তরে জঙ্গলের ভেতর দিয়ে হাঁটাপথ, দক্ষিণে অন্য চার পরিবারের ঘর।
গ্রামের নাম পত্রিকাভেদে নানা বানানে ছাপা হয়েছে। প্রথম আলো লিখেছে ‘ভূঁইয়ো আদাম’ (একটি প্রতিবেদনে ‘ভূঁইয়োআদাম’), বাংলা ট্রিবিউন ‘ভুঁইয়া আদাম’ ও ‘ভূইয়াআদাম’, নয়া দিগন্ত ‘ভূয়ো আদাম’, আর ঢাকা ট্রিবিউনের ইংরেজি প্রতিবেদন ‘Bhuiyadham’। নামটির অর্থ বা উৎপত্তি কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি। দ্য ডেইলি স্টারের 2025 সালের একটি লেখা তাঁকে বলেছে “the girl from the Ghilachari hills of Rangamati”।

দলের আরেক তারকা ঋতুপর্ণা চাকমার বাড়ি একই জেলার কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের মগাছড়ি গ্রামে (প্রথম আলো ও বাংলা ট্রিবিউন, সেপ্টেম্বর 2022)। দুজনের বাড়ি আলাদা উপজেলায় হলেও দুজনেই ঘাগড়া উচ্চবিদ্যালয়ে পড়েছেন। ঋতুপর্ণার পূর্ণ জীবনী আছে আমাদের ঋতুপর্ণা চাকমার জীবনী, গোল ও পুরস্কার লেখায়। রাঙামাটিসহ পুরো অঞ্চলের পটভূমি পাবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম হাবে।
রূপনা চাকমা তখনো মায়ের গর্ভে, যখন তাঁর বাবা মারা যান। মা কালাসোনা চাকমা নিজে প্রথম আলোকে এ কথা বলেছেন। চার সন্তানকে তিনি একা বড় করেছেন, আর রূপনা তাঁদের মধ্যে সবার ছোট। পরিবারটির আর্থিক অবস্থা যে খারাপ ছিল, সে কথা জেলা প্রশাসকও 2022 সালে প্রকাশ্যে বলেছেন।
20 সেপ্টেম্বর 2022 জেলা প্রশাসকের সফরের দিন কালাসোনা চাকমার কথা প্রথম আলো ছেপেছিল এভাবে: “রুপনা গর্ভে থাকা অবস্থায় আমার স্বামী মারা যান। অনেক কষ্ট করে রুপনাসহ চার সন্তানকে বড় করেছি। চার ভাইবোনের মধ্যে রুপনা সবার ছোট। ছোট মেয়েই সবার মুখ উজ্জ্বল করে দিয়েছে।” বাংলা ট্রিবিউন ও নয়া দিগন্তও একই তথ্য দিয়েছে যে জন্মের আগেই তিনি বাবাকে হারান।
পরিবারের বাকি সদস্যদের কথা এসেছে তাঁদের নিজেদের মুখে। প্রথম আলোকে রূপনার বড় ভাই অটিল চাকমা বলেছিলেন, “অভাবে আমরা কেউ লেখাপড়া করতে পারিনি। আমরা দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে রুপনা সবার ছোট। অন্য বোনটির বিয়ে হয়ে গেছে। সবার বড় ভাই বিয়ে করে আলাদা থাকেন।” তাঁর হিসাবে সেই সময় দুই কক্ষের ঘরে থাকতেন তিনি, তাঁর স্ত্রী, দুই সন্তান, মা ও রূপনা। রূপনা ছুটিতে বাড়ি এলে তাঁকে অন্য বাড়িতে থাকতে হতো।
বাংলা ট্রিবিউনের 23 সেপ্টেম্বর 2022-এর প্রতিবেদনে কথা বলেছেন রূপনার আরেক বড় ভাই, শান্তি জীবন চাকমা: “ছোট থেকে খেলায় আগ্রহ থাকায় পরিবার থেকে তাকে বাধা দেওয়া হয়নি।” তিনি জানান, ঘরে টিভি না থাকায় মা মাঝে মাঝে দূরে অন্যের বাড়িতে খেলা দেখতে যেতেন।
পুরোনো ঘরটির মাপ ছিল 18 ফুট দৈর্ঘ্য ও 13 ফুট প্রস্থ, দুই কক্ষের। প্রথম আলোর বিবরণে, বৃষ্টি হলে ভাঙা বেড়া ও ছালা দিয়ে পানি ঢুকত, পাশের খোলা রান্নাঘর ভেসে যেত, শৌচাগার ছিল জরাজীর্ণ, পানির ব্যবস্থা ছিল না। 2024 সালের সাফ জয়ের দিনেও কালাসোনা চাকমাকে মাঠে কাজ করতে দেখা গেছে বলে লিখেছে ঢাকা ট্রিবিউন।
গ্রামের মানুষের চোখে ছোটবেলার রূপনা কেমন ছিলেন, তার একটি সাক্ষ্য আছে বাংলা ট্রিবিউনে। ঘিলাছড়ির বাসিন্দা আলো বিকাশ চাকমা বলেন, “ছোট বেলা থেকে তার ফুটবলের প্রতি আকর্ষণ দেখেছি। সে ছেলেদের সঙ্গে মিশে ফুটবল খেলতো।”
রূপনা চাকমা শুরুতে গোলরক্ষক ছিলেন না। ঢাকা ট্রিবিউনের 14 ফেব্রুয়ারি 2023-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বঙ্গমাতা প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে তিনি খেলতেন মিডফিল্ডার হিসেবে। স্থানীয় কোচ শান্তিমনি চাকমা তাঁকে খুঁজে পান, পরে তাঁরই পরামর্শে তিনি গোলপোস্টে দাঁড়ান। বাফুফে তাঁকে 2016 সালে গোলরক্ষক হিসেবে নারী ক্যাম্পে ডাকে।
নয়া দিগন্তের 20 সেপ্টেম্বর 2022-এর প্রতিবেদন বলছে, গ্রামের হাছাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির পর নানিয়ারচরে উপজেলা পর্যায়ের খেলায় তাঁর ফুটবল সবার নজরে আসে। ঢাকা ট্রিবিউন লিখেছে, তিনি কাছের একটি স্কুলে পড়তেন আর বঙ্গমাতা প্রাথমিক বিদ্যালয় টুর্নামেন্টে মিডফিল্ডে খেলতেন। একটি আঞ্চলিক ম্যাচে শান্তিমনি চাকমা তাঁর প্রতিভা লক্ষ করেন।
ঢাকা ট্রিবিউনের বিবরণে, শান্তিমনি চাকমা ও বীরসেন চাকমা নামের এক শিক্ষক দুবার চেষ্টা করেও রূপনাকে কাউখালীর মগাছড়ির স্কুলে নিতে পারেননি, কারণ অভিভাবকদের আগ্রহ ছিল না। বীরসেন চাকমার এক আত্মীয় ছিলেন রূপনাদের প্রতিবেশী। তাঁর অনুরোধেই শেষে রূপনা মগাছড়িতে যান। সেখানে আরেক শিক্ষকের বাড়িতে থাকতেন, খরচও দিতেন সেই শিক্ষক।
বীরসেন চাকমা ছিলেন মগাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (প্রথম আলো ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের বানানে ‘মঘাছড়ি’) প্রধান শিক্ষক (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর 2024 সালে তাঁকে ‘সাবেক প্রধান শিক্ষক’ লিখেছে; প্রথম আলো, 2026)। এক বিদ্যালয় থেকে তিন জাতীয় ফুটবলার উঠে আসার গল্পটি আলাদা করে আছে মগাছড়ির প্রধান শিক্ষক বীরসেন চাকমার গল্প লেখায়। 2022 সালের সাফ জয়ের পর বাংলা ট্রিবিউনকে কালাসোনা চাকমা বলেছিলেন, “আমার মেয়ে শান্তিময় ও বীর সেনের সহযোগিতায় এতদূর এগ্রিয়ে গেছে।”
শান্তিমনি চাকমা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেছেন, দেশে গোলরক্ষকের সংকট ছিল বলেই তিনি রূপনাকে গোলরক্ষক হতে বলেন: “She agreed easily. She was also interested and gave it importance.” এরপর রূপনা মূলত গোলপোস্টেই খেলেছেন, মাঝে মাঝে পুরোনো মিডফিল্ড ভূমিকাতেও। রূপনা নিজে বলেছেন, পজিশন বদলের পর দ্রুতই গোলকিপিং ভালো লেগে যায় এবং আর কখনো মাঝমাঠে ফিরতে চাননি।
শান্তিমনি চাকমা বাফুফে ক্যাম্পে যাওয়ার আগে রূপনাকে বলেছিলেন, তিনি একদিন এশিয়ার সেরা হতে পারবেন, আর আশা করেন একদিন বিদেশি ক্লাবে খেলবেন (ঢাকা ট্রিবিউন, 2023)। প্রথম আলোর 27 জুন 2026-এর ফিচার জানায়, 2011 সালের দিকে বীরসেন চাকমার কথায় শান্তিমনি মেয়েদের দল গড়তে শুরু করেন; ঘাগড়া উচ্চবিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা হয়। ঋতুপর্ণা, মনিকা, রুপনা, আনাই মগিনী ও আনু মগিনীর যাত্রা এই কোচের হাত ধরেই শুরু হয়েছে বলে লিখেছে পত্রিকাটি।
প্রথম আলোর 21 সেপ্টেম্বর 2022-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রূপনা চাকমা 2014 সালে কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের ঘাগড়া উচ্চবিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন। খেলার ব্যস্ততায় মাঝখানে দুই বছর বিরতি দিতে হয়; 2022 সালের সেপ্টেম্বরে তিনি দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। একই বিদ্যালয়ে 2012 সালে ভর্তি হন মনিকা চাকমা, আনাই মগিনি ও আনুচিং মগিনি, আর পরে ঋতুপর্ণা চাকমা।
দ্য ডেইলি স্টারের 11 সেপ্টেম্বর 2025-এর প্রতিবেদন আরেক কোচের নাম যোগ করে। 2005 সাল থেকে আনসারের কোচ সুইহলামং মারমা 2011 থেকে 2016 সালের মধ্যে ঋতুপর্ণা, মনিকা, রূপনা চাকমা ও মগিনি বোনদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন বলে পত্রিকাটি লিখেছে। তিনি 2018 সালে সুইহলামং ফুটবল একাডেমি গড়েন, যার মেয়েরা কাউখালী উপজেলা মাঠে অনুশীলন করে।
মনিকা চাকমার জীবন ও তাঁর ‘জাদুকরী’ গোলের কথা আছে মনিকা চাকমা ও ফিফার জাদুকরী গোল লেখায়।
বাফুফের ক্যাম্পে ঢোকার পর রূপনা চাকমা একে একে ফুটসাল দল, অনূর্ধ্ব-16, অনূর্ধ্ব-18/19 ও জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। 2018 সালের এপ্রিলে থাইল্যান্ডগামী নারী ফুটসাল দলের তালিকায় তাঁর নাম আছে, 2019 সালে এএফসি অনূর্ধ্ব-16 বাছাইয়ে স্বাগতিক মিয়ানমারের বিপক্ষে জয়ে তিনি গোলপোস্টে ছিলেন।
| সময় | দল / আসর | যা জানা যায় | উৎস |
|---|---|---|---|
| 2016 | বাফুফে নারী ক্যাম্প | গোলরক্ষক হিসেবে ডাক | ঢাকা ট্রিবিউন, 14 ফেব্রুয়ারি 2023 |
| এপ্রিল 2018 | নারী ফুটসাল দল, থাইল্যান্ড সফর | খেলোয়াড় তালিকার প্রথম নাম (ক্রমিক 07) | বাফুফে কন্টিনজেন্ট তালিকা |
| মার্চ 2019 | অনূর্ধ্ব-16, এএফসি বাছাই, মিয়ানমারের মান্দালা থিরি স্টেডিয়াম | মিয়ানমারকে 1-0 হারানোর ম্যাচে 63 মিনিটে এগিয়ে এসে আক্রমণ ঠেকান | দ্য ডেইলি স্টার |
| 19 মার্চ 2022 | সাফ অনূর্ধ্ব-18, জামশেদপুর | ভারতের কাছে 0-1 হার; 63 মিনিটে তাঁর হাত ফসকানো বল থেকে গোল | দ্য ডেইলি স্টার |
| 2018–2021 | সাফ অনূর্ধ্ব-18 (2018), বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-19 গোল্ডকাপ (2019), সাফ অনূর্ধ্ব-19 (2021) | তিনটিতেই শিরোপাজয়ী দলের সদস্য | ইংরেজি উইকিপিডিয়ার সম্মাননা-তালিকা |
2022 সালের মার্চের ম্যাচটি তাঁর ক্যারিয়ারের কঠিন এক রাত। দ্য ডেইলি স্টার শিরোনাম দিয়েছিল “Valiant Rupna’s error costs Bangladesh”। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েকটি সাহসী সেভে তিনি দলকে ম্যাচে রেখেছিলেন। তারপর Ritu Devi-র একটি সাধারণ ক্রস ধরতে না পারায় Nitu Linda গোল করেন। একই প্রতিবেদন জানায়, রূপনা তখনই সিনিয়র দলেরও গোলরক্ষক।
সিনিয়র দলে তাঁর অভিষেক কোন ম্যাচে, তা এই লেখার জন্য পড়া সংবাদ-উৎসে পাওয়া যায়নি; ইংরেজি উইকিপিডিয়া অভিষেকের বছর লিখেছে 2019। জাতীয় দলে তাঁর মোট ম্যাচসংখ্যা নিয়েও সরকারি কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি। ইংরেজি উইকিপিডিয়া 21 সেপ্টেম্বর 2026 পর্যন্ত হালনাগাদ করা হিসাবে 41 ম্যাচ দেখায়, বাংলা উইকিপিডিয়ার পুরোনো হিসাবে 15।
2022 সালের সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ পাঁচ ম্যাচে 23 গোল দিয়েছিল, হজম করেছিল একটি। পাঁচটি ম্যাচেই গোলপোস্টে ছিলেন রূপনা চাকমা, আর একমাত্র গোলটি এসেছিল ফাইনালের 70 মিনিটে, নেপালের Anita Basnet-এর শটে। এই হিসাবেই 19 সেপ্টেম্বর 2022 কাঠমান্ডুতে তিনি টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষক নির্বাচিত হন।
| তারিখ (2022) | প্রতিপক্ষ | ফল | বাংলাদেশের জালে গোল |
|---|---|---|---|
| 7 সেপ্টেম্বর | মালদ্বীপ | 3-0 জয় | 0 |
| 10 সেপ্টেম্বর | পাকিস্তান | 6-0 জয় | 0 |
| 13 সেপ্টেম্বর | ভারত | 3-0 জয় | 0 |
| 16 সেপ্টেম্বর (সেমিফাইনাল) | ভুটান | 8-0 জয় | 0 |
| 19 সেপ্টেম্বর (ফাইনাল) | নেপাল | 3-1 জয় | 1 (70 মিনিট) |
ম্যাচের তারিখ ও স্কোর: ইংরেজি উইকিপিডিয়ার টুর্নামেন্ট-পাতা; মোট 23 গোল দেওয়া, 1 গোল খাওয়া ও পাঁচ ম্যাচে রূপনার খেলার তথ্য দ্য ডেইলি স্টার (19 সেপ্টেম্বর 2022) ও প্রথম আলো (6 ফেব্রুয়ারি 2023) থেকে।
প্রথম আলো 2023 সালে লিখেছে, এই টুর্নামেন্টের আগে রূপনার একটা ‘বাজে অভ্যাস’ ছিল: ডিফেন্ডারদের ওপর ভরসা না রেখে হুটহাট জায়গা ছেড়ে বেরিয়ে আসা, বক্সে বল ধরবেন কি না তা নিয়ে দ্বিধা। কাঠমান্ডুতে প্রতিটি ম্যাচে তিনি ছিলেন শান্ত; কখনো ফিস্ট করে বল সরিয়েছেন, কখনো লাফিয়ে লুফে নিয়েছেন।
দুই বছর পর প্রথম আলোর সাক্ষাৎকারে রূপনা চাকমা নিজেই দুটি পুরস্কারের মধ্যে 2022-এরটিকে এগিয়ে রেখেছেন: “গতবার পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল খেয়েছিলাম, নেপালের বিপক্ষে ফাইনালে।”
দেশে ফেরার আগেই তিনি সামাজিক মাধ্যমে নিজের অনুভূতি লিখেছিলেন। দ্য ডেইলি স্টার বাংলা সেই পোস্টের অংশ ছেপেছে: “জানিনা এইসব আমার পাওয়ার যোগ্য কিনা তবে আমি জীবন বাজি রেখে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনতে চাই।… শুধু এখানে নয় আমি আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে চাই এবং বাংলাদেশের নারী ফুটবলকে আরো বড় আকারে প্রতিনিধিত্ব করতে চাই।”
সিনিয়র সাফের পাঁচ মাসের মাথায়, 2023 সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় অনূর্ধ্ব-20 সাফেও সেরা গোলরক্ষক হন রূপনা চাকমা। ঢাকা ট্রিবিউনের হিসাবে সেই আসরে তিনি টানা তিন ম্যাচে গোল খাননি, পুরো টুর্নামেন্টে হজম করেছেন একটি। দুই আসরেই বাংলাদেশ শিরোপা জেতে।
ফেব্রুয়ারি 2023-এ কমলাপুরে ভারতের বিপক্ষে ড্র ম্যাচে সাত মিনিটে সুমিতা কুমারী একা বক্সে ঢুকে দূরের পোস্টে শট নেন; রূপনা পা বাড়িয়ে তা ঠেকান। প্রথম আলো সেভটিকে কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালে এমিলিয়ানো মার্তিনেজের সেভের সঙ্গে তুলনা করে শিরোনাম দেয়। ম্যাচ শেষে ভারতের কোচ ময়মল রকি বলেন, তাঁর সেভগুলোর কারণেই ভারত জিততে পারেনি।
রূপনা নিজে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, “আসলে যখন বল আসে তখন ডিফেন্স ভাঙার পর আমার ওপরই সব ভরসা থাকে দলের। জানি বল এলে আমাকে সেভ দিতেই হবে।” তিনি জানান, বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখেছিলেন বসুন্ধরা কিংস ক্লাবে বসে, আর তাঁর প্রিয় গোলরক্ষক ব্রাজিলের আলিসন বেকার। ঢাকা ট্রিবিউনকেও তিনি আলিসনের কথা বলেছেন।
এই সময়েই ঢাকা ট্রিবিউনকে প্রায় 13 বছর ধরে নারী দলের প্রধান কোচ গোলাম রব্বানী বলেন, রূপনা বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা নারী গোলরক্ষক: “Her specialty is that she has tremendous mental strength.” বল ধরার আগেই কাকে পাস দেবেন তা ঠিক করে রাখেন বলে জানিয়েছিলেন রূপনা; বারবার অনুশীলনে এটা অভ্যাস হয়ে গেছে।
2024 সালের অক্টোবরে কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ টানা দ্বিতীয়বার সাফ জেতে, আর রূপনা চাকমা আবার সেরা গোলরক্ষক হন। এবার তিনি চার ম্যাচ খেলেন, প্রতিটিতে একটি করে মোট চার গোল হজম করেন (দ্য ডেইলি স্টার বাংলা ও প্রথম আলো)। 30 অক্টোবর ফাইনালে নেপালকে 2-1 গোলে হারায় বাংলাদেশ।
| তারিখ (2024) | প্রতিপক্ষ | ফল | বাংলাদেশের জালে গোল |
|---|---|---|---|
| 20 অক্টোবর | পাকিস্তান | 1-1 ড্র | 1 |
| 23 অক্টোবর | ভারত | 3-1 জয় | 1 |
| 27 অক্টোবর (সেমিফাইনাল) | ভুটান | 7-1 জয় | 1 |
| 30 অক্টোবর (ফাইনাল) | নেপাল | 2-1 জয় | 1 |
তারিখ ও স্কোর: ইংরেজি উইকিপিডিয়ার টুর্নামেন্ট-পাতা; ভারত ম্যাচের 3-1, সেমিফাইনালের 7-1 ও ফাইনালের 2-1 প্রথম আলোর সাক্ষাৎকার ও প্রতিবেদনেও আছে।
ভারতের বিপক্ষে খাওয়া গোলটি নিয়ে রূপনা চাকমা প্রথম আলোকে (4 নভেম্বর 2024) খোলাখুলি বলেছেন: “খুবই বাজে গোল খেয়েছি। সহজ একটা বল এল, শুধু গ্রিপ করব, তখনই কী যেন হলো! হাত ফসকে বেরিয়ে গেল। কপাল খারাপ বলটা হাত থেকে বের হয়ে ভারতের বালা দেবীর হেডের নাগালে গেল।”
ফাইনালের আগের রাতের কথাও তিনি বলেছেন: “আগের রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনি। কিছুই খেতে পারছিলাম না। সাবিনা আপুসহ অন্যরা বুঝিয়েছে, টেনশন করা মানে নিজেদের খেলার ক্ষতি করা।” ঋতুপর্ণা চাকমার 81 মিনিটের জয়সূচক গোলটি তিনি মাঠের অন্য প্রান্ত থেকে ভালো দেখতে পাননি, পরে ভিডিওতে দেখে অবিশ্বাস্য লেগেছে।
এই আসরেই কোচ পিটার বাটলারের সঙ্গে খেলোয়াড়দের দূরত্বের খবর আসে। সে বিষয়ে প্রশ্নে রূপনার উত্তর ছিল, “দূরত্ব তৈরি হওয়া নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। তবে কোচ হিসেবে পিটার বাটলার অনেক ভালো।” ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, “আমি বিদেশি লিগে খেলতে চাই। আর দেশে নিয়মিত লিগ আয়োজিত হোক, সেটা চাই।”
2 নভেম্বর 2024 ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সাফজয়ী দলের সংবর্ধনায় সেরা গোলরক্ষকের ট্রফি হাতে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ছবি তোলেন; পিআইডির সেই ছবিই এই লেখার প্রধান ছবি। পরে রাঙামাটির চিং হ্লা মং মারী স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসনসহ সর্বস্তরের মানুষের আয়োজনে ঋতুপর্ণা, মনিকা ও রূপনা চাকমাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়; প্রত্যেককে এক লাখ টাকা এবং পৌরসভা ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে 50 হাজার টাকা করে দেওয়া হয় (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর, 23 নভেম্বর 2024)।
সাফজয়ী দলে পাহাড়ের অন্য মেয়েরা কে কোন গ্রামের, কোন টুর্নামেন্টে কী করেছেন, তার পূর্ণ তালিকা আছে সাফজয়ী নারী দলে পাহাড়ের মেয়েরা লেখায়।
2022 সালের সাফ জয়ের পর রূপনা চাকমার জীর্ণ ঘরের ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। 21 সেপ্টেম্বর 2022 জেলা প্রশাসন জানায়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর পরিবারের জন্য ঘর বানানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এলজিইডির তত্ত্বাবধানে 13 লাখ 68 হাজার টাকায় তৈরি ঘরটির চাবি দেওয়া হয় 16 ফেব্রুয়ারি 2023, আর পরিবার সেখানে ওঠে 14 এপ্রিল 2023।
| তারিখ | ঘটনা | উৎস |
|---|---|---|
| 20 সেপ্টেম্বর 2022 (মঙ্গলবার) | রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বাড়িতে গিয়ে কালাসোনা চাকমার হাতে দেড় লাখ টাকার চেক দেন; ঘর ও সাঁকো পাকা করার আশ্বাস | প্রথম আলো, বাংলা ট্রিবিউন, ঢাকা ট্রিবিউন |
| 21 সেপ্টেম্বর 2022 (বুধবার) | ফেসবুকে বাড়ির লাইভ ভিডিও ভাইরাল; প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ঘর বানানোর নির্দেশ; ইউএনও এলজিইডির প্রকৌশলী নিয়ে জায়গা মাপতে যান | দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, প্রথম আলো, বাংলা ট্রিবিউন |
| 22 সেপ্টেম্বর 2022 (বৃহস্পতিবার) | ইউএনও 32 ইঞ্চি টেলিভিশন ও ডিটিএইচ ডিশ অ্যানটেনা পৌঁছে দেন; জমি মাপা শেষ | প্রথম আলো, বাংলা ট্রিবিউন |
| 16 ফেব্রুয়ারি 2023 (বৃহস্পতিবার) | জেলা প্রশাসক কালাসোনা চাকমার হাতে নতুন ঘরের চাবি দেন | দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, প্রথম আলো |
| 10 এপ্রিল 2023 | রূপনা ছুটিতে গ্রামে ফেরেন | প্রথম আলো |
| 14 এপ্রিল 2023 | ভিক্ষু ডেকে পূজা-অর্চনার পর মা-মেয়ে নতুন ঘরে ওঠেন; সেখানেই বিজু উদ্যাপন | প্রথম আলো |
প্রথম আলোর 17 ফেব্রুয়ারি 2023-এর প্রতিবেদন উপজেলা প্রশাসনের বরাতে জানায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে 30 শতক জমিতে 925 বর্গফুটের ঘরটি বানানো হয়েছে, খরচ 13 লাখ 68 হাজার টাকা। ঘরটি টিনের ছাউনির আধা পাকা। জেলা প্রশাসক বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় ঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে।
পরিবার শুরুতে ঘরে ওঠেনি। কালাসোনা চাকমা প্রথম আলোকে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন বলে শুনেছেন, তারপর উঠবেন; আর ওঠার আগে ভিক্ষু ডেকে পূজা-অর্চনা করবেন। শেষ পর্যন্ত মেয়ে বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করেন। 14 এপ্রিল, বাংলা নববর্ষের দিনে, মা-মেয়ে নতুন ঘরে ওঠেন।
নতুন ঘরে প্রথম বিজুর পর রূপনা চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, “দীর্ঘদিন পর বাড়িতে এসেছি। নতুন ঘর দেখে আমি খুশি ও আনন্দিত। ঘরের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। নতুন ঘরে বিজু উৎসবে অনেক মজা করেছি।” বিজুর খাবার পাজন নিয়ে বিস্তারিত পড়তে পারেন পাজন কী, বিজুর খাবারে কত পদের সবজি লেখায়।
ঘরে ওঠার পর কালাসোনা চাকমা একটি অসুবিধার কথা জানান: টিনের নিচে ছাদ না থাকায় গরম অনেক বেশি; বিদ্যুৎসংযোগ আছে, কিন্তু তখনো ফ্যান লাগানো হয়নি। নানিয়ারচরের ইউএনও মুহাম্মদ শাহরিয়ার মুক্তার বলেন, ঘরের কোনো কাজ বাকি নেই, সম্পূর্ণ শেষ করেই বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে (প্রথম আলো, 21 এপ্রিল 2023)।
ঘরের আগে এসেছিল একটি টেলিভিশন। প্রথম আলো লিখেছে, যেখানে “নুন আনতেই পান্তা ফুরায়”, সেখানে টিভি ছিল বিলাসিতা; বড় ভাই অটিল চাকমার কথায়, পরিবার রূপনার খেলা দেখত অন্যের মোবাইলে। 22 সেপ্টেম্বর 2022 রাতে টিভি চালু হলে আশপাশের কয়েক বাড়ির মানুষ মিলে দেখেন। কালাসোনা চাকমা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “এখন নিজের বাড়িতে বসে রূপনার খেলা টিভিতে দেখতে পাবো।”
ঘর তৈরি হয়েছে, কিন্তু রাস্তা ও সেতুর খবর ভিন্ন। 2022 সালের সেপ্টেম্বরে জেলা প্রশাসক বাড়ির পথের বাঁশের সাঁকো পাকা করা ও সড়ক তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন। 2024 সালের অক্টোবরে কালাসোনা চাকমা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, রাস্তা হওয়ার কথা হয়েছিল, কিন্তু কিছুই হয়নি।
প্রতিশ্রুতির দলিল তিনটি প্রতিবেদনে আছে। বাংলা ট্রিবিউন (20 সেপ্টেম্বর 2022) লিখেছে, জেলা প্রশাসক নানিয়ারচরের ইউএনওকে নতুন ঘর নির্মাণ এবং “তার বাড়িতে যাওয়ার সড়কটি তৈরি করে দেওয়ার” নির্দেশ দেন, আর পথের বাঁশের সেতুটি পাকা করার আশ্বাস দেন। দ্য ডেইলি স্টার বাংলা লিখেছে, তিনি “এলাকাবাসীর যাতায়াতের সুযোগ-সুবিধার জন্য ব্রিজ নির্মাণের ঘোষণা” দেন। ঢাকা ট্রিবিউনও সেতু ও ঘরের আশ্বাসের কথা ছেপেছে।
রূপনা চাকমা নিজেও সেদিন সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিলেন, জেলা প্রশাসক “আমাদের গ্রামে বাঁশের ভাঙ্গা সেতুটা নতুন করে পাকা ব্রিজ করে দেওয়ার জন্য কথা দিয়েছেন” (দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, 21 সেপ্টেম্বর 2022)।
পাঁচ মাস পরে, চাবি হাতে পাওয়ার দিন, কালাসোনা চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম থেকে আসতে একটি ছড়া পার হতে হয়, রাস্তাটিও ঝুঁকিপূর্ণ; ছড়ায় একটি সেতু ও একটি রাস্তা দরকার। তাঁর যুক্তি ছিল, আগে এখানে কেউ আসত না, রূপনার কারণে এখন অনেক মানুষ আসেন।
দ্বিতীয় সাফ জয়ের পরদিন, 31 অক্টোবর 2024, ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে (ছবি: বাংলা ট্রিবিউন) কালাসোনা চাকমার কথা: “There was talk of building a road, but nothing has happened. No one has kept in touch, and no one has checked in all this time.” একই প্রতিবেদন জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত জেলা ক্রীড়া সংস্থা, স্থানীয় বা জেলা প্রশাসনের কেউ দুই পরিবারের বাড়িতে যাননি।
এই লেখা তৈরির সময় (নভেম্বর 2026) পর্যন্ত সাঁকোটি পাকা হয়েছে বা রাস্তা তৈরি হয়েছে, এমন কোনো সংবাদ বা সরকারি নথি পাওয়া যায়নি।
রূপনা চাকমা দেশের লিগে খেলেছেন বসুন্ধরা কিংসে, 2025 সালে খেলতে গেছেন ভুটানে, আর 2025–26 মৌসুমে রাজশাহী স্টার্সের হয়ে নারী ফুটবল লিগ জিতে লিগের সেরা গোলরক্ষক হয়েছেন। এএফসির ফেব্রুয়ারি 2026-এর তালিকাতেও তাঁর ক্লাব রাজশাহী স্টার্স এফসি।
বসুন্ধরা কিংস। ঢাকা ট্রিবিউন ফেব্রুয়ারি 2023-এ তাঁকে লিখেছে “the Bashundhara Kings goalie”, আর প্রথম আলো জানায় তিনি 2022 সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখেছেন বসুন্ধরা কিংস ক্লাবে বসে। ক্লাবটিতে তিনি কোন বছর যোগ দেন, তা সংবাদ-উৎসে পাওয়া যায়নি।
ভুটান, 2025। 13 এপ্রিল 2025 পাঁচ বাংলাদেশি খেলোয়াড় ভুটানের নারী জাতীয় লিগে খেলতে থিম্পু যান, তাঁদের একজন রূপনা চাকমা। দ্য ডেইলি স্টার ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড দুটিই লিখেছে, মাসুরা পারভীন ও রূপনা খেলবেন Thimphu City FC-তে, বাকি তিনজন Transport United-এ। লিগ শুরু হওয়ার কথা ছিল 25 এপ্রিল, চলার কথা চার মাস।
রাজশাহী স্টার্স, 2025–26। বাসস জানায়, 13 ফেব্রুয়ারি 2026 কমলাপুরে শেষ হওয়া নারী ফুটবল লিগে চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী স্টার্সের গোলপোস্টে “brilliant performance”-এর জন্য রূপনা লিগের সেরা গোলরক্ষক হন। সেরা খেলোয়াড় ও সেরা গোলরক্ষক দুজনই পেয়েছেন 50 হাজার টাকা করে।
ইংলিশ কোচ পিটার বাটলারের আক্রমণাত্মক 3-4-3 ছকে রূপনা চাকমা হয়ে ওঠেন ‘সুইপার-কিপার’: উঁচু রক্ষণরেখার পেছনের ফাঁকা জায়গা তিনি বেরিয়ে এসে সামলান। দ্য ডেইলি স্টার 2025 সালের জুলাইয়ে তাঁকে ডেকেছিল “The Eagle”। এর আগে, 2025 সালের শুরুতে, বাটলারের বিরুদ্ধে বয়কট করা 18 সিনিয়র খেলোয়াড়ের তালিকায় তাঁর নামও ছিল।
ইউএনবির 20 ফেব্রুয়ারি 2025-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের নেতৃত্বে 18 সিনিয়র খেলোয়াড় প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বাটলারের অনুশীলন বর্জন করছিলেন। তাঁরা মানসিক হয়রানি, গালাগাল, বডি শেমিং ও বৈষম্যসহ নানা অভিযোগ তুলেছিলেন। বাফুফে সেদিন সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের দল ঘোষণা করে এই 18 জনকে বাদ দিয়ে; ইউএনবির তালিকায় রূপনা চাকমার নাম আছে।
দ্য ডেইলি স্টার জানায়, 8 এপ্রিল 2025 বিদ্রোহী 18 জনের বেশির ভাগ বাটলারের অধীনে অনুশীলনে যোগ দেন। পাঁচ দিন পর রূপনা ভুটানের লিগে খেলতে যান। সেদিনের (13 এপ্রিল) ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী তখনো 18 সিনিয়র খেলোয়াড়ের কেউ ফেডারেশনের সঙ্গে চুক্তি করেননি।
ইয়াঙ্গুনে এএফসি নারী এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশ বাহরাইনকে 7-0, মিয়ানমারকে 2-1 ও তুর্কমেনিস্তানকে 7-0 গোলে হারিয়ে প্রথমবার মূলপর্বে ওঠে; তিন ম্যাচে 16 গোল দিয়ে খায় একটি, মিয়ানমারের বিপক্ষে (ইত্তেফাক, ইউএনবির বরাতে)। দ্য ডেইলি স্টারের শাবাব চৌধুরী লিখেছেন, এই সাফল্যের আলো বেশির ভাগ পড়েছে বাটলারের ছক আর গোলের ওপর, কিন্তু দলকে জুড়ে রেখেছেন রূপনা চাকমা।
তাঁর ব্যাখ্যায়, ফুলব্যাকহীন 3-4-3 ছকের বড় দুর্বলতা রক্ষণের পেছনের জায়গা। প্রতিপক্ষ বারবার সেই জায়গায় বল পাঠিয়েছে, আর রূপনা দ্রুত লাইন ছেড়ে বেরিয়ে এসে ট্যাকল, ক্লিয়ারেন্স ও আক্রমণ শুরু করার পাস দিয়েছেন। লেখাটির ভাষায়, “She stands at just a little over five feet, but when the Bangladesh No. 1 spreads her wings, the entire box feels covered.”
2026 সালে রূপনা চাকমা প্রথম একাদশের জায়গা হারান, তারপর আবার ফেরেন। মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় এএফসি নারী এশিয়ান কাপের প্রথম ম্যাচে বাটলার গোলে নামান Mile Akter-কে; জুনের সাফ ফাইনালেও গোলপোস্টে ছিলেন Mile। সেপ্টেম্বরে জাপানে এশিয়ান গেমসে মিয়ানমারের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ে আবার রূপনাই দলের সেরা পারফরমার।
3 মার্চ 2026 সিডনিতে নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচের একাদশে রূপনার জায়গায় Mile Akter-এর নাম দেখে অনেকে অবাক হন, লিখেছে দ্য ডেইলি স্টার। পত্রিকাটির বিশ্লেষণ, রক্ষণাত্মক পরিকল্পনায় বাটলার উঁচু রক্ষণরেখা থেকে সরে এসেছেন, যেখানে রূপনার বল-পায়ে দক্ষতা কাজে লাগে; তার বদলে লম্বা গোলরক্ষক বেছে নিয়েছেন। গোলরক্ষক কোচ Masud Ahmed পরে জানান, এই পরিকল্পনা অন্তত দুই মাস আগে থেকে চলছিল।
বাংলাদেশ চীনের কাছে 0-2, উত্তর কোরিয়ার কাছে 0-5 ও উজবেকিস্তানের কাছে 0-4 গোলে হেরে প্রথম এশিয়ান কাপ শেষ করে (দ্য ডেইলি স্টার, ঢাকা ট্রিবিউন, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস)। তিন ম্যাচের যে প্রতিবেদনগুলো পড়া হয়েছে, সবগুলোতেই বাংলাদেশের গোলরক্ষক হিসেবে Mile Akter-এর নাম; রূপনা চাকমা কোনো ম্যাচে মাঠে নেমেছেন, এমন উল্লেখ সেগুলোতে নেই।
6 জুন 2026 গোয়ার মারগাওয়ে ফাইনালে ভারতের কাছে 1-3 গোলে হেরে টানা তৃতীয় শিরোপা হাতছাড়া করে বাংলাদেশ। দ্য অ্যাওয়ে এন্ড ও ইন্ডিয়া স্পোর্টস হাবের ম্যাচ-প্রতিবেদনে বাংলাদেশের গোলরক্ষকের নাম Mile Akter। আসরের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার পান ভারতের Panthoi Chanu Elangbam। রূপনা এই আসরের অন্য ম্যাচগুলোতে খেলেছেন কি না, তা পড়া উৎসগুলোতে নেই।
জাপানে এশিয়ান গেমসের গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ 14 সেপ্টেম্বর ওসাকায় উত্তর কোরিয়ার কাছে 0-10 গোলে হারে, পরে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছেও হারে। শেষ ম্যাচে মিয়ানমারের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র নিয়ে তিন ম্যাচে এক পয়েন্ট পেয়ে গ্রুপে চতুর্থ হয়। দ্য ডেইলি স্টারের 21 সেপ্টেম্বর 2026-এর প্রতিবেদনের শিরোনাম: “Rupna stands tall but Bangladesh finish bottom after Myanmar draw”।
প্রতিবেদনটি জানায়, শুরুতে ডিফেন্ডার Airin Khatun-এর দুটি ভুলে রক্ষণ উন্মুক্ত হলেও দুবারই রূপনা লাইন ছেড়ে বেরিয়ে আক্রমণ থামান। 77 মিনিটে মিয়ানমারের বদলি Myat Noe Khin-এর শট তিনি পা বাড়িয়ে ঠেকান। 2019 সালের অনূর্ধ্ব-16 বাছাইয়ের প্রতিবেদনেও Myat Noe Khin-কে 63 মিনিটে রূপনার এগিয়ে এসে আটকানোর বিবরণ আছে (দ্য ডেইলি স্টার, 2019)। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে 0-10 ম্যাচে গোলপোস্টে কে ছিলেন, তা পড়া প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
মাঠের বাইরে রূপনা চাকমার প্রকাশ্য বক্তব্য খুব বেশি প্রতিবেদনে আসেনি; যা এসেছে তা নিচে। 2025 সালের সেপ্টেম্বরে খাগড়াছড়িতে এক আদিবাসী স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনার পর উত্তেজনার সময় তিনি ধর্ষণের বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার ডাক দেন। এর আগে 2024 সালে বলেছেন, তিনি বিদেশি লিগে খেলতে চান আর দেশে নিয়মিত লিগ চান।
দ্য ডেইলি স্টারের 29 সেপ্টেম্বর 2025-এর প্রতিবেদনে পাহাড়ের কয়েকজন ক্রীড়াবিদের বক্তব্য ছাপা হয়: রূপনা ও মনিকা চাকমা, পুরুষ দলের গোলরক্ষক Mitul Marma, বক্সার Suro Krishna Chakma। পত্রিকাটি জানায়, ঘটনার জেরে আগের রোববার তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী রূপনা দেশে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং লেখেন, “Speaking in favour of rapists is, in itself, a form of complicity… We are all citizens of Bangladesh… All I want is a peaceful and just Bangladesh — for me and for all of us.”
খেলা নিয়ে তাঁর নিজের কথাগুলোও প্রতিবেদনে ছড়িয়ে আছে। ঢাকা ট্রিবিউনকে 2023 সালে বলেছিলেন, এক সময় প্রতিপক্ষের সঙ্গে একা মুখোমুখি হতে ভয় পেতেন, ম্যাচ খেলতে খেলতে সেটা কেটে গেছে। গোল খেলে নার্ভাস লাগে, আর দল গোল করলে মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় সতীর্থদের সঙ্গে উদ্যাপন করতে, কিন্তু গোলরক্ষক হিসেবে তা পারেন না।
রূপনা চাকমাকে নিয়ে প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে ছয়টি জায়গায় অমিল আছে। প্রতিটি এক বাক্যে, উৎসের নামসহ:
এএফসির 2026 সালের এশিয়ান কাপ নিবন্ধন তালিকা অনুযায়ী রূপনা চাকমার জন্ম 2 জানুয়ারি 2004। তাঁর গ্রাম রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের ভূঁইয়ো আদাম (প্রথম আলো, 2022)। গ্রামের নাম পত্রিকাভেদে ‘ভুঁইয়া আদাম’ বা ‘ভূয়ো আদাম’ বানানেও ছাপা হয়েছে।
মায়ের নাম কালাসোনা চাকমা। মা নিজে প্রথম আলোকে বলেছেন, রূপনা যখন গর্ভে, তখন তাঁর স্বামী মারা যান; চার সন্তানকে তিনি একা বড় করেছেন। বাবার নাম এই লেখার জন্য পড়া কোনো প্রতিবেদনে নেই। রূপনা চার ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট।
সিনিয়র সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে দুবার: 2022 সালে (পাঁচ ম্যাচে এক গোল হজম) ও 2024 সালে (চার ম্যাচে চার গোল হজম), দুবারই কাঠমান্ডুতে। এর মাঝে 2023 সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় অনূর্ধ্ব-20 সাফেও তিনি সেরা গোলরক্ষক হন (ঢাকা ট্রিবিউন)।
না। ঢাকা ট্রিবিউনের 14 ফেব্রুয়ারি 2023-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী বঙ্গমাতা প্রাথমিক বিদ্যালয় টুর্নামেন্টে তিনি মিডফিল্ডার ছিলেন। কোচ শান্তিমনি চাকমা দেশে গোলরক্ষকের সংকট দেখে তাঁকে পজিশন বদলাতে বলেন, তিনি সহজেই রাজি হন। বাফুফে 2016 সালে তাঁকে গোলরক্ষক হিসেবে ক্যাম্পে ডাকে।
নয়া দিগন্তের তথ্যে প্রথমে গ্রামের হাছাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে; ঢাকা ট্রিবিউন জানায় পরে কাউখালীর মগাছড়ির স্কুলে যান। প্রথম আলো অনুযায়ী 2014 সালে কাউখালীর ঘাগড়া উচ্চবিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন; খেলার কারণে দুই বছর বিরতির পর 2022 সালে দশম শ্রেণিতে পড়তেন।
2022 সালের সাফ জয়ের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ঘরটি বানায়, এলজিইডির তত্ত্বাবধানে, আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে বিশেষ ব্যবস্থায়। প্রথম আলোর হিসাবে 30 শতক জমিতে 925 বর্গফুটের ঘর, খরচ 13 লাখ 68 হাজার টাকা। চাবি দেওয়া হয় 16 ফেব্রুয়ারি 2023।
পড়া কোনো উৎসে রাস্তা বা সেতু তৈরির খবর নেই। 2022 সালের সেপ্টেম্বরে জেলা প্রশাসক বাঁশের সাঁকো পাকা করা ও সড়ক তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন (বাংলা ট্রিবিউন)। 2023 সালের ফেব্রুয়ারিতে মা সেতু ও রাস্তার দাবি জানান, আর 31 অক্টোবর 2024 ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, রাস্তার কথা হলেও কিছুই হয়নি।
এএফসির ফেব্রুয়ারি 2026-এর নিবন্ধন তালিকায় তাঁর ক্লাব রাজশাহী স্টার্স এফসি। বাসস জানায়, 2025–26 নারী ফুটবল লিগে চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী স্টার্সের হয়ে খেলে তিনি লিগের সেরা গোলরক্ষক হয়েছেন, পুরস্কার 50 হাজার টাকা। এর আগে খেলেছেন বসুন্ধরা কিংসে, আর 2025 সালে ভুটানের থিম্পু সিটিতে।
এএফসির 2026 সালের এশিয়ান কাপ নিবন্ধন তালিকায় রূপনা চাকমার উচ্চতা 157 সেন্টিমিটার, জার্সি নম্বর 1। দ্য ডেইলি স্টার 2025 সালে লিখেছে, তিনি পাঁচ ফুটের সামান্য বেশি লম্বা। 2026 সালের এশিয়ান কাপে বাটলার চীনের বিপক্ষে লম্বা গোলরক্ষক Mile Akter-কে নামানোর পেছনে উচ্চতার যুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
তিনি এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত দলে ছিলেন (ঢাকা ট্রিবিউন)। কিন্তু চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের যে প্রতিবেদনগুলো পড়া হয়েছে, সবগুলোতে গোলরক্ষক Mile Akter। রূপনা মাঠে নেমেছেন, এমন উল্লেখ সেগুলোতে নেই। বাংলাদেশ তিন ম্যাচেই হেরেছিল।
ব্রাজিলের আলিসন বেকার। রূপনা প্রথম আলো (6 ফেব্রুয়ারি 2023) ও ঢাকা ট্রিবিউন (14 ফেব্রুয়ারি 2023) দুই জায়গাতেই এ কথা বলেছেন, আর ঢাকা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন তিনি তাঁকে অনুসরণ করার চেষ্টা করেন। কাতার বিশ্বকাপে এমিলিয়ানো মার্তিনেজের সেভের ভিডিও তিনি ইউটিউবে কয়েকবার দেখেছেন।
প্রথম কোচ শান্তিমনি চাকমা, যিনি তাঁকে গোলরক্ষক বানান; মগাছড়ির শিক্ষক বীরসেন চাকমা তাঁকে স্কুলে আনতে সাহায্য করেন (ঢাকা ট্রিবিউন)। দ্য ডেইলি স্টার জানায় সুইহলামং মারমা 2011–2016 সালে তাঁকে প্রশিক্ষণ দেন। জাতীয় দলে কোচ ছিলেন গোলাম রব্বানী, পরে পিটার বাটলার।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 8 নভেম্বর 2026