icon

বৈসাবি: বিজু, সাংগ্রাই ও বৈসুর আলাদা আচার-ক্রম

Jumjournal

Published on Oct 6th, 2026 icon 6

প্রতি এপ্রিলে খবরের কাগজে একই ছবি ফিরে আসে — রঙিন পোশাক, নদীতে ভাসানো ফুল, পানি ছিটানো তরুণ-তরুণী। ক্যাপশনে লেখা থাকে “পাহাড়ে বৈসাবি উৎসব”।

কথাটা সুবিধাজনক, কিন্তু ঠিক নয়। বৈসাবি কোনো একক উৎসব নয় — এটি অন্তত তিনটি আলাদা উৎসবের একটি যৌথ নাম, যেগুলোর দিনের নাম আলাদা, আচার-ক্রম আলাদা, এমনকি কেন্দ্রীয় ভাবনাও আলাদা। চাকমাদের বিজুতে যা ঘটে, মারমাদের সাংগ্রাইয়ে তা ঘটে না।

বাংলা ইন্টারনেটে বৈসাবি নিয়ে লেখার অভাব নেই — কিন্তু প্রায় সবই নামের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করে থেমে যায়। কোন সম্প্রদায়ে কোন দিনে ঠিক কী হয়, সেই ক্রমটা একসাথে কোথাও নেই। এই লেখাটি সেই ক্রম সাজানোর চেষ্টা।

সূচিপত্র
  1. বৈসাবি নামটা কোথা থেকে এল
  2. কবে হয়: তিন দিনের হিসাব
  3. চাকমা: বিজুর তিন পর্ব
  4. ত্রিপুরা: বৈসুর তিন দিন
  5. মারমা: সাংগ্রাই ও জলকেলি
  6. চাক ও তঞ্চঙ্গ্যা
  7. নামের মানচিত্র ও কিছু বিরোধ
  8. যা এখনো জানা যায়নি
  9. সচরাচর জিজ্ঞাসা

বৈসাবি নামটা কোথা থেকে এল

নামটি একটি সংক্ষেপ। বাংলা উইকিপিডিয়ার ভাষায়, “বৈসাবী নামকরণ করা হয়েছে এই তিনটি উৎসবের প্রথম অক্ষরগুলো নিয়ে” —

অংশকোথা থেকেকাদের
বৈবৈসুত্রিপুরা
সাসাংগ্রাইমারমা
বিবিজুচাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা

এখানে একটা কথা লক্ষ করার মতো: নামটি তিনটি জনগোষ্ঠীর উৎসব থেকে তৈরি, অথচ পার্বত্য চট্টগ্রামে জনগোষ্ঠীর সংখ্যা এগারোর বেশি। জুমজার্নালের আর্কাইভে “চাক জাতির আদ্যোপান্ত” লেখাটি জানাচ্ছে, চাকরাও এই উৎসব পালন করেন — মারমাদের মতোই “সাংগ্রাইং” নামে। অর্থাৎ যৌথ নামটি সবাইকে ধরে না।

বৈসু উৎসব
বৈসু উৎসব। ছবি: জুমজার্নাল আর্কাইভ

কবে হয়: তিন দিনের হিসাব

সময়টা সব সম্প্রদায়ের জন্য একই। আর্কাইভের চাক-বিষয়ক লেখাটির হিসাব: “বাংলা বৎসরের শেষ দুদিন এবং নববর্ষের প্রথম দিনসহ মোট তিন দিন”। বাংলা উইকিপিডিয়াও একই কথা বলছে — চৈত্র মাসের শেষ দুই দিন ও বৈশাখের প্রথম দিন।

তবে উৎসব তিন দিনেই ফুরোয় না। আর্কাইভের বাক্যটি সৎ: “যদিও এই উৎসব তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় কিন্তু এর রেশ বেশ কয়েকদিন পর্যন্ত চলতে থাকে।”

একই লেখার আরেকটি বাক্য এই পুরো আলোচনার ভিত্তি: “বৈসুক, সাংগ্রাইং ও বিজু মূলত একই সময়ের উৎসব হলেও অঞ্চল ও নৃগোষ্ঠীভেদে প্রত্যেকে নিজস্ব সংস্কৃতির আলোকে এ উৎসব পালন করে।” একই সময়, আলাদা উৎসব।

চাকমা: বিজুর তিন পর্ব

আর্কাইভের “চাকমা জাতি” লেখাটি অনুযায়ী বিজু (বা বিঝু) তিন পর্বে বিভক্ত: ফুলবিজু → মূলবিজু → নুওবঝর (নতুন বছর), যে তৃতীয় দিনটিকে বলা হয় গোজ্যাপোজ্যা দিন।

ফুল বিজু

প্রথম দিনের ক্রমটি বেশ নির্দিষ্ট:

  • ভোরে বা দিবাগত রাতে শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীরা বাগান বা বন থেকে নানা রকম ফুল সংগ্রহ করে।
  • সাতসকালে নদীতে গোসল করতে গিয়ে পাতায় করে নদীতে ফুল ভাসিয়ে দেওয়া হয়।
  • সংগৃহীত ফুল দিয়ে বাড়ির আঙিনা বা দরজা সাজানো হয়; কিয়াঙেও (বৌদ্ধ বিহার) বুদ্ধের উদ্দেশে ফুল দেওয়া হয়।
  • এদিন বা তার আগে গৃহকর্ত্রীর নেতৃত্বে ঘরের কাপড়-চোপড় ও ঘরদোর পরিষ্কার করা হয়।
  • সন্ধ্যায় আঙিনায় বা কিয়াঙে মোমবাতি জ্বালানো হয়।
  • শিশু-কিশোরেরা ঝাঁক বেঁধে বাড়ি বাড়ি গিয়ে গৃহপালিত পশু-পাখিকে খাবার দেয়।

শেষ আচারটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য এবং প্রায় কোনো প্রতিবেদনে আসে না — নতুন বছরের প্রস্তুতিতে ঘরের পশুপাখিও অন্তর্ভুক্ত।

মূল বিজু

আর্কাইভের ভাষায়, “বিজুর তিনদিনের মধ্যে এই মূলবিজুর দিনটিই সবচেয়ে উৎসবমুখর, সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত দিন”। এদিনের কেন্দ্রীয় নিয়মটি আতিথেয়তার: “জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে, পরিচিত-অপরিচিত সবার জন্য ঘরের দরজা উন্মুক্ত থাকে।”

এদিন পরিবেশিত হয় নানা পিঠা, ফলমূল, সেদ্ধ আলু এবং পাজন — ন্যূনতম পাঁচ পদের সবজি দিয়ে তৈরি সেই তরকারি, যা অনেক সময় একশো পদের বেশি সবজি দিয়েও রান্না হয়। পাজন ও পাহাড়ি রান্নার পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আছে পাহাড়ি খাবার নিয়ে আমাদের লেখায়।

বিজুর কাছাকাছি আরেকটি দিনের কথাও আর্কাইভে আছে — হালপালনি, যেদিন হালের বলদকে চাষ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়, গৃহস্থরা জমিতে যান না, আর “বিজুর মতো সকলের জন্য প্রতি বাড়িতে মদ, পাজন ও নানা খাবার পরিবেশন করা হয়”।

ত্রিপুরা: বৈসুর তিন দিন

“ত্রিপুরা জাতির আদ্যোপান্ত” অনুযায়ী ত্রিপুরাদের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসু, এবং এর তিনটি দিনের নাম: ১. হারি বৈসু · ২. বৈসুমা · ৩. বিসিকাতাল।

হারি বৈসু

আর্কাইভের বর্ণনায় এই দিনটি “মূলত প্রস্তুতি পর্ব”:

  • ত্রিপুরা নারীরা বিন্নি ধানের চাল থেকে গুঁড়ো চাল তৈরি করেন পিঠা বানানোর জন্য — “হারি বৈসু’র দিন থেকে ঘরে ঘরে পিঠা বানানোর ধুম পড়ে যায়”।
  • নারী-পুরুষ মিলে সকালে জঙ্গলে গিয়ে কলা পাতা ও লাইরু পাতা সংগ্রহ করেন — এই পাতা দিয়েই নানা রকম পিঠা তৈরি হয়।
  • কাপড়-চোপড় পরিষ্কার করা হয়।
  • সব বয়সের নারী-পুরুষ খুব ভোরে উঠে ফুল সংগ্রহ করে নদীতে গিয়ে স্নান করেন এবং নদীতে ফুল উৎসর্গ করেন।

ফুল সংগ্রহ ও নদীতে ফুল দেওয়ার আচারটি চাকমাদের ফুল বিজুর সঙ্গে মিলে যায় — এটিই সম্ভবত এই তিন উৎসবের সবচেয়ে স্পষ্ট সাধারণ সূত্র।

বৈসুর সঙ্গে যুক্ত গরিয়া পূজা নিয়েও আর্কাইভে নির্দিষ্ট তথ্য আছে। পূজাটি প্রতি বছর করার বিধান নেই; মানত না থাকলে আয়োজনও হয় না। আয়োজনের জন্য একটি দল গঠিত হয় — আয়োজক পরিবারের একজন সদস্য, একজন সর্দার, এবং দুই ধরনের পুরোহিত: অচাই (যিনি মন্ত্র পড়েন) ও তাছাই (যিনি প্রাণী বলি দেন)। এই ভূমিকা-বিভাজনটি অন্য কোথাও সহজে পাওয়া যায় না।

মারমা: সাংগ্রাই ও জলকেলি

“মারমা জাতির আদ্যোপান্ত” অনুযায়ী সাংগ্রাইং মারমা সমাজের অন্যতম প্রধান সামাজিক-ধর্মীয় উৎসব — এবং এই “ধর্মীয়” শব্দটাই বিজু বা বৈসুর থেকে পার্থক্যটা তৈরি করে।

প্রথম দিনের কর্মসূচি আর্কাইভে ছয়টি ধাপে দেওয়া আছে:

  1. তরুণ-তরুণীরা মিলে বৌদ্ধ মন্দির পরিষ্কার করেন — “এই কাজটিকে একটি পবিত্র কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়”।
  2. সবাই মন্দিরে গিয়ে পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ করেন।
  3. ভিক্ষুর কাছ থেকে ধর্মীয় দেশনা শোনেন।
  4. বুদ্ধমূর্তিকে নতুন চীবর দান করেন।
  5. মন্দিরে অর্থ দান ও প্রদীপ জ্বালানো।
  6. ভিক্ষুদের ছোয়াইং (খাবার) দান।

এরপর আসে “সাংগ্রাই পানিবর্ষণ” — এবং এখানেই একটি জিনিস স্পষ্ট হয় যা জনপ্রিয় বর্ণনায় প্রায়ই হারিয়ে যায়। আর্কাইভ অনুযায়ী এদিন মন্দিরের বুদ্ধমূর্তিগুলো শোভাযাত্রা সহকারে নদীর তীরে নিয়ে গিয়ে স্নান করানো হয়।

অর্থাৎ পানি এখানে প্রথমত স্নান করানোর আচার, খেলা নয়। জলকেলি সেই আচারেরই একটি সামাজিক সম্প্রসারণ।

জলকেলির সমসাময়িক চেহারা কেমন, তার একটি নির্দিষ্ট বিবরণ আছে বাংলা ট্রিবিউনের ১৫ এপ্রিল ২০২২-এর প্রতিবেদনে: বান্দরবানে সাঙ্গু নদীর তীরে জলকেলির উদ্বোধন হয়, তারপর “মারমা তরুণ-তরুণীরা একে-অপরকে পানি ছিটিয়ে খেলা শুরু করেন”, পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলে। প্রতিবেদনটি জলকেলিকে বলেছে “তিন দিনব্যাপী আয়োজিত সাংগ্রাই উৎসবের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ”।

মারমাদের দিনগুলোর নাম নিয়ে বাংলা উইকিপিডিয়ায় একটি তালিকা আছে — আক্যা (প্রথম দিন), বাক্ (প্রধান দিন) ও আপ্যাইং (বিদায়)। আর্কাইভের মারমা-বিষয়ক লেখাটিতে দিনগুলোর এই নাম নেই, তাই দুটি উৎসকে মিলিয়ে দেখা যায়নি। [যাচাই প্রয়োজন]

চাক ও তঞ্চঙ্গ্যা

বৈসাবি নামটিতে যাঁদের অক্ষর নেই, তাঁরাও উৎসবটি পালন করেন।

চাক: আর্কাইভ অনুযায়ী চাকদের অন্যতম সামাজিক উৎসব “সাংগ্রাইং বা নববর্ষ উৎসব ও নবান্ন উৎসব”। নামটি মারমাদের মতোই, এবং লেখাটি বলছে সাংগ্রাইং চাকদের “ধর্মীয়, সামাজিক” উৎসব। চাকদের নিজস্ব আচার-ক্রমের বিস্তারিত অবশ্য পাওয়া যায়নি।

তঞ্চঙ্গ্যা: তঞ্চঙ্গ্যারা উৎসবটিকে বলেন বিষু, এবং জুমজার্নালের তঞ্চঙ্গ্যা জাতির আদ্যোপান্ত লেখাটিতে তাঁদের আচারের বেশ নির্দিষ্ট বিবরণ আছে:

  • বনজ ফুল ও লতাপাতা দিয়ে ঘরদোর সাজানো হয়।
  • সকালে শিশু-কিশোর ও যুবক-যুবতীরা নদীতে ফুল ভাসিয়ে দেয় “মা গঙ্গার উদ্দেশ্যে” — বিশ্বাস, এতে সারা বছর আশীর্বাদ মেলে।
  • এই দিনে বয়স্কদের স্নান করানো হয় — “এই বিশ্বাসে যে, বিগত বছরের সব গ্লানি মুছে যাবে এবং নতুন বছরে মঙ্গল বয়ে আনবে”।
  • মূল বিষুর দিন সব ঘরের দুয়ার সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে; অতিথিদের পিঠা ও ফলমূল দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।
  • প্রতি পরিবারে বিনি চালের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি হয় মু-পিঠা।

এই তালিকার তৃতীয় আচারটি — বয়স্কদের স্নান করানো — বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ চাকমা বিজুর বর্ণনায় এটি নেই, অথচ এটিই সম্ভবত মারমাদের বুদ্ধমূর্তি-স্নান ও জলকেলির সঙ্গে ভাবগত দিক থেকে সবচেয়ে কাছের আচার: পানি দিয়ে পুরনো বছরের গ্লানি ধুয়ে ফেলা।

জুমজার্নালের মিডিয়া সংগ্রহে ২০১১ সালের একটি সাংস্কৃতিক উৎসবে আঁকা শিশুদের ছবিতেও “ফুল বিজুর দিনে গুরুজনদের স্নান করানোর দৃশ্য” ধরা আছে — যা ইঙ্গিত দেয় আচারটি চাকমাদের মধ্যেও প্রচলিত। তবে ছবির ক্যাপশন কোনো আচারের প্রমাণ নয়, ইঙ্গিত মাত্র। [যাচাই প্রয়োজন]

নামের মানচিত্র ও কিছু বিরোধ

জনগোষ্ঠী উৎসবের নাম দিনগুলোর নাম
চাকমাবিজু / বিঝুফুলবিজু · মূলবিজু · নুওবঝর (গোজ্যাপোজ্যা)
ত্রিপুরাবৈসু বা বৈসুকহারি বৈসু · বৈসুমা · বিসিকাতাল
মারমাসাংগ্রাই / সাংগ্রাইংআক্যা · বাক্ · আপ্যাইং (উৎস: উইকিপিডিয়া)
চাকসাংগ্রাইংপাওয়া যায়নি
তঞ্চঙ্গ্যাবিষুমূল বিষু — বাকি দিনের নাম পাওয়া যায়নি

একটি স্পষ্ট বিরোধ: ত্রিপুরাদের উৎসবের নাম নিয়ে আমাদের নিজের আর্কাইভেই দুই রকম। “ত্রিপুরা জাতির আদ্যোপান্ত” লেখাটিতে বলা হয়েছে “বৈসু”, আর “চাক জাতির আদ্যোপান্ত” লেখাটিতে “বৈসুক”। বাংলা উইকিপিডিয়ায় “বৈসু”। কোনটি ত্রিপুরাদের নিজস্ব ব্যবহার, তা নিষ্পত্তি করা যায়নি — আর এটি একটি উৎসবের নাম, তাই অনুমান করে একটি বেছে নেওয়া হয়নি। [যাচাই প্রয়োজন]

যা এখনো জানা যায়নি

  • চাকমাদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনের পূর্ণ ক্রম — মূল বিজুর আতিথেয়তা ও গোজ্যাপোজ্যা দিনের নাম জানা গেছে, কিন্তু ঐ দিনগুলোতে ধাপে ধাপে কী হয় তা ফুল বিজুর মতো বিস্তারিত পাওয়া যায়নি।
  • বৈসুমা ও বিসিকাতাল দিনের আচার — নাম আছে, বিবরণ নেই।
  • মারমাদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন — উইকিপিডিয়ায় নাম আছে (বাক্, আপ্যাইং), কিন্তু ঐ দিনগুলোর আচার-ক্রম কোনো উৎসে পাইনি।
  • জলকেলির মারমা নাম — সার্চ ফলাফলে একটি নাম ভেসে এলেও যে প্রতিবেদনটি পড়া গেছে তাতে সেটি ছিল না। তাই নামটি এখানে লেখা হয়নি।
  • চাকদের নিজস্ব আচার-ক্রম — উৎসব পালনের কথা জানা গেছে, ধাপগুলো জানা যায়নি। তঞ্চঙ্গ্যাদের কয়েকটি আচার পাওয়া গেছে, কিন্তু তিন দিনের নাম নয়।
  • বয়স্কদের স্নান করানোর আচারটি কোন কোন জনগোষ্ঠীতে প্রচলিত — তঞ্চঙ্গ্যাদের ক্ষেত্রে নথিভুক্ত, চাকমাদের ক্ষেত্রে কেবল একটি ছবির ক্যাপশনে ইঙ্গিত।
  • “বৈসাবি” যৌথ নামটি কবে চালু হলো — কোনো উৎসেই সাল বা প্রেক্ষাপট পাওয়া যায়নি। নামটি সাম্প্রতিক, নাকি পুরনো — অজানা।
  • মাঠকর্ম — topics.md এপ্রিলে একাধিক স্থানে মাঠকর্ম ও প্রবীণদের ভাষ্য চেয়েছিল। এই লেখাটি সম্পূর্ণ নথিভিত্তিক; আচার-ক্রমের যে ফাঁকগুলো রয়ে গেল, সেগুলো মাঠ-পর্যবেক্ষণ ছাড়া ভরবে না।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

বৈসাবি কি একটি উৎসব?
না। এটি তিনটি আলাদা উৎসবের যৌথ নাম — ত্রিপুরাদের বৈসু, মারমাদের সাংগ্রাই ও চাকমা-তঞ্চঙ্গ্যাদের বিজু। নামটি এই তিনটির প্রথম অক্ষর নিয়ে তৈরি। সময় এক হলেও আচার-ক্রম আলাদা।

বৈসাবি কখন হয়?
বাংলা বছরের শেষ দুই দিন (চৈত্র) এবং নববর্ষের প্রথম দিন (বৈশাখ) — মোট তিন দিন। তবে উৎসবের রেশ আরও কয়েক দিন চলে।

ফুল বিজুতে কী হয়?
ভোরে ফুল সংগ্রহ, নদীতে গোসল করতে গিয়ে পাতায় করে ফুল ভাসানো, ফুল দিয়ে ঘরের আঙিনা ও দরজা সাজানো, কিয়াঙে বুদ্ধের উদ্দেশে ফুল, ঘরদোর পরিষ্কার, সন্ধ্যায় মোমবাতি জ্বালানো, আর শিশুদের গৃহপালিত পশু-পাখিকে খাওয়ানো।

সাংগ্রাইয়ে পানি ছিটানো হয় কেন?
পানির ব্যবহার শুরু হয় ধর্মীয় আচার হিসেবে — এদিন মন্দিরের বুদ্ধমূর্তিগুলো শোভাযাত্রা করে নদীর তীরে নিয়ে স্নান করানো হয়। জলকেলি সেই আচারেরই সামাজিক সম্প্রসারণ।

ত্রিপুরাদের বৈসুর দিনগুলোর নাম কী?
হারি বৈসু, বৈসুমা ও বিসিকাতাল। প্রথম দিনটি মূলত প্রস্তুতির — পিঠার জন্য বিন্নি ধানের গুঁড়ো চাল তৈরি, কলা ও লাইরু পাতা সংগ্রহ, এবং ভোরে নদীতে ফুল উৎসর্গ।

তথ্যসূত্র

  1. প্রাথমিক উৎস — “চাকমা জাতি”, জুমজার্নাল আর্কাইভ — বিজুর তিন পর্ব, ফুল বিজু ও মূল বিজুর আচার, হালপালনি, পাজন। লিংক
  2. প্রাথমিক উৎস — “ত্রিপুরা জাতির আদ্যোপান্ত”, জুমজার্নাল আর্কাইভ — বৈসুর তিন দিন, হারি বৈসুর আচার, গরিয়া পূজা ও অচাই-তাছাই ভূমিকা। লিংক
  3. প্রাথমিক উৎস — “মারমা জাতির আদ্যোপান্ত”, জুমজার্নাল আর্কাইভ — সাংগ্রাইংয়ের প্রথম দিনের ছয় ধাপ, বুদ্ধমূর্তি স্নান। লিংক
  4. প্রাথমিক উৎস — “তঞ্চঙ্গ্যা জাতির আদ্যোপান্ত”, জুমজার্নাল আর্কাইভ — বিষুর আচার, মা গঙ্গার উদ্দেশে ফুল, বয়স্কদের স্নান, মু-পিঠা। লিংক
  5. প্রাথমিক উৎস — “চাক জাতির আদ্যোপান্ত”, জুমজার্নাল আর্কাইভ — নামের মানচিত্র ও তিন দিনের হিসাব। লিংক
  6. “বৈসাবি”, বাংলা উইকিপিডিয়া — নামের গঠন, মারমাদের দিনগুলোর নাম। লিংক
  7. বান্দরবান প্রতিনিধি, “জলকেলিতে শেষ হলো মারমাদের সাংগ্রাই উৎসব”, বাংলা ট্রিবিউন, ১৫ এপ্রিল ২০২২। লিংক

সর্বশেষ হালনাগাদ: 8 আগস্ট 2026

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।
[DISPLAY_ULTIMATE_SOCIAL_ICONS]

আরও কিছু লেখা