icon

একটি সাজানো গল্প বনাম পার্বত্য চট্টগ্রাম

Jumjournal

Last updated Oct 6th, 2026 icon 1

পাহাড়ের অপূর্ব শোভা, কবি সাহিত্যিকদের নিয়ে যার গভীরতার অতল তলে। পার্বত্য অঞ্চলের আবহাওয়া আর প্রকৃতিক সৌন্দর্য্য সারা জীবন মুগ্ধ করে। তার পাশাপাশি এসব অঞ্চলের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট বড় অনেক নদী-নালা পার্বত্য অঞ্চলের সচেতন মহল এবং দেশ বিদেশ থেকে ভ্রমণরত আগন্তুকদের ভাবুকতার রেশ প্রসারিত করে৷ পার্বত্য অঞ্চল আমার প্রিয় জন্মভূমি। আছি এবং থাকবো। বাস্তবিকভাবে আমি ভাবুক হতে চাই না৷ কারণ ব্যস্ততা বেশী। কিন্তু জন্মের ১৮ বছর আমাকে পাহাড়ের অপরূপ শোভা মায়াজালে সুদৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ করে৷

যে বন্ধন পার্বত্য অঞ্চলের জন্ম মৃত্যুর সাথে কথা বলে। ফলে, ভাবুক না হয়ে পারিনা আমি। সাধারণ পাহাড়ী পাহাড়কে ভালবাসা আমার অধিকার ও দায়িত্ব৷ পাহাড়ী লোকদের যে দীর্ঘ দুই যুগের অধিক রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম দু’চোখে সবকিছু না দেখলেও ইতিহাস কোনদিন মিথ্যা হওয়ার নয়৷ তাই, পার্বত্য অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য বহমান নদ-নদীর নিত্য নতুন ব্যস্ততা এবং ঢেউয়ের উঠাল পাতাল এর পাশাপাশি পাহাড়ীদের নির্যাতিত, নিপীড়িত, শোষিত জনপদ দৃশ্যত হলে কান্নায় বুক ফেটে যায়। আমাকে করে তোলে ভাবুক প্রকৃতির৷

করে তোলে সংগ্রামমনা৷ ইচ্ছে করে জাতীয় কবি নজরুলের মত বিদ্রোহী কবিতা লিখতে৷ আমি মানুষ, মনুষ্য জাতিকে আমি শ্রদ্ধা করি এবং ভালবাসি। পার্বত্য অঞ্চল বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত সাধারণ সরলমনা পাহাড়ীদের এবং আগন্তুকদের অন্যতম স্বপ্নপুরী। বাংলাদেশের কত গর্ব সমস্ত বাংলাদেশের লোক সংখ্যা বার কোটি হয়ত বা তার ঊর্ধ্বে। এর মধ্যে হয়ত আমিও একজন। মানুষ হিসেবে মানুষকে ভালবাসা আমি অন্যতম কর্তব্য হিসেবে মনে করি৷ আমার দেশ বাংলাদেশ৷ আমি আমার দেশের অধিবাসীদের পাশবিকতায় তেলিয়ে দিতে চাইনা।

সত্যি বলিতেছি, আমি আমার দেশের মানুষদের খুব ভালবাসি। আর আমি আমার ভালবাসা মানুষ হিসেবে মানুষের উপরই অর্পন করতে চাই; কিন্তু পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ীদের উপর যে শোষকগোষ্ঠীরা অমানবিক অত্যাচার তা আমাকে নিয়মিত ব্যথিত করে৷ তাহলে মানুষ হয়ে মানুষের উপর কেন এত অত্যাচার? কেন এত উপেক্ষা অবহেলা? স্বাধীন দেশের মানুষ হিসেবে আমাদের মৌলিক অধিকারের কথা বলার স্বাধীনতা আশা করি দেশের সংবিধানে তা লিপিবদ্ধ থাকবে। তা ছাড়া আব্রাহাম লিংকনের গণতন্ত্রের সংজ্ঞানুযায়ী “Democracy is the government of the people, by the people and form the people” তাই যদি সত্যি হয়, তাহলে দু’বেলা দু’মুঠো খাওয়ার জন্যই কেন আমাদের এই উপেক্ষিত জীবনধারণ করতে হচ্ছে?

আমাদের জীবনাচরণ, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং ঐহিত্যমণ্ডিত ইতিহাস কবি, সাহিত্যিক ও লেখকদের লেখার গতি স্লট করে দেয় এবং গবেষকদের মস্তিষ্ক শুষ্ক  করে দেয়৷ আন্তর্জতিকভাবে আমাদের জীবন গড়ার প্রেরণা দেয়া হয়। কিন্তু একই দেশের অধিবাসী হয়ে কেন আমরা পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ীরা স্বাগতিক ভালবাসা থেকে বঞ্চিত? আমরা কি দেশীয় ভালবাসা এবং একে অপরের শ্রদ্ধা পাওয়ার অযোগ্য?

নদী আর পাহাড়ি জীবন

নদীর বালুচরের পাশ দিয়ে সারি বেঁধে হেঁটে যাচ্ছেন একদল তরুণী
নদীর বালুচরের পাশ দিয়ে সারি বেঁধে হেঁটে যাচ্ছেন একদল তরুণী

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাশ দিয়ে বহমান কর্ণফুলী, আজীবন পাহাড়ীদের সুখ-দুঃখের প্রতিবেশী শঙ্ক মাতামুহুরী, চেঙ্গী, মেইনি, কাচলং পাহাড়ী জীবন যাত্রার অন্যতম বাহন। এর প্রবাহ যতদিন থাকবে

ততদিন পাহাড়ীদের জীবন থাকবে এই সব মায়াবী নদীর পাশে আবদ্ধ করে। যেহেতু পার্বত্যের মানুষ, পাহাড়ী নদী আবহাওয়া ও জল, বায়ু এবং প্রাকৃতি অপূর্ব লীলা আমাকে ভাবিয়ে তোলে৷ কিছু লেখার প্রেরণা যোগায় তাই আমি ভাবুক হয়ে পড়ি। কচি বয়সের ছেলে অতীতকে স্মরণ করতে পারলেও ১৮ বছর আগে মায়াবী পাহাড়ী অঞ্চল ছিল আমার অদৃশ্যত৷ বর্তমান পাহাড় কি অতীতের চেয়ে সুন্দর হয়েছে? মনে হয় না। কারণ ইতিহাস যা বলে ১৮৬৯ সালের কথা, ক্যাপ্টেন লুইন পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ী পরিবেশ এবং পাহাড়ীদের জীবন-জীবিকা গবেষণা করতে গিয়ে বলেছিলেন এ অঞ্চলের যে পাহাড়ীরা জীবিকা নির্বাহ করে এবং তাদের যে জীবিকা নির্বাহের প্রণালী সত্যি আনন্দদায়ক।

পাহাড়ীরা খুব নির্মল। উপজাতীয় লেখক সঞ্চিবদ্রং এর মতানুসারে ‘শোষণ’ শব্দের প্রতিশব্দ জানা নেই। দ্রংএর এ কথা ক্যাপ্টেন লুইনের পাহাড়ী গবেষণাকে সভ্যতা দেয়। তার থেকে তুলনা করলে অতীতের পাহাড়ী জীবন আর বর্তমান পাহাড়ী জীবন কোন অংশই মিল নেই৷ তখন শান্তির নীড় পাহাড়ীদের ঐহিত্যবাহী জুম চাষ পদ্ধতিকে সোনা ফলার ইঙ্গিত দিতো৷ কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয়, বর্তমান সভ্যতার আগ্রাসনে এবং বেজাতীয় শাসকগোষ্ঠীর শোষণে তা আজ অবলুপ্তির পথে। এখানে আমি কবি শামসুর রাহামানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি যে, পাহাড় এবং পাহাড়ী মানুষদের নিয়ে তিনি ভাবেন এবং লিখেন।

তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য এমন মানুষের প্রতীক্ষায় যারা সত্যিই উন্নত চরিত্রের অধিকারী উন্নত যাদের মূল্যবোধ যারা নারীকে সম্মান করতে জানে৷ যারা মানুষকে বিশ্বাস করতে জানে, যারা প্রতারণার শটতা জানেনা।

১৯৯৭-র শান্তিচুক্তি ও প্রত্যাশা

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ী জাতিসত্ত্বা সমূহের যন্ত্রণাদায়ক ইতিহাস আমাকে বিমোহিত করে। সমস্ত জুমিয়া জাতি আজ অসহায় পথিকের মত হয়ে পড়েছে। এ অঞ্চলে শান্তির পায়রা উড়বে অধিবাসীদের হিংসা, সংঘাত, হানাহানি আর হবেনা, আর দেখতে হবে না লোগাং, লংগদু, নানিয়াচরের মত তাণ্ডবলীলা কোন পাহাড়ী মাকে আর হারাতে হবেনা৷ কোন মা ছেলে হারানোর শোকে আর অশ্রুকাতর হবেনা, কোন মা বোনের ইজ্জত আর যাবেনা, পুলিশ, বিডিআর আর সেনার গুলিতে কোন পাহাড়ীকে আর মরতে হবেনা এই প্রত্যাশায় বর্তমান সরকারের দক্ষতা এবং জনসংহতি সমিতির একান্তিক প্রচেষ্টায় ২রা ডিসেম্বর ১৯৯৭ইং সনে হয়ে গেলো শর্ত সাপেক্ষে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি।

সরকারের দক্ষতাস্বরূপ পুরস্কৃত হলেন প্রধানমন্ত্রী৷ সত্যিই বলতেছি ২রা ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তি চুক্তি যখন স্বাক্ষরিত হচ্ছে অতি আনন্দে আমি কেঁদেছিলাম। প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলাম মা তুমি এত ভাল। আশা ছিল অনেক কিছু৷ পার্বত্যের মাটিতে উর্বরতা বৃদ্ধি পাবে, ফলন ঘটবে। পাহাড়ীদের আর কোন বাঁধা থাকবে না। মুক্তচিন্তে কাজ করবে। খেতে পাবে দু’বেলা দু’মুঠো ভাত। পাহাড়ীরা দীর্ঘ ২৫ বছর পর আবার ফিরে পাবে নিজের ভিটে-মাটি। বাগান বাগিচা ভরপুর হবে ফুলে ফলে। গ্রামের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে, পাহাড়ী রমণীরা হাড় কাঁপানো শীতে কলসি নিয়ে পানি আনতে যাবে।

শীত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মনের আনন্দে সকালে বিকালে আগুনের স্পর্শ নিতে পারবে। পাশের গ্রামে নববধুকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি চলবে। পাহাড়ী যুবক যুবতী আনন্দে খেলবে পড়বে। গভীর ঢেঁকির শব্দ সমস্ত পার্বত্য চট্টগ্রামকে শান্তির নিশানায় ভরে দেবে। পাহাড়ীদের আর রাজপথে যেতে হবেনা। মুখ থেকে আর উচ্চারিত হবেনা “অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন কর”। দালালী চাঁদাবাজী আর চলবেনা, কিন্তু এ চুক্তি নিয়ে বর্তমান সরকারের যে নীল নকশা পাহাড়ীদেরকে হতাশা ব্যস্ততায় জর্জড়িত করে তুলেছে।

দু’বছর পরেও যা বদলায়নি

আজ শান্তিচুক্তি দু’বছরের কাছাকাছি এখনও পাহাড়ীদের রাজপথে যেতে হয়। বলতে হয়, অবিলম্বে পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে। এখনও মরতে হচ্ছে সহজ সরল জুম্মদের পুলিশের গুলিতে। জুম্মদের উপর চলছে অমানবিক সেনা নির্যাতন । চুক্তি বাস্তবায়নের তালবাহানা জুম্মদের সংগ্রামী করে তুলছে। নাকোচ এ সবের বিচার বিশ্লেষণ করলে সত্যিই আফসোস লাগে, কেন ২রা ডিসেম্বর শান্তি চুক্তির সময় টেলিভিশনের পর্দায় বসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে বলেছিলাম “মা তুমি এত ভাল” বলেছিলাম যা হোক এর বিচার আমি বিধাতার উপর অর্পন করছি ‘শান্তির তাড়নায় অশান্তির প্রবেশ বিধাতা এর সুষ্ঠ বিচার করবেন’৷

অনুশোষণার জন্য যদি আমার অন্যায় হয়, তাহলে বিধাতা আমাকে ক্ষমা করবে না আর ইউনেস্কো শান্তি পুরস্কার এবং শান্তির পরিবর্তে নানান তাল বাহানায় জুম্মদেরকে নানা ষড়যন্ত্র লিপ্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে বিধাতা কোনদিন ক্ষমা করবেন না। আমি ভাবুক। মানব জাতিকে নিয়ে ভাবি এবং মানুষকে ভালবাসি সুতরাং এতে যদি আমার সামান্যতম পূণ্যও হয় তাহলে আমি পরকালে স্বর্গের সোপানে অবশ্যই পা রাখিতে পারিব। কিন্তু আমার প্রধানমন্ত্রী শান্তিপুস্কার পেলেও তা অশান্তির বোঝা স্বরুপ পরকালে বিধাতা তাকে স্বর্গের সোপানে পা রাখিতে দেবেন না।

যেহেতু আমি শান্তির পূজারী মানব জাতির শান্তির জয়ের ধ্বনি উচ্চারণ করায় আমার কর্তব্য৷ এতদ সঙ্গে ন্যায় অন্যায়ের গান লোকের ভাল লাগলেও গাইতে হবে, না লাগিলেও গাইতে হবে। বিশ্ব প্রসঙ্গে আমি যাব না৷ যেমন কাশ্মীর, বসনিয়া ইত্যাদি কারণ, জাতিসংঘের বিধি মোতাবেক একটি দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ শাস্তিযোগ্য। তবে ভারত আর পাকিস্তানের দু’দেশের মধ্যে যে বিরোধাত্মকতা এবং তাদের কোন একটি সমাঝোতা নেই, তা আমি ঘৃণা করি। আমি ধর্ম নিয়ে কোনরূপ তর্ক করতে চাইনা। সব ধর্মই আমার কাছে সমভাবে গ্রহণযোগ্য।

জাতি, বর্ণ, প্রথা শ্রেণী বিভেদকে আমি গ্রহণ করি না সমস্ত মনুষ্য জাতিকে মানুষ হিসেবেই চিনি। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, মানুষে-মানুষে, ধর্মে ধর্মে জাতিতে-জাতিতে, ভিন্নতা কেন দেখা যায়? তার প্রধান কারণ হিংসা বিদ্বেষ। তাই থেকে কি আমি বলতে পারিনা পার্বত্য চুক্তি বিজাতীয় শোষকগোষ্ঠীর লোভনীয় প্রতি হিংসার বাহন? তা না হলে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন কোথায়? চুক্তির আগে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের নেতাকর্মীদের জনসংহতি সমিতির চেয়ারম্যান বলেছিলেন “চুক্তি করা বড় কথা নয়, চুক্তি বাস্তবায়নই প্রধান”।

আমি চাই আমাদের পাহাড়ীদের জীবনে সব সময় বয়ে যাক্ শান্তির অমিল স্পর্শ। পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিণত হবে শান্তির মিলনকেন্দ্রে। এখানে জাতি জাতির কোন ভেদাভেদ থাকবেনা। থাকবেনা স্বহিংসতা কিংবা কোন হত্যাকান্ড৷ আমার মনে হয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নও তাই যে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সার্থক হবে। পার্বত্যের পাহাড় থেকে সোনার ছেলে উৎপন্ন হবে। সোনার ছেলেরা পার্বত্য চট্টগ্রামকে পাহাড়ী ফুলের সমারোহে সাজাবে। শান্তির পায়রা উড়াবে। অসহায় সংখ্যালঘিষ্ট জাতি সমূহের উপর আর নির্যাতন নিপীড়ন হবে না।

সুখের ফসলা বৃষ্টি ত্যাগ করবে ধরণী, ভেসে নিবে সব জাল৷ এসবই শান্তিচুক্তি এবং এর যথাযথ বাস্তবায়নের অন্যতম দিক ।এখন কথা হলো এ শান্তিচুক্তি এবং এর যথাযথ বাস্তবায়ন সত্যিকারের পাহাড়ীদের বেলায় কেমন হবে। শান্তিচুক্তি কি আদৌ সত্যিকার পাহাড়ীদের? মানুষকে আমি ভালবাসি এবং প্রাণীর মধ্যে সর্ব প্রথম স্থান দিই। অপরদিকে সবচেয়ে ঘৃণার পাত্র? কারণ আমরা মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব সব বুঝি কিন্তু ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে কেউ যেতে পারেনা। নিজের স্বার্থ পূরণে আমরা দু’টাকার বিনিময়ে হলেও নিজেকে উৎসর্গ করি।

চরিত্র হারানোর প্রবাদ

আগেকার দিনের একটি প্রবাদ যা বর্তমানেও প্রচলন কিন্তু সত্যকার আগ্রামনে এটি Opposite দিকে লাভ করতেছে যে, “Money lost nothing tost, Health lost something lost but character lost everything is lost বর্তমানে তা হয়ে দাঁড়িয়েছে “Character lost nothing lost. Health lost over lost but money lost everything is lost” যেহেতু মানুষের সকল স্বার্থ টাকার সুতরাং মানুষ যতই জাতীয় চেনতার আসক্ত হোক স্বার্থের ঊর্ধ্বে যেতে পারেনা । যাক, এটাই মানুষের চরিত্র তবে বর্তমান শান্তিচুক্তিতে যেহেতু কমবেশী জুম্মস্বার্থ নিহিত।

তাই সরকার গরিমসী শুরু করেছে। কিন্তু কেন? তাহলে কি বাংলাদেশ সোনার বাংলায় পরিণত হবেনা? চেতনার মৃত্যু নেই কথাটি সত্য মনে করি কিন্তু বাংলাদেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার চেতনা আমার মনে হয় ডুবে ডুবে জল খাওয়া ছাড়া কিছু নয়। বাংলাদেশে যে কোন সরকার ক্ষমতায় গেলে পাহাড়ীদের উপর অমানবিকতা অসহনশীলতা পরিলক্ষিত হয়। মানুষ হিসেবে পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার আমাদের আছে। আমাদের উপর অমানবিকতা দেখালে আমাদের অবশ্যই ঐসবের প্রতি ক্ষোভ উৎপন্ন হবে । আর আমি মানুষ হিসেবে প্রত্যেকের আবেদন রাখতে চাই ক্ষোভ যাতে বিক্ষোভে পরিণত না হয়।

সংগ্রাম করেই টিকে থাকা

পৃথিবীতে বেঁচে থাকা মানে সংগ্রাম করে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা৷ সুতরাং সংগ্রাম করে বেঁচে থাকার অধিকার আমাদের আছে কিন্তু এই সংগ্রামকে আমি অন্যভাবে দেখতে চাই। আর পার্বত্য চট্টগ্রামকে সত্যিকার পার্বত্য চট্টগ্রাম হিসেবে পেতে চাই। পার্বত্যের মানুষকে পেতে চাই, আমার একান্ত আপনজন হিসেবে । আমি আর ছেলে হারানোর দায়ে শোকাহত মাকে শান্তনা দিতে চাই না; কিংবা মা বোনের কোন ইজ্জত হারানো আমি দেখতে চাইনা৷ ফিরে পেতে চাই আমার ভিটে মাটি, যেখানে আমরা ফলাতে পারবো দু’বেলা দু’মুঠো পেটের খোরাক।

মাকে ‘মা’ বলে ডাকতে পারবো স্বাধীনভাবে। বাবা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন । তাঁকে আর রক্তাক্ত অবস্থায় অসহায় হয়ে অন্যের আশ্রয় নিতে হবেনা৷ কিন্তু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে এসবই তো সাজানো এবং বানোয়াট। বর্তমান বিজ্ঞানের যুগে সব লোকদের বিজ্ঞান ভিত্তিক বলা উচিত । যাতে আইনগত কোন জটিলতা না থাকে। আমাদের সবচেয়ে বড় অপরাধ আমরা সহজ সরল প্রতারণার শঠতা জানিনা। অন্যায়কে ত্যাগ করে সত্যকে বিশ্বাস করতে জানি। যার ফলে আমাদের অবস্থান এখানে৷ আমার পাহাড়ী ডাক এমন হলে কেমন হয়- সাজানো গল্পের পার্বত্য চট্টগ্রামকে আমরা চাইনা।

সাত্যিকার পার্বত্য চট্টগ্রামকেই আমরা পেতে চাই এবং পাওয়ার জন্য একান্ত উদগ্রীব। আমাদের মনে রাখতে হবে একাত্মতার। Because the Moment of Chittagong Hill Tracts is very trutual. এই trutual Moment এ জম্মকে যদি জুম্মরা চিনিতে না পারে অতি ভবিষ্যতে জুম্মর অস্তিত্ত্ব বিনাশ হবে। আমাদের শোষকগোষ্ঠীর ২ টাকাকে প্রাধান্য দেয়া ঠিক হবেনা। কবি নজরুলের সেই বাণী আমাদের স্বরণ করতে হবে-

 

“দুর্গম গিরি

কাষ্ঠায় মরু দুস্তর পারাপার 

লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশিতে,

যাত্রীরা হুশিয়ার।”

 

শেষ কথা

আমি জুম্মদের মাঝে থাকবো এবং থাকতে চাই এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ী ফুলকে যেকোন মূল্যে প্রস্ফুটিত করতে চাই। যে ফুলের গন্ধে ঘ্রাণ নেবে মধু সংগ্রহকারী পোকা৷ সে রকম পার্বত্য চট্টগ্রামকে আমার দরকার যেখানে লেখক এবং ভাবুকরা অসত্যের কোনদিক ভাববেনা, লিখবেনা উপেক্ষিত এবং প্রতারণার শঠতা হবে কল্পনার বইতে।

 

©রা-খা-বা’র বুক জ্বলিযার,

জুম সাহিত্য সংসদ প্রকাশনা, ডিসেম্বর ১৯৯৯

 

লেখক – শরৎ চাকমা (জ্যোতি)

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।
[DISPLAY_ULTIMATE_SOCIAL_ICONS]

আরও কিছু লেখা