উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বিতর্ক — খণ্ড ১ সংখ্যা ৩
তারিখ: বৃহষ্পতিবার, ১৭ জানুয়ারি, ১৯৭৪
বিষয়: আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ
শ্রী লারমা : মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় অনুগ্রহ করে বলবেন কি, চীন কেন জাতিসংঘে বাংলদেশের অন্তর্ভুক্তিকে বাধা সৃষ্টি করছে?
ড. কামাল হোসেন : মাননীয় স্পিকার, এই প্রশ্নের উত্তর চীনের পক্ষেই দেয়া সম্ভব।
শ্রী লারমা : মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় দয়া করে বলবেন কি যে, চীন কি তাহলে বাংলাদেশকে ভালোবাসে না?
(কোন উত্তর শুনা যায় নাই। হর্ষধ্বনি…)
বিষয় : রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাব সম্পর্কে আলোচনা
শ্রী লারমা : মাননীয় স্পিকার সাহেব, আমি রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের উপর আমার আনীত সংশোধনী প্রস্তাবগুলি এভাবে পড়ছি— ধন্যবাদ প্রস্তাবের সঙ্গে নিম্নরূপ কথাগুলি যোগ করা হোক : ১। ‘কিন্তু দুঃখের বিষয়, রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন এক শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা, যেখানে সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার সরকার কর্তৃক নিশ্চিত করা হইতেছে—এই অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি রাষ্ট্রপতির ভাষণে স্থান লাভ করে নাই।’
জনাব ডেপুটি স্পিকার : শ্রী লারমা, আপনার ২নং সংশোধনী প্রস্তাবটি আমি Disallow করেছি। রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের উপর এই রকম সংশোধনী প্রস্তাব আনা যায় না।
শ্রী লারমা : আমার ৩ নং প্রস্তাব হচ্ছে : ৩। ‘কিন্তু দুঃখের বিষয়, বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি জনগণকে ‘যুগ যুগান্তের আদিম সমাজ জীবনে আষ্টে-পৃষ্ঠে বন্ধনদশা’ হইতে মুক্ত করিয়া রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বিকাশ সাধনের জন্য যাবতীয় মানবিক ব্যবস্থা সরকার কখন হইতে কার্যকরী করিবার চিন্তা-ভাবনা করিতেছেন, সেই বিষয়ে রাষ্ট্রপতির ভাষণে স্থান লাভ করে নাই।’ ৪। ‘কিন্তু দুঃখের বিষয়, পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী ভারতীয় সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনীর যৌথ কমান্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে আজো সেই হানাদারদেরকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বাংলাদেশের মাটিতে বিচার করা হয়নি, এই বিচার কবে এবং কখন করা হইবে অথবা আদৌ করা হইবে কিনা সেই কথাটা রাষ্ট্রপতির ভাষণে স্থান লাভ করে নাই।’